17.1 C
New York
May 31, 2020
Alorkantho24.com
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

পৃথিবী থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি দিনটা যেদিন মুছে যাবে.


স্বর্ণালী প্রিয়া ডেক্সঃ২৯ ফেব্রুয়ারি দিনে আর কেউ জন্মগ্রহণ করবে না। হবে না কারও মৃত্যু বা দুর্ঘটনাও। থাকবে না কোন উৎসবও। বড় প্রশ্ন হতে পারে, কেন? কারণ পৃথিবীতে ২৯ ফেব্রুয়ারি দিনটাই তো থাকছে না। হারিয়ে যাবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন,পৃথিবীর নিজের অক্ষের চার দিকে ঘূর্ণনের গতি উত্তরোত্তর কমে আসছে। চাঁদ আমাদের ছেড়ে একটু একটু করে দূরে চলে যাচ্ছে। তার ফলে, আমাদের উপর চাঁদের টান (‘টাইডাল ফ্রিকশন’)কমে যাচ্ছে। তাই একটু একটু করে বেড়ে যাচ্ছে দিনের আয়ু। প্রতি শতাব্দীতে ১৪ মিলিসেকেন্ড করে।অনিবার্য পরিণতি, পৃথিবী থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি দিনটির বিলুপ্তি। আমাদের উপর চাঁদের ‘মায়া’ কমে যাওয়ার ফলেই পার্থিব বছর থেকে আস্ত একটা ২৪ ঘণ্টার দিন হারিয়ে যাবে চিরতরে।

নাসার গর্ডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গবেষণা জানাচ্ছে, ৪০ লক্ষ বছর পরে ২৯ ফেব্রুয়ারি দিনটা আর থাকবে না পৃথিবীতে। থাকবে না চার বছর পর পর তার ফিরে আসার কোনও সম্ভাবনা।

সিজার বুঝলেন, তড়িঘড়ি বানাতে হবে নতুন ক্যালেন্ডার। আর সেটা কার্যকর হতে হবে পরের বছর (৪৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) থেকেই। সেই ক্যালেন্ডারের নামকরণ করা হল সম্রাট জুলিয়াস সিজারের নামেই। ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’।

কলকাতার ‘পজিশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারে’র (পিএসি) এক কর্মকর্তা জানান, জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে বছরের হিসাবটা করা হল অন্যভাবে। দেখা গেল, একটা পার্থিব বছর শেষ হতে সময় লাগে ৩৬৫ দিনের কিছু বেশি। সঠিকভাবে বলা হলে, ৩৬৫.২৪২১৯ গড় সৌর দিবস (‘মিন সোলার ডে’)। তাই ৩৬৫ দিনের পার্থিব বছরের নিরিখে বানানো ক্যালেন্ডার চালু থাকলে চার বছর অন্তর পার্থিব বছরের আয়ু একটা দিন বেশি হয়।

হিসেব কষে দেখা গেল, পার্থিব বছরের সময়ের সেই ক্ষয়ক্ষতির প্রায় পুরোটাই পুষিয়ে দেওয়া যায় চার বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসের সঙ্গে একটা দিন জুড়লে। জন্ম হল ২৯ ফেব্রুয়ারির। যার নাম- ‘লিপ ডে’। সেই দিনটা যে বছরে ফেব্রুয়ারিতে জুড়বে, সেই বছরটার নাম হল ‘লিপ ইয়ার’। দেখা গেল, যে বছরগুলিকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে কোনও ভাগশেষ থাকে না, সেই বছরগুলিই ‘লিপ ইয়ার’ হয়।

দীর্ঘতম পার্থিব বছরে ছিল ৪৪৪টি দিন
তা অন্তর্ভুক্ত হল জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে। আর সেটা তড়িঘড়ি ৪৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে করতে গিয়েই রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের সাম্রাজ্যে ৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দটি হয়ে পড়ল পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দিনের বছর। ৪৪৪ দিনের।

ঐ কর্মকর্তার কথায়, ‘হিসেব কষে দেখানো হল, পার্থিব বছরের আয়ু ৩৬৫.২৪২১৯ গড় সৌর দিবস বলে প্রতি ৪০০ বছরে ৯৭টি দিন বেশি হয়। সেই দিনগুলিকে পার্থিব বছরের হিসেবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে কোনও শতাব্দীর যে বছরগুলির শেষে রয়েছে দু’টি শূন্য (০), তাকে ৪০০ দিয়ে ভাগ করতে হবে। তাতে ভাগশেষ থাকলে সেই বছরগুলি আর লিপ ইয়ার হবে না। না থাকলে, সেগুলি লিপ ইয়ার হবে। তাই ২০০০ সাল লিপ ইয়ার হলেও, ২১০০, ২২০০ এবং ২৩০০ সাল তিনটি লিপ ইয়ার হবে না।’

শতাব্দীর বাকি বছরগুলিকে আগের মতোই ৪ দিয়ে ভাগ করা যাবে। তাতে ভাগশেষ থাকলে সেগুলি লিপ ইয়ার হবে না। যেগুলিতে ভাগশেষ থাকবে না, সেগুলি হবে লিপ ইয়ার। পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরির আমল থেকেই আরও নিখুঁত ক্যালেন্ডার বানানো হল। যার নাম ‘গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার’। এই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারই এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মেনে চলা হয়।

Related posts

সারা জীবন বাড়ি থেকেই কাজ করতে পারবেন টুইটারের কর্মীরা

editor

Microsoft Employees Question C.E.O. Over Company’s Contract With ICE

Titu Tutul

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে

editor

আগামীকাল দেখা যাবে মঙ্গল গ্রহের চাঁদ

editor

Trump Tried to Protect Qualcomm. Now His Trade War May Be Hurting It

Titu Tutul

করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় ৭ হাজার টাকায় ভেন্টিলেটর তৈরি

editor

Leave a Comment