বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজের অপসারণ চান মুক্তিযোদ্ধারা

মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলার প্রতিবাদে ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে ‘হামলার নির্দেশদাতা’ বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অপসারণ দাবি করেন মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড মহানগর ও জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলার প্রতিবাদে প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে বাঁশখালীর মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে সংসদ সদস্য ও দলের পদ থেকে অপসারণপূর্বক তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ সময় তার কুশপুত্তলিকা দাহ করে নিন্দা ও ক্ষোভ জানানো হয়।সমাবেশে মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার মোজাফফর আহমদ বলেন, প্রেসক্লাবের মতো একটা জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলার ঘটনা অকল্পনীয়। একজন এমপি’র কীভাবে সাহস হয় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলা করার? মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, এ কুলাঙ্গার এমপির সদস্য পদ বাতিল করে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার করা হোক।সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলা কমান্ডার সিরু বাঙালি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের হামলা করার মত সাহস একজন সাংসদের নেই। কারো মদদে তিনি এ ঘৃণ্য কাজ করার সাহস দেখিয়েছেন। এ কুলাঙ্গার সাংসদকে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা যেখানে পাবো, সেখানে প্রতিহত করবো। প্রয়োজনে আমরা তার বাসভবন ঘেরাও করবো। যদি মুক্তিযোদ্ধারা মাঠে নামে পৃথিবীর কোন শক্তি নেই আমাদের থামানোর।সমাবেশে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে রক্ত দেন মৌলভী সৈয়দ ভাই। আজ তার পরিবারের উপর হামলা করছে বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। গত সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করছিলাম। হঠাৎ সাংসদের পেটোয়া বাহিনী বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হামলা করেছে। আমি এ ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘৃণ্য কাজের নির্দেশদাতা সাংসদকে সদস্য পদ থেকে অপসারণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহব্বান জানাচ্ছি।মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমার বাবা মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর সাথে সারাদেশ ঘুরে ঘুরে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত না করলে আপনারা আজ এমপি হতে পারতেন না। একইভাবে বাঁশখালীতে মৌলভী সৈয়দ আহমদ এবং সুলতানুল কবির চৌধুরীরা আওয়ামী আওয়ামী লীগকে শক্ত ভিত্তি না দিলে আপনি মোস্তাফিজ আজকে এমপি হতে পারতেন না। আজকে সুলতানুল কবির চৌধুরী নাই বলে আপনি চাকর থেকে জননেতা বনে গেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে হামলার জবাব আপনাকে দিতে হবে।সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (অর্থ) আবদুর রাজ্জাক, মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলা কমান্ডার সিরু বাঙালি, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহব্বায়ক ফরিদ মাহমুদ, কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, শহীদ মৌলভী সৈয়দের ভাতিজা জয়নাল আবেদিন, বাঁশখালী উপজেল মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহব্বায়ক ফয়সাল জামিল চৌধরী সাকি প্রমুখ।সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড মহনগর ও জেলার নেতৃবৃন্দ, মহনগর যুবলীগ, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ, সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগ এবং ওমরগনি এমইস কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করেন।উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলী আশরাফকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে গত সোমবার আয়োজিত মানববন্ধনে বাঁশখালীর পৌর মেয়র সেলিমুল হক চৌধুরী এবং সাংসদের এপিএস তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে সাংসদ অনুসারীরা আতর্কিত হামলা করে।এ সময় প্রেসক্লাব সাধারণ চৌধুরী ফরিদসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। হামলায় মৌলভী সৈয়দের ভাতিজা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।