ব্রেকিং নিউজ » ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ দিন বন্ধ কর্ণফুলীর কালুরঘাট রেল সেতু।

এস আহমেদ ডেক্স প্রতিবেদনঃ কর্ণফুলীর কালুরঘাট রেল সেতু। বার্ধক্যে এসে এই সেতু এখন আর বয়সের ভার বইতে পারছে না। জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকমে টিকে আছে। সংস্কারের এক মাস না যেতেই ফের সেতুর রেলিং ভেঙে যাওয়াসহ পাটাতন উঠে যাওয়া এবং সেতুতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয় দিনে দিনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেতুটি। ফের কালুরঘাট সেতু সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র জানান, কালুরঘাটের ব্রিজে ফের মেরামতের জন্য আগামী ০৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।রাত ১০টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল ৫ দিন বন্ধ থাকবে।৯০ বছর বয়সী মেয়াদোত্তীর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি ও ভোগান্তি মাথায় নিয়ে দিনে প্রায় ১ লাখ লোক এই সেতু ব্যবহার করছে।ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠা সেতুটি। ২০০১ সালে রেলওয়ে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে।অথচ এই একমুখী রেল সেতুই দক্ষিণ চট্টগ্রামের একাংশের মানুষের অন্যতম ভরসা। সেতু না থাকলে কী যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে এসব মানুষের তা মেরামতের সময়ের চিত্রই বলে দেয়। ফেরি কিংবা নৌকায় করে নদী পারাপার হতে হয়। কিন্তু সেতুটির অবস্থা নাজুক হলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা হয়নি এখনো।রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৯৩০ সালে নির্মিত সেতুটিতে রেলের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল করছে ১৯৫৮ সাল থেকে। এই এক সেতু দিয়ে যান চলাচল, পায়ে হেঁটে পারাপার এবং রেল চলাচল করে থাকে। একমুখী চলাচলের কারণে দুই পাশে যানজট হওয়ার পাশাপাশি সেতুর ওপর চাপও বেড়েছে। যার জন্য বারবার মেরামত করে সেতুটি সচল রাখার ব্যবস্থা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।সর্বশেষ ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে সেতুটি মেরামত করা হয়। এর আগে ২০০৪ সালেও এটি মেরামত করা হয়েছিল। এ ছাড়াও প্রতিনিয়ত ছোটখাটো মেরামতকাজ করা লাগে বয়সের ভারে ন্যুজ এই সেতুর।বোয়ালখালী ও পটিয়ার তিন ইউনিয়নের প্রায় ২০ লাখ মানুষ এই সেতুর ওপর সরাসরি নির্ভরশীল সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর রেলিং ভেঙে গেছে পাটাতন উঠে সেতুতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে ওপরের কার্পেটিং স্থানে স্থানে উঁচুনিচু হয়ে গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে লোহার পাতে মরিচা ধরেছে।সূত্র জানায়, প্রতিদিনই সেতুর দুই পাশে শত শত যানবাহনের জট থাকে। যতই দিন যাচ্ছে সেতুর ওপর চাপ বাড়ছে। জরুরি প্রয়োজনে এই সেতু পারাপারে দুপারের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। এই সেতু দিয়ে পার হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।জানা যায়, সেতু দিয়ে বোয়ালখালী, পটিয়ার একাংশ ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের যানবাহনও চলাচল করে সেতুর ইতিহাস: ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মা ফ্রন্টের সেনা পরিচালনার জন্য কর্ণফুলী নদীতে একটি আপৎকালীন সেতু তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ১৯৩০ সালে ব্রুনিক অ্যান্ড কোম্পানির ব্রিজ বিল্ডার্স হাওড়া নামে একটি সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কালুরঘাটে যুদ্ধকালীন ব্যবহারের জন্য একটি সেতু তৈরি করে। জরুরি ভিত্তিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত ৭০০ গজ লম্বা সেতুটি ১৯৩০ সালের ৪ জুন উদ্বোধন করা হয়।পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে পুনরায় বার্মা ফ্রন্টের যুদ্ধ মোটরযান চলাচলের জন্য ডেক বসানো হয়। দেশ বিভাগের পর ডেক তুলে ফেলা হয়। ১৯৫৮ সালে এই একমুখী যুদ্ধসেতুটিই সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সেতুতে দুটি অ্যাবটমেন্ট, ছয়টি ব্রিক পিলার, ১২টি স্টিল পিলার ও ১৯টি স্প্যান রয়েছে।