অবশেষে (ওসি) প্রদীপ কুমার গ্রেফতার

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন।

সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে (৩৬) গুলি করে হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) তাকে গ্রেফতার করেছে।তবে সাবেক ওসি প্রদীপের গ্রেফতারের বিষয়ে সিএমপির কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কথা বলতে চায়নি।সূত্র জানায়, প্রদীপ কুমার অসুস্থতাজনিত কারণে চট্টগ্রামের লালখান বাজারের পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান এবং দুপুরে সিএমপি সদর দপ্তরে আসেন তিনি। এরপরই তাকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়।

দুপুর ২টায় তাকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ। তাকে বহনকারী মাইক্রোবাসের পাশে তিনটি গাড়িতে পোশাক পরিহিত ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা ছিল। আরেকটি ভ্যানে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে একাধিক সুত্র বলেছে, সাবেক ওসি প্রদীপ দুদিন আগে অসুস্থতার অজুহাতে থানার দায়িত্ব ছেড়ে চলে যায়।পরে বুধবার সিনহা হত্যার দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পরপরই সে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেয়ার তৎপরতা শুরু করে এবং ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম আসে।

জানাগেছে, সিনহা হত্যার পর থেকে সাবেক ওসি প্রদীপসহ টেকনাফ থানার সকল পুলিশকে নজরদারিতে রাখছিল সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। টেকনাফ ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে আসার পরপরই মূলত গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিক্তিতে মহানগরী লালখান বাজার এলাকা থেকে পুলিশ ওসি প্রদীপকে গ্রেফতার করে।

এর আগে বুধবার রাতে সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

একইদিন দুপুরে টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে প্রদীপসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে মামলা করেন তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

গত ৩১ জুলাই ঈদের আগের রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে গুলিতে নিহত হন সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬)।

তবে সিনহার গাড়িতে থাকা সঙ্গী সিফাতের ভাষ্যমতে, সিনহাকে কোনোরূপ জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই চেকপোস্টে গাড়ি থেকে নামতে বলে চার রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে হত্যা করেন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই লিয়াকত আলী।

সূত্র : ইউএনবি