6 C
New York
April 10, 2020
Alorkantho24.com
চট্টগ্রাম

আমি অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের শিকার: চসিক মেয়র নাছির

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে‘হতাশ, ক্ষুব্ধ কিংবা নিরাশ নয়’দাবি করে বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, তিনি দলীয় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগেরও সাধারণ সম্পাদক এ কথা বলেন।

তিনি বলেন,‘মেয়র প্রার্থী মনোনয়নের তিন দিন আগে একজন আমাকে ফেসবুকে দেখাল আমি নাকি যুদ্ধাপরাধীর পরিবারের সঙ্গে আঁতাত করেছি। আকরাম খান নামে যাকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদের পরিবারের সদস্য বলা হচ্ছে, তার সাথে আমার অনেক পুরানো পরিচয়। অথচ আমি তাকে চিনি না। আমি অক্সিজেন এলাকায় তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করেছিলাম। এ সময় কারা আমার পেছনে ছিল বা কে বঙ্গবন্ধুর খুনি রশিদ পরিবারের সদস্য তা আমার জানা ছিল না। তাদের সাথে আমার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। এ অপ-রাজনীতি আমাকে কষ্ট দিয়েছে।’

নাছির আরও বলেন,‘মেয়রের পদ বড় না, রাজনীতিটাই বড়। কেউ যদি বলত তিনি মেয়র হতে চান, আমি ছেড়ে দিতাম। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে দলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতভাগ মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার কোনো মানে হয় না। মনে রাখতে হবে, আমরা অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছি। আরেকজন আ জ ম নাছির তৈরি করতে অনেক বছর সময় লাগবে।’ তারপরও আমার কোনো অভিমান, ক্ষোভ, রাগ নেই। আমি রাজনৈতিক কর্মী, মাঠের কর্মী। মাঠ থেকে আজ এ পর্যায়ে এসেছি। অনেকবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী আমাকে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। এরপর মেয়র পদে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন,’ যোগ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর খুনীর স্বজনদের সঙ্গে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, অপ্রপ্রচার ও অপরাজনীতি করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মেয়র নাছির বলেন, মনোনয়ন না পাওয়ায় আমার মধ্যে কোন ক্ষোভ, হতাশা, দুঃখ, বেদনা, আক্ষেপ ও কষ্ট নেই। শুধু বঙ্গবন্ধুর খুনির আত্মীয়ের সঙ্গে আমার ছবি ছড়িয়ে দেওয়ায় কষ্ট পেয়েছি, যা শতভাগ মিথ্যা। বললে মেয়র পদ এমনিতেই ছেড়ে দিতাম, এত মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও অপরাজনীতির কোন দরকার ছিল না।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তোড়জোড় চলাকালে বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় আসে। ওই ছবিতে দেখা যায়, তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর খুনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খানের ভাই মামুনুর রশিদ হেলাল ও চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগ নেতা একরাম খান রয়েছেন। এই ছবি তার বিরোধীরা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে সমালোচনায় মেতে উঠেন।

ছবিটির ব্যাখা দিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘তিনদিন আগে আমাকে একটা ছবি দেখানো হল। যেখানে পাশে একরাম খান নামে একটা ছেলে। সে ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিল। ছাত্রলীগের শাহজাহান-কলিম কমিটির এক নম্বর সহ-সভাপতি ছিল। সে এখন তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার একটি কলেজের অধ্যক্ষ। সেখানে থানা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি।

একরামের সঙ্গে কিভাবে পরিচয় তাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার চরম দুঃসময়ে একজন ব্যাংকারের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয়। যিনি তার সঙ্গে একই কমিটিতে ছিলেন। দুঃসময়ে একদিন রাতে একরামের বাড়িতে গিয়ে একনাগাড়ে প্রায় দেড়-দুই মাস একটা কক্ষে ছিলাম, সূর্যের আলোও দেখিনি। কক্ষটিতে সবসময় তালা মারা থাকত। শুধু ভাত-নাস্তার সময় সেটা দিয়ে যেত। সেভাবেই যোগাযোগ।’

ফেসবুকে ছড়ানো ছবিটি তোলার বিষয়ে সিটি মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রামে তার (একরাম) একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। একদিন আমাকে এসে বলল, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটা আপনি একটু উদ্বোধন করে দেন। আমি জাস্ট ওকে চিনি সে হিসেবেই নগরীর অক্সিজেনের ওখানে গিয়ে একটা কেক কেটে চলে এসেছি। আমার পাশে কে দাঁড়িয়েছে, না দাঁড়িয়েছে আমি দেখিওনি। ছবিতে আরেকটা যেটা বলা হচ্ছে শাহরিয়ার রশীদ খানের ভাই, তাকে আমি চিনিও না, জীবনে কোনোদিন দেখিওনি। সেই লোকের পাশে দাঁড়ানোর ছবি কিভাবে এসেছে, সেটা যারা ছড়িয়েছেন, তারাই বলতে পারবেন। আমি শুধু এতটুকু বলতে পারি তার সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক, যোগাযোগ, দেখা-সাক্ষাৎ নেই।’

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘যেখানে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে আমি সংগ্রাম করেছি, আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করছি, ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, রাজনীতিকে আমি এবাদত হিসেবে নিয়েছি, এখনও পর্যন্ত আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজনীতি করছি, সেই জায়গায় ছোট্ট একটা মেয়র পদের জন্য এতকিছু করা হল। আমার কাছে মেয়র পদটা তো বড় না, রাজনীতিটাই আমার কাছে বড়। কেউ যদি আমার কাছে এসে বলত, ভাই আমার মেয়রের পদ দরকার আছে, তুমি সরে যাও, আমি তো স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতাম।’

তিনি বলেন, ‘গতবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, আমি কি চেয়েছিলাম, আমি কি বলেছিলাম যে আমাকে মনোনয়ন দেন? আমি যথারীতি একটা মনোনয়ন দলের কাছে চেয়েছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন। আমি তো কোনো লবিং করিনি। তাহলে এত মিথ্যাচার, অপপ্রচার, অপরাজনীতির তো প্রয়োজন ছিল না। এগুলো করতে গিয়ে কি হবে? দলই তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আরেকজন আ জ ম নাছির উদ্দীন তৈরি হওয়া তো সাধনার বিষয়। আমরা তো দুঃসময়ের পরীক্ষিত কর্মী। আমাদের তো নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ নেই। সেজন্যই বলছি, মনোনয়ন না পেয়ে কষ্ট যদি পেয়ে থাকি এই জায়গায় কষ্ট পেয়েছি। একশতে একশতভাগ একটা মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার তো কোনো মানে হতে পারে না। আমি পুরোপুরি ষড়যন্ত্রের শিকার।’

মতবিনিময় সভায় সাড়ে চারবছর দায়িত্ব পালনকালে নগরের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্রও তুলে ধরেন তিনি।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। বক্তব্য রাখেন-বিএফইউজে’র সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসীন চৌধুরী, বর্তমান কমিটির সদস্য কাজী আবুল মনসুর ও সিইউজের সাবেক সভাপতি শহীদ উল আলম।

Related posts

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী।

editor

রেজাউল করিম চৌধুরী সহযোদ্ধা আমারা সবাই ঐক্যবদ্ধ – মেয়রi নাছির

editor

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে চট্টগ্রাম শহীদ মিনারে আজ মুক্তিযোদ্ধা দিবস

editor

আগামীকাল চট্টগ্রামে পৌঁছাবে করোনা শনাক্তের কিট

editor

চট্রগ্রাম বাঁশখালীতে অগ্নিকাণ্ডে ৪টি বসতঘর পুড়ে ছাই

editor

চট্টগ্রাম উখিয়ায় আগুনে ৮টি দোকান পুড়ে ছাই

editor

Leave a Comment