গাছ হোক আমাদের প্রাণ লাল সবুজের স্বাধীন বাংলাদেশ

আমাদের ইতিহাসের মহানায়ক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার জন্ম না হলে পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান পেত না লাল সবুজের স্বাধীন বাংলাদেশ। ইতিহাসের মহানায়কেরাই কেবল জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে পারেন। উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখতে পারেন জীবনের পরতে পরতে। আর এমন মহানায়ক পাওয়া তো যে কোনো জাতির জন্যই পরম ভাগ্যের। বাঙালি জাতি হিসেবে আমরাও অনেক সৌভাগ্যবান। আমরা পেয়েছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন প্রজ্ঞাবান পিতাকে। যাঁর জন্মই হয়েছিল জাতি হিসেবে আমাদের প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে। তাঁর ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবন আবর্তিত হয়েছিল একদিকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে, অন্যদিকে আবার জাতি পুনর্গঠনের কাজেও। তাঁর দূরদর্শী কর্মকাণ্ড থেকে বাদ যায়নি বৃক্ষরোপণের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিও। এ দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্যতা বজায় রাখতে তিনি বৃক্ষরোপণের ওপরই জোর দিয়েছিলেন অনেক বেশি। তাঁর এই উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশও ঘটেছিল নানাভাবে। সদ্য স্বাধীন দেশে তিনি সবাইকে বৃক্ষপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্য গণভবন, বঙ্গভবন ও বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ লাগিয়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁর স্মৃতিবিজড়িত কয়েকটি গাছ আছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। নেমে আসে শোকের ছায়া, এ শোক যেন বাঙালি জাতির মনে চিরদিনের। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২০২০ সালে আমরা পার করছি জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী ও ‘মুজিববর্ষ’। সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশ ও পার করছে মহামারী কোভিড-১৯ বা করোনার ভয়াবহ সময়। ১৭ই মার্চ মুজিব বর্ষের আনুষ্ঠানিক সকল কার্যক্রম শুরু হওয়ার সকল প্রস্তুতি আমাদের ছিল। কিন্তু বাদসাধলো করোনা। ৮ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনা রোগী সনাক্ত হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা কে জানানোর সাথে সাথেই তিনি মুজিববর্ষের সকল কার্যক্রম স্থগিত করেন। কিন্তু তিনি চালু রাখেন মানুষের জীবন রক্ষাকারী কিছু কর্মসূচি। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গণভবন থেকে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ২০২০ ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে একযোগে এক কোটি গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

গাছ আমাদের প্রকৃতির পরম বন্ধু। এক একটি গাছ আমাদের সম্পদ। গাছ আমাদের সবরকম সহযোগিতা করে থাকে। গাছ নানাভাবে মানুষের উপকার করে। ফল, ফুল, কাঠ, অক্সিজেন, ছায়া- এ সবকিছুই আমরা গাছ থেকে পাই। গাছের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। ইন্ডিয়ান ফরেস্ট ইন্সটিটিউটের গবেষকরা ৫০ বছর বেঁচে থাকা একটি গাছের আর্থিক সুবিধা বের করেছেন। তা হচ্ছে, গাছ বায়ুদূষণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে ১০ লাখ টাকার, জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন দেয় ৫ লাখ টাকার, বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে বাঁচায় ৫ লাখ টাকা, মাটির ক্ষয়রোধ ও উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে বাঁচায় ৫ লাখ টাকা, বৃক্ষে বসবাসকারী প্রাণীদের খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে বাঁচায় ৫ লাখ টাকা, আসবাবপত্র, জ্বালানি কাঠ ও ফল সরবরাহ করে ৫ লাখ টাকার, বিভিন্ন জীবজন্তুর খাদ্য জোগান দিয়ে বাঁচায় আরও ৪০ হাজার টাকা। ৫০ বছর বেঁচে থাকা একটি বৃক্ষের আর্থিক সুবিধার মোট মূল্য দাঁড়ায় ৩৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। যেসব এলাকায় গাছ বেশি, সেখানে বন্যা, ঝড় তেমন ক্ষতি করতে পারে না। গাছপালা মায়ের আঁচলের মতো মানুষকে আগলে রেখে রক্ষা করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে। [তথ্যসূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর, ১১ মার্চ, ২০১৮] আমাদের বাসাবাড়ির ছাদগুলোকে একটুখানি গাছ লাগিয়ে সবুজ করা যায়, তাহলে শহরের তাপমাত্রা কমে আসবে। ছাদের বাগান বাইরের তাপমাত্রার চেয়ে ঘরের তাপমাত্রা প্রায় ১.৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমাতে পারে। এমনটাই পরিবেশ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। একটা সবজির গাছ তিন মাসের জন্য তিনজনের অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে। শহরে ফাঁকা জায়গা কম তাই গাছ লাগানোর সুযোগ ও কম। এক্ষেত্রে চাদবাগান অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবানের সুযোগ ও থাকে।

গাছ লাগানো, গাছের গুরুত্ব এই বিষয়গুলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুধাবন করেছিলেন বাংলাদেশের জন্মের শুরুতে। তিনি এই যুদ্ধবিধস্থ এই দেশকে গড়ার কাজে গাছকে অন্যতম উপাধান হিসেবে। তিনি দেশের যে প্রান্তে যেতেন সেখানে একটি বৃক্ষ রোপণ করতেন। মানুষ কে উৎসাহ প্রধান করতেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত একটি নারকেল গাছ আছে খুলনা মহিলা কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে। ১৯৭২ সালের ৩ জুলাই খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে তিনি এই নারকেল গাছের চারা রোপণ করেন। ৪৮ বছর বয়সী গাছটি এখন বেশ বড় হয়েছে। ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে একটি জনসভায় বক্তৃতা দেন। তারপর মহিলা কলেজ পরিদর্শনে এসে চারাটি রোপণ করেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর স্মৃতিবিজড়িত কয়েকটি গাছ এখনো দেখা যায়।

দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী যুদ্ধে শুধু জীবন ও সম্পদই নষ্ট হয়নি, দেশের বৃক্ষ ও বনাঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তা থেকে উত্তরণের জন্য, দেশকে বৃক্ষসম্পদে আরো সমৃদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা দেশে বৃক্ষরোপণ অভিযান কার্যক্রম চালু করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৃক্ষরোপণ অভিযান উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে বাণী প্রদান করেন : “বনাঞ্চলগুলিতে সরকারি পর্যায়ে উন্নয়ন ও অধিক উৎপাদনশীল করার জন্য সরকার উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারি বনাঞ্চল-বহির্ভূত এলাকার ও জনসাধারণের সহযোগিতায় অধিক গাছ লাগিয়ে বৃক্ষসম্পদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছে। এই উদ্দেশে ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালিত হয়। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য এই বৃক্ষরোপণ অভিযানের সময় এবং পরে অধিক বৃক্ষরোপণ করে সরকারের প্রচেষ্টাকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলা। কেননা, জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া মুষ্টিমেয় সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এ বিরাট দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তাই আমি দেশের জনপ্রতিনিধি, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, সমাজসেবী ও আপামর জনসাধারণের কাছে আবেদন করছি, তারা যেন নিজেদের এলাকায়- স্কুল, কলেজ, কলকারখানা, রাস্তাঘাট এবং বাড়িঘরের আশপাশে যেখানেই সম্ভব মূল্যবান গাছ লাগিয়ে এবং তার পরিচর্যা করে সরকারের এ প্রচেষ্টাকে সফল করে।’ তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ বাণীই দেশের কোটি কোটি মানুষকে বৃক্ষ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখায়। নতুন আঙ্গিকে বৃক্ষপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।

১৯৭২ সালে রমনা মাঠে (রেসকোর্স ময়দান) ঘোড়দৌড়ের মাধ্যমে জুয়াখেলা বন্ধ করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারকেলের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে একটি উদ্যান তৈরির উদ্বোধন করে উদ্যানটির নামকরণ করেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন নগরীর কোটি কোটি মানুষের ফুসফুস সচল রাখার গুরুদায়িত্ব পালন করছে।

একটি দেশের মোট ভূখণ্ডের কমপক্ষে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার। বাংলাদেশের বর্তমানে আছে মাত্র ১৭.৫ ভাগ। দিন দিন তা কমে আসছে। বর্তমানে এই ১৭.৫ ভাগে উন্নীতকরণ ও আওয়ামীলীগ সরকার তথা দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়নের অন্যতম একটি মাইলফলক। কারণ প্রথমবার ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসে তখন দেশে বনভূমির পরিমান ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। আর বর্তমানে সেটি এসে দাঁড়িয়েছে ১৭.৫ শতাংশে। দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও একজন বৃক্ষপ্রেমী। তিনি প্রাণ প্রকৃতি রক্ষায় বৃক্ষের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৮৪ সাল থেকে প্রতি বছর পহেলা আষাঢ় সারাদেশে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগ উদ্যাগ গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে আসছে। যাতে মূল সংগঠনসহ সকল সকল সহযোগী সংগনের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করে থাকেন।

এই বছরটি আমাদের কাছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে ও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং আমরা পালন করছি মুজিববর্ষ। এই বছরের শুরুতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ঘোষণা দিয়েছিল মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ১ কোটি গাছ লাগাবে আওয়ামীলীগ। তাঁরই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে সারাদেশে এই বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি এটিকে বঙ্গবন্ধু কন্যা নিজে অত্যন্ত নিষ্ঠভাবে সফল করার জন্য কাজ করছেন। তিনি গাছ লাগিয়েছেন এবং তাঁর সকল সংগঠনের সবাই কে নির্দেশ দিয়েছেন সুনির্দিষ্টভাবে। তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে আহ্বান করবো, আপনারা যে যেখানে আছেন, আপনার যতটুকু জায়গা আছে, সেখান আপনি যা পারেন গাছ লাগান। যারা শহরে থাকেন তারা ব্যালকনিতে টবে হলেও গাছ লাগান। গাছ লাগালে মনটাও যেমনি ভাল লাগবে তেমনি সেটি আপনার অর্থনৈতিক সচ্ছলতাও আনবে এবং নিজের গাছের একটি ফল বা কাঁচা মরিচ খেলেও কিন্তু ভাল লাগে কাজেই আমি সেভাবেই সবাইকে আহ্বান করবো-আসুন আমরা সবাই মিলে গাছ লাগাই।‘

বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন রক্ষা করা দরকার তেমনি জনগণের খাদ্য ও পুষ্টির দরকার। সে কারণেই আমাদের এই বৃক্ষরোপন করাটা অত্যন্ত দরকার। আমি শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত দিয়েছি প্রত্যেককে একটি ফলদ, একটি বনজ এবং একটি ভেষজ এই তিনটি করে গাছ লাগাতে হবে। কাজেই আজকে আমি লাগিয়েছি একটি তেঁতুল গাছ, একটি চালতা গাছ এবং একটি ছাতিয়ান গাছ’। তিনি সকল নেতাকর্মীদের কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, মুজিববর্ষে আওয়ামী লীগের সবাইকে ৩টি করে গাছ লাগাতে হবে। সেটা নিজের জায়গায় হোক বা নিজের জায়গা না পেলে যেখানেই হোক, রাস্তার পাশে হলেও তিনটি করে গাছ লাগাতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না। পরিচর্যা করতে হবে। নিজেদের সন্তানদের মতো যত্ন করে তুলতে হবে। দেখব কার গাছ কত বড় হয়?

ইতিমধ্যে সারাদেশে শুরু হয়ে গেছে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সকল সংগঠনের নেতৃত্বে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি। সেটি আজ চোখে পড়ার মতো। সারাদেশে দেখতে পাচ্ছি ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ আরো নানা সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে চলছে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি। এই মহামারী করোনার কারণে সারাদেশের স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে ও ছাত্রলীগের কর্মীদের মাধ্যমে প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি। তাঁরা আজ গ্রামে আবস্থানের কারণে দেশের প্রত্যেকটি প্রতন্ত অঞ্চলে চলছে এই কর্মসূচি। যেখানেই একজন ছাত্রলীগের কর্মী আছে সেখানেই চলছে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি।

এটি আরো সুন্দরভাবে দেখার আমার সুযোগ হয়েছে ইতিমধ্যে। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানস্থ রমনা কালীমন্দিরের সামনে হাজার হাজার গাছ নিয়ে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে সারাদিন এই শহরের এবং দেশের ভিবিন্ন প্রান্তের লোকজন আসছেন গাছ নিয়ে যাচ্ছেন বিনামূল্যে। আর এটি করছেন স্বয়ং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। তিনি নিজে সারাদিন ভিবিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন গাছ সংগ্রহ করছেন আবার দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে বৃক্ষ রোপণ করছেন। এছাড়াও বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এর ভাষ্যানুযায়ী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়ম বজায় রেখে কর্মসূচি উদ্বোধনের দিন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর চলতি বৃক্ষরোপণ মৌসুমে দেশের ৪৯২টি উপজেলার প্রতিটিতে ২০ হাজার ৩২৫ টি চারা রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং যা ইতিমধ্যে চলমান।

এটি বলা যায় এক একটি গাছ যেন আমাদের বাঁচার এক একটি হাতিয়ার। আমাদের অসাবধানতা বা অজ্ঞতাবশত আমরা আমাদের বনভূমি নানাভাবে উজাড় করছি। যেটি আমাদের মহাবিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু রোহিঙ্গাদের বসবাস করতে দিয়ে আমাদের প্রায় ৪ হাজার একর জায়গার বনভূমি ইতিমধ্যে উজাড় হয়েছে। আজ সারাবিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় তো বটেই, ব্যক্তি পর্যায়েও গাছ লাগাতে এগিয়ে আসতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাথে প্রত্যাশা নিয়ে বলতে চাই, ‘করোনা হয়তো আমাদের অগ্রযাত্রা খানিকটা থামিয়ে দিয়েছে। তবে আশা করি, জনগণ ঘুরে দাঁড়াবে এবং আবার আমরা এগিয়ে যাব।‘ মুজিব বর্ষের এক একটি গাছ হবে আমাদের প্রাণশক্তি আমাদের জীবন সঞ্চারিণী। আমরা দেখবো করোনা মুক্ত নতুন ভোর, আমরা পাবো একটি সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ।