17.1 C
New York
May 31, 2020
Alorkantho24.com
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

ইন্টারনেট ব্যবহার কয়েকগুন বেড়েছে ও গতি কমছে।

ইন্টারনেট ব্যবহার কয়েকগুন বাড়েছে ও গতি কমছে।
স্বর্ণালী প্রিয়া ডেক্সঃ মহামারির দিনগুলোতে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি খাতই বিপদে পড়েছে। একমাত্র রমরমা অবস্থা ইন্টারনেটের। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে এক বছরের টার্গেট পূরণ হচ্ছে কয়েক দিনে! কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আরেকটি শঙ্কা উঁকি দিচ্ছে। এত চাপ কি সামলাতে পারবে বর্তমান ইন্টারনেট ব্যবস্থা?

আগে জেনে নেওয়া যাক, কেন এমন প্রশ্ন উঠছে। নতুন করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারের কারণে দেশে দেশে লকডাউন ও কোয়ারেন্টিনের মতো পদক্ষেপ সরকারিভাবে নেওয়া হচ্ছে। ফলে মানুষ হয়ে পড়েছে ঘরবন্দী। আবার অনেক কোম্পানিই কর্মীদের ঘরে থেকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। অর্থাৎ একদিকে ভার্চুয়াল অফিসের কাজ ও অন্যদিকে নিছক বিনোদনের জন্য হলেও ইন্টারনেটের ওপর চাপ বেড়েছে। কেনাকাটার অনেকাংশ এখন অনলাইনে হচ্ছে। আবার ফেসবুক, টুইটারে মানুষের সংযুক্ত থাকার হার বেড়েই চলেছে। ইউটিউব, নেটফ্লিক্সের মতো ভিডিও কনটেন্টের ওয়েবসাইটে বাড়ছে ক্লিকও।ব্রিটিশ সাময়িকী দা ইকোনমিস্ট বলছে, বিশ্বের প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ এখন ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। এর বেশির ভাগটাই আবার মোবাইল নেটওয়ার্ক। উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেটের হার সবচেয়ে বেশি। ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এখন জাতীয় পর্যায়ে লকডাউন ও কোয়ারেন্টিন প্রক্রিয়া চলমান। ফলে এসব দেশের মোবাইল ফোনগুলো এখন বিনোদন, যোগাযোগ ও অফিসের কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বেড়েই চলেছে।

চাপ কতটুকু
সম্প্রতি ফেসবুক জানিয়েছে, যেসব দেশে করোনাভাইরাসের হানা বেশি হয়েছে, সেসব দেশে তাদের মেসেজিং কার্যক্রম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। চাপ বেড়ে গেছে আমাজনের ই-কমার্স ব্যবসায়। প্রতিষ্ঠানটি আরও ১ লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ দিতে চাইছে।প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য রেজিস্ট্রার বলছে, এরই মধ্যে গ্রাহকদের অব্যাহত চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে মাইক্রোসফট ও ভিডিও কনফারেন্স প্ল্যাটফর্ম জুম। অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) জানিয়েছে, ‘সাধারণ ছুটির মধ্যে আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও, কথা বলা কমে গেছে।’

এমন পরিস্থিতিতে অনলাইনে রান্নার অনুষ্ঠান দেখা, মানসিক স্বাস্থ্যের ও যোগাসনের অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের হার বেড়ে গেছে। সাধারণত উন্নত দেশগুলোতে এই ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। চাপ পড়ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, টেলিকনফারেন্সিং ও ভিডিওস্ট্রিমিংয়ের ওয়েবসাইটগুলোতে। কারণ, পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এখন গৃহবন্দী।দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এর আগে কখনোই ইন্টারনেটে খুব কম সময়ের ব্যবধানে গ্রাহকদের এত চাপ দেখা যায়নি। স্পেনের টেলিযোগাযোগ কোম্পানি টেলিফোনিকার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এনরিক ব্লাংকো বলছেন, ২০২০ সালের পুরো বছরে কোম্পানি যে ট্রাফিক অর্জনের লক্ষ্য স্থির করেছিল, তা মাত্র দুই দিনে পূরণ হয়ে গেছে।

ইন্টারনেট টিকবে তো
এক কথায়, ইন্টারনেটে চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে গত কিছুদিনে। এখন শঙ্কা উঠেছে, করোনাভাইরাসের কারণে পরে আবার ইন্টারনেট ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে না তো! সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনটা হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, পুরো বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা এত বেশি বেশি চাহিদা পূরণের মতো করেই তৈরি করা। বিশেষ করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবস্থা। তবে হ্যাঁ, মোবাইল ইন্টারনেটে সমস্যা কিছুটা হচ্ছে। কারণ, একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কে একসঙ্গে অনেক ব্যবহারকারী ঢোকার চেষ্টা করছেন, ফলে ট্রাফিক বাড়ছে ও গতি কমছে। আর সামগ্রিক ইন্টারনেট ব্যবস্থায় ধীর গতি চলে এসেছে, কারণও ওই একই। ব্যবহারকারী প্রচুর। কিন্তু পুরো ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই।

Related posts

কোয়াইট মোড আনল ফেসবুক নোটিফিকেশনে

editor

Amazon’s Facial Recognition Wrongly Identifies 28 Lawmakers, A.C.L.U. Says

Titu Tutul

প্রযুক্তিতে বাংলাদেশে প্রথম ভেন্টিলেটর যন্ত্র তৈরি

editor

ফল থেকে হবে মোবাইল চার্জ

editor

Worried About the I.R.S. Scam? Here’s How to Handle Phone Fraud

Titu Tutul

What Is a ‘Shadow Ban,’ and Is Twitter Doing It to Republican Accounts?

Titu Tutul

Leave a Comment