বনানীতে অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড উচ্ছেদে মেয়র আতিকুল

১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাজধানীর বনানীতে অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও এলইডি লাইট উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এসময় নগর সৌন্দর্য রক্ষা আইন না মানলে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

 সকাল ১০টায় বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ী এলাকায় অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে উত্তর সিটি করপোরেশন। অনুমতি না নিয়ে মূল সড়কের সাথে এসব বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। নীতিমালার বাইরে সব বিলবোর্ড সরানোর ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে চলে এই অভিযান।

এসময় বিকন গ্রুপের একটি হাসপাতাল ও বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিলবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়। পরে বৃষ্টির কারণে অভিযান বন্ধ রাখা হয়।

সকালে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম। এসময় ‍নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে আইন মেনে ব্যবসা করার আহ্বান জানান তিনি।

মেয়র বলেন, যা কিছুই করেন না কেন, সিটি কর্পোরেশনের পারমিশন নিতে হবে। সবকিছুরই আইন আছে, নীতিমালা আছে। কিন্তু আমরা দেখছি কেউ কোন ধরনের আইনকে, নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে, যে যার মত সাইনবোর্ড, শপ সাইন, এলইডি সাইন লাগাচ্ছেন। অভিযানের সময় সবাই বলে, আমরা জানি না। কিন্তু আপনি যখন ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন, সেখানে সাইনবোর্ডের মাপও উল্লেখ করা হয়েছে। ৩ ফুট বাই ৪ ফুট সাইনবোর্ডের অনুমোদন নিয়ে যদি ৩০ ফুট বাই ৪০ ফুট সাইনবোর্ড তৈরি করেন, সেখানে যদি এলইডি লাইট লাগানো হয়, সেটা অবৈধ। এভাবে আইন অমান্য করে ঢাকা শহরে আপনারা ব্যবসা করতে পারবেন না।

আতিকুল ইসলাম আরো বলেন, আমরা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরাট একটি সাইনবোর্ড একটু আগে উঠিয়ে দিয়েছি। বাচ্চারা যখন জানবে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে তারা কী শিক্ষা পাবে? এই যে ক্লিনিকটি অবৈধভাবে রাস্তার উপর সাইনবোর্ড লাগিয়েছে, তারা কী চিকিৎসা দিবে? এভাবে সাইনবোর্ড লাগানোর ফলে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আকাশ দেখা যায় না। অবৈধভাবে সাইনবোর্ড যারা লাগান, তারা নিজেদের অনেক ক্ষমতার অধিকারী বলে মনে করেন। উনারা ব্যবসা করছেন, উনারা পয়সা বানাচ্ছেন। তবে অবৈধ কোন ধরনের সাইনবোর্ড শহরে থাকতে পারবে না।

মেয়র বলেন, অভিযান চলাকালে অনেকেই আমাকে ফোন করে অনুরোধ করছেন, অনেকে সময় চাইছেন। কেউ বলছেন আমার সাইনবোর্ডটা ভাঙবেন না। কেউ কেউ আমাকে বলছে আপনি তো ফোন রিসিভ করেন না, আমি সবাইকে বলতে চাই। যখন মোবাইল কোর্ট চলবে, উচ্ছেদ চলবে, আমাকে কেউ ফোন করবেন না। ফোন করলেও আমি ধরব না।

তিনি বলেন, আমরা এখন গুলশান, বনানী, প্রগতি সরণিতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি। আগামী মাসে ডিএনসিসির অন্য এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে ডিএনসিসির সকল এলাকায় অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

 

 

আজ অঞ্চল-৭ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রায় পঞ্চাশটি অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড ইত্যাদি উচ্ছেদ করা হয়। পরে এই সকল বিলবোর্ড সাইনবোর্ড ৪০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রয় করা হয়।

 

 

 

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, অঞ্চল-৩ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকী উপস্থিত ছিলেন। অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, শপসাইন, প্রজেক্ট সাইন অপসারণে ডিএনসিসির অভিযান অব্যাহত থাকবে।