28 C
New York
July 15, 2020
Alorkantho24.com
ফিচার

হুমকিতে ৬০ লাখ শিশু » তাদের জন্য দরকার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা» কামরুল হাসান বাদল লেখক,কবি, সাংবাদিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব

 

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে হুমকির মুখে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ৬০ কোটি শিশু। গত কয়েক দশকজুড়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ম্লান করে দিচ্ছে মহামারি। এ অঞ্চলের লাখ লাখ পরিবারের পুনরায় দারিদ্র্যে নিপতিত হওয়া ঠেকাতে সরকারগুলোকে অবশ্যই জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থার (ইউনিসেফ) পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ মানুষের বসবাস দক্ষিণ এশিয়ায়। মহামারিটি এখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা ৬০ কোটি শিশুর জীবনের ওপর যে ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে তা তুলে ধরা হয় ‘লাইভস অব এন্ডেড’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে।
ইউনিসেফ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক জ্যাঁ গফ বলেন, লকডাউন এবং অন্যান্য পদক্ষেপসহ দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে মহামারির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নানাভাবে শিশুদের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে। তবে শিশুদের ওপর অর্থনৈতিক সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হবে সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন মাত্রায়। এখনই জরুরি পদক্ষেপ না নিলে কোভিড-১৯ পুরো একটি প্রজন্মের আশা ও ভবিষ্যতকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, টিকাদান, পুষ্টি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যা পরবর্তী ছয় মাসে ৪ লাখ ৫৯ হাজার শিশু ও মায়ের জীবন হুমকির মুখে ফেলেছে। ইউনিসেফ বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দেয়। তা সত্ত্বেও লকডাউনের সময় পরিষেবা প্রাপ্তির সীমিত সুযোগ এবং অভিভাবকদের সংক্রমণের আশঙ্কার কারণে এপ্রিল মাসে কেবলমাত্র অর্ধেক শিশু তাদের নিয়মিত টিকা নিতে পেরেছে।
তীব্র অপুষ্টিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সেবা দেওয়ার হার জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যবর্তী সময়ে ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথে মে মাসে প্রকাশিত একটি স্ট্যাডি অনুযায়ী মহামারির পরোক্ষ কারণে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৮ হাজারেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হতে পারে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমু হোজুমি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি বাংলাদেশেও এর ক্রমবর্ধমান ক্ষতির প্রেক্ষাপটে শিশুদের ওপর এর প্রভাবে ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের জীবন রক্ষাকারী টিকাদান কার্যক্রম এবং পুষ্টিজনিত সেবা অব্যাহত রাখতে হবে এবং যেহেতু বাবা-মায়েরা এসব সেবা অনুসন্ধান করে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দেয়, তাই বাবা-মা স্বাস্থ্যকর্মী উভয় শ্রেণিই যাতে নিরাপদে থাকে এবং নিরাপদ বোধ করে সেটাও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের স্কুলগুলোকেও যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে পুনরায় চালু করতে হবে এবং শিশুদের জন্য হেল্পলাইনগুলোকেও চালু রাখতে হবে। ইউনিসেফ এ সব ক্ষেত্রেই সরকারকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী নন্দিত হলেও মহামারির কারণে তা মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, হাম,
নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া, পোলিও এবং অন্যান্য রোগের বিরুদ্ধে জীবন রক্ষাকারী টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বে মারাত্মক রুগ্নতায় আক্রান্ত শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি বা প্রায় ৭৭ লাখ শিশুকে সহায়তা করার জন্যও কাজ শুরু করা উচিত। হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং অন্যান্য শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়গুলো নিশ্চিত করে যত দ্রুত সম্ভব স্কুলগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া উচিত।
ইউনিসেফের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসে আরো প্রায় ১২ কোটি শিশু দারিদ্র্য ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় নিপতিত হতে পারে, যা তাদের এরই মধ্যে দরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ২৪ কোটি শিশুর কাতারে নিয়ে যাবে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর প্রভাব কমাতে সরকারগুলোর উচিত জরুরি সার্বজনীন শিশু সুবিধা ও স্কুল ফিডিং (স্কুলে খাবার দেওয়া) কর্মসূচিসহ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোর দিকে অবিলম্বে আরো বেশি করে সম্পদ বরাদ্দ করা।
প্রতিবেদনটি করোনার কারণে সৃষ্ট শিশু-বিষয়ক সমস্যাগুলো সামাল দেওয়ার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী এবং অন্যান্য সামাজিক সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা যাতে নিরাপদে তাদের কাজ করতে পারে সেজন্য তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) দেওয়া। স্বল্প প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়িয়ে গৃহভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা (উদাহরণস্বরূপ কাগজ ও মোবাইলভিত্তিক উপকরণের সমন্বয় ব্যবহার করা) বিশেষ করে মেয়ে শিশু, দুর্গম এলাকা ও শহুরে বস্তিতে বসবাসরত শিশু এবং শারীরিকভাবে অক্ষম শিশুদের মতো ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুদের জন্য। বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে পানি সরবরাহ, শৌচাগার ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পরিষেবাগুলোর ব্যাপক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা।
মোটকথা সামনে আমাদের জন্য তেমন কোনো সুসংবাদ অপেক্ষা করছে না।  কভিডোত্তর অর্থনৈতিক মোকাবেলায় সরকার ইতিমধ্যে নানা ধরনের প্রণোদনামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।  এখন সরকারকে একই সঙ্গে শিশুদের রক্ষায় আরও বাস্তব ও জরুরি পরিষেবা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।  প্রতিবেদনে যেসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিতে হবে।

Related posts

কালজয়ী অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীর আজ জন্মদিন» »

editor

করোনাভাইরাস- আমাদের মনোজগৎ-কামরুল হাসান বাদল লেখক: কবি, সাংবাদিক

editor

আনন্দে থাকুন, আনন্দে রাখুন » কামরুল হাসান বাদল,লেখক,কবি, সাংবাদিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব

editor

অগ্নিঝরা মার্চ এর স্মৃতিকথা ১৯৭১ এ দিনে-ফাহিমউদ্দিন আহমেদ- বীর মুক্তিযোদ্ধা

editor

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বার অবস্থা » কামরুল হাসান বাদল,লেখক : কবি সাংবাদিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব

editor

আজ লেখক প্রকাশক জামাল উদ্দিনের জন্মদিন

editor

Leave a Comment