ব্রেকিং নিউজ» বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত আবারো শুরু হলো ‘দুঃখের বারমাইস্যা’ »

 মৌসুমী লঘুচাপ হঠাৎ পাল্টে দিয়েছে আবহাওয়া। চট্টগ্রামবাসীর ফের শুরু হলো ‘দুঃখের বারমাইস্যা’। এর সক্রিয় প্রভাবে প্রবল বর্ষণ, দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া এবং সামুদ্রিক জোয়ারে বন্দরনগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে লঘুচাপ ও বজ্রমেঘের প্রভাবে রাতভর অতিবৃষ্টি ও কাপ্তাাই লেক এর পানিতে চট্রগ্রাম নগরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।  অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে গত তিনদিন ধরে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ারের পানি বেড়েছে।  আজ সোমবার চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সাথে অতি ভারী বর্ষণে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ অঞ্চল। চট্টগ্রাম সহ সমুদ্র বন্দরসমূহকে দেখানো হচ্ছে ৩নং সতর্ক সঙ্কেত। সমুদ্র উত্তাল থাকায় ট্রলার নৌযানে মাছ শিকার বন্ধ রয়েছে। সাগরের জোয়ারে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে লোকজনের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে ।জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট দোকানপাট তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের ভোগান্তি বৃদ্ধি পায়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে তাদের দুঃখ কষ্টের শেষ নেই । অঝোর বর্ষণের একই সময়ে সামুদ্রিক জোয়ার থাকায় মহানগীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল ডুবে যায়। এরমধ্যে নগরীর আগ্রাবাদসহ এক্সেস রোড, হালিশহর, কাট্টলী, দামপাড়া ওয়াসা, প্রবর্তক, মেহেদীবাগ, পাঁচলাইশ, শোলকবহর, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, নাসিরাবাদ, ষোলশহর ২নং গেইট, চকবাজার, বাকলিয়া, বহদ্দারহাট, রাজাখালী, চান্দগাঁও, মোহরা, কাপ্তাই রাস্তার মোড়, কালুরঘাট, অক্সিজেন, দক্ষিণে পতেঙ্গা, কাটগড়সহ নগরীর ব্যাপক এলাকা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে প্লাবিত হয়। মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে করে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন। হাজার হাজার বসতঘর কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। ভারী বর্ষণের কারণে বন্দর নগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের সতর্কতা বহাল রেখেছে আবহাওয়া বিভাগ। পাহাড়-টিলার ধারে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় লাখ লাখ নি¤আয়ের মানুষ বসবাস করছে। তাদেরেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসন মাইকিং করছে। তবে অধিকাংশই ছাড়ছে না পাহাড়ধারের ঘরবসতি। এ অবস্থায় চট্টগ্রামে বিরাজ করছে পাহাড়ধস আতঙ্ক।
চট্টগ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা সমূহের জন্য আবহাওয়ার স্থানীয় পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর ও পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থারত লঘুচাপটি আরও পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর জেরে উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়েছে এবং মূলত এসবের জেরেই দিনভর চট্টগ্রামে বৃষ্টি হচ্ছে।  ৩নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে
।গত দুইদিন যাবত চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণ হচ্ছে তাতে বেশ কিছু এলাকায় পানিতে প্লাবিত হয়। আজ সকালে ভারী বর্ষণের সঙ্গে চট্টগ্রামে নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি চট্টগ্রাম নগরীর সহ আশেপাশের এলাকা পানিতে থৈ থৈ করছে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে বলে জানান বিভিন্ন সংবাদদাতারা। এই মুহূর্তে সকাল ১১ টা ২০ মিনিটে সর্বশেষ সংবাদ এ জানান নগরীর বেশ কিছু এলাকায় নতুন করে প্লাবিত হওয়ার খবর পাঠিয়েছেন।হাটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানিতে প্লাবিত হচ্ছে জোয়ারে। সাগর উত্তাল থাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে আজ অধিক জোয়ার প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিল্পী শাহরিয়ার খালেদ শহরের কর্ণফুলী নদী দিয়ে চাক্তাই খাল সহ বিভিন্ন খাল নালা দিয়ে জোয়ার ডুকছে বৃষ্টির জেরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মূল সড়কগুলোতে কিছু গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেলেও অলি গলির সড়কগুলো ফাঁকা ছিল।
তাছাড়া বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘরের বাইরে আসা মানুষকে পোহাতে হয়েছে বাড়তি ভোগান্তি।