ব্রেকিং নিউজ নগরীর সিরাজউদ্দৌলা সড়কজুড়ে অবৈধ বাজার


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে বড়জোর ২শ গজের দূরত্ব হবে প্রধান সড়কের ওপর ও ফুটপাত দিয়ে অবৈধ বাজারের দখলে দৃশ্যটি নিত্য নৈমিত্তিক।ফুটপাত এবং সড়কের অংশ কাঁচাবাজারের জ্যাম থাকে। তালিকা তৈরির দুই বছরেও উচ্ছেদ হয়নি নগরীর সড়ক-ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩৭ কাঁচাবাজার। বরং দীর্ঘ এ সময়ে আরো অসংখ্য বাজার গড়ে উঠেছে যতত্রতত্র। অবৈধ এসব বাজারের কারণে দিন দিন সংকীর্ণ হচ্ছে সড়ক। এতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে যানবাহন চলাচলে। যার কারণে বাড়ছে যানজট। আবার বাজার করতে আসা লোকজনও দুর্ঘটনাজনিত ঝুঁকিতে পড়ছেন। এছাড়া যেখানে-সেখানে বাজার গড়ে উঠা এসব বাজার শহরকে অপরিচ্ছন্ন করতেও রাখছে ভূমিকা। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে দেওয়ান বাজার মোড়ে রাস্তার উপরের বাজারটি পথচারী স্থানীয় লোকজন এবং আশপাশের ব্যবসায়ীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। মাছের দোকান গড়ে উঠেছে। বিকেল৩টার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ওখানে মাছ বিক্রি হচ্ছে। এবং সে মাছ কাটাও হচ্ছে। রাতে যখন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা গাড়ি নিয়ে ময়লা তুলে নিতে আসে তখন মাছ বিক্রেতারা সরে গিয়ে জায়গা করে দেয়। এবং ময়লা তুলে নেওয়ার পরপর সে জায়গায় আবার মাছ বিক্রি শুরু করে।এ দৃশ্য শহরে নতুন নয়। এভাবে মাছ মুরগি সবজি বিক্রির দৃশ্য দুর্লভ নয়। নগরবাসী মাত্রই জানেন এখন নগরজুড়েই হাটবাজার। অলি-গলি থেকে প্রধান সড়কের ফুটপাত এবং সড়কের অংশ কাঁচাবাজারের ভ্যানগাড়িতে জ্যাম থাকে। কিছু এলাকায় বিকেলের পর থেকে বাজার বসা শুরু হয়ে যায় আর কিছু এলাকায় সকাল থেকেই বেচা-কেনা চলে। কিছু এলাকাতো রীতিমতো বাজারে পরিণত হয়ে গেছে।সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এমন ৩৭টি অবৈধ বাজার চিহ্নিত করেছে। বাজারগুলো হলো সিরাজউদ্দৌলা সড়ক কাঠগড় সড়ক জহুরুল হক ঘাঁটি, স্টিলমিল, বেপারীপাড়া, টিএন্ডটি কলোনি, মাদারবাড়ি দারোগাহাট, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ, মেমন হাসপাতাল, সিরাজউদ্দৌলা সড়ক, চকবাজার ধনিরপুল হতে ফুলতলা, পুরাতন চান্দগাঁও থানার পাঠাইন্যাগোদা জামাল খান সড়ক, ডিসি হিল, অক্সিজেন মোড়, দেওয়ানহাট ব্রিজ সংলগ্ন, মিয়াখান নগরীর বৌ বাজার, জামাইবাজার, আতুরার ডিপো, ঈদগা রাস্তার মাথা, চালিতাতলী বাজার, রাজখালী ব্রিজ, পাহাড়তলী ঝাউতলা, মুরাদপুর ১নং রেলগেট সংলগ্ন, আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ, ফতেয়াবাদ আমান বাজার, ফইল্যাতলী, সিইপিজেড মোড়, বন্দরটিলা, আমিন জুট মিল, আকবর শাহ মাজার, একে খান রোড, বান্ডেল রোড, নয়াহাট-কুয়াইশ, কাঠগড় মুসলিমাবাদ, নাজিরপাড়া এবং দেওয়ানবাজার মোড়ের রাস্তার ওপরে বসা এমন কাচাবাজার।সিটি করপোরেশন চিহ্নিত করেনি এমন বহু অবৈধ বাজার এখনো নগরে বিদ্যমান আছে। বর্তমানে মানুষের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। জীবনযাপনেও পরিবর্তন এসেছে। শহর দিনদিন প্রশস্ত হচ্ছে। শহরে জনসংখ্যা বাড়ছে। সবকিছু মিলিয়ে বর্তমান সময়কে ৩০/৪০ কিংবা ৫০ বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা যায় না। সে সময় মানুষের জীবনযাত্রা বর্তমানের মতো এতটা ব্যস্ত ও কর্মময় ছিল না। মানুষ সকালে স্থানীয় কাঁচাবাজারে যেতো। এবং প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতো। এর জন্য শহরে কিছু কাঁচাবাজার ছিল। যেমন বক্সিরহাট, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কর্ণফুলী মার্কেট, কাজির দেউড়ি বাজারসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী বাজার ছিল। বাজারগুলো মূলত সিটি করপোরেশন কর্তৃক পরিচালিত হতো। বাজারগুলো ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে সিটি করপোরেশন প্রচুর রাজস্বও আদায় করতো। মাছ-সবজি-ফলের ওপর। বিক্রেতারা কিছুক্ষণ পরপর তার ওপর পানি ছিটান তাতে ধুলিবালি আরও গাঢ় হয়ে বসে শাক-সবজির ওপর। এতে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে এই বাজারের বর্জ্য, মাছের পানি, কাটা মাছের বর্জ্য ইত্যাদির কারণে আশেপাশের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দারা এই পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছেন।চসিকের অনুমোদিত বাজারগুলো হচ্ছে- কাজীর হাট, চকবাজার, বলিরহারহাট, বহাদ্দারহাট কাঁচাবাজার, পাহাড়তলী কাঁচা বাজার, ফকিরহাট, বঙিরহাট, হাজী আবদুল আলী আর্কেড বাজার, বিবিরহাট কাঁচা বাজার, দেওয়ানহাট বাজার, আবদুল মাবুদ সওদাগর বাজার, কমল মহাজন হাট ও হামিদউল্লাহ খান বাজার, রিয়াজুদ্দিন বাজার, কর্নেল হাট, আনন্দ বাজার, ফইল্যাতলী, ফিরিঙ্গি বাজার, বিবিরহাট কাঁচাবাজার।মোমিন রোডেই অবৈধ বাজার : কোতোয়ালী থানার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোমিন রোডজুড়েই প্রতিদিনই বাজার বসে।