কক্সবাজার পুলিশের একযোগে আরও ৩৪ জনকে বদলী

 
মেজর (অব.) সিনহা হত্যাকাণ্ডের ঢেউ এখন উপচে পড়ছে কক্সবাজার জেলা পুলিশে। কক্সবাজার সাবেক পুলিশ সুপারের বিদায়ের দিনে কক্সবাজারের ৬ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসিসহ ৩৪ জন ইন্সপেক্টরকে (পরিদর্শক) একযোগে বদলি করা হয়েছে।
 
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে।
 
বদলিকৃতদের ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরোনো কর্মস্থল ছেড়ে দিতে হবে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের একটি ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। সেদিন রাজারবাগের পুলিশ অডিটোরিয়ামে তাদের পোশাক পরে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
 
প্রজ্ঞাপন মতে,উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা আক্তার সিলেট, মহেশখালী থানার ওসি দিদারুল আলম ফেরদৌসকে বরিশাল, রামু থানার আবুল খায়েরকে রাজশাহী, চকরিয়ার ওসি হাবিবুর রহমানকে খুলনা, পেকুয়া থানার ওসি কামরুজ্জামানকে রংপুর, কুতুবদিয়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে খুলনা
রেঞ্জের বদলি করা হয়েছে।
 
এ ছাড়াও রামু থানার পরিদর্শক রুমেল বড়ুয়াকে সিআইডি ঢাকা অফিসে,মিজানুর রহমানকে সিআইড ঢাকা, মাঈন উদ্দিনকে বরিশাল, খোরশেদ আলমকে সিলেট, মো: একরামুল হককে বরিশাল, মো: আমিরুল ইসলামকে রংপুর, মানষ বড়ুয়াকে ময়মনসিং, এসএম মিজানুর রহমানকে সিলেট, এসএম আতিক উল্লাহকে ঢাকা, মো: আবুল মনচুরকে বরিশাল, মো: ইয়াসিনকে এসএমপি সিলেট, মো: আনোয়ার হোসেনকে বরিশাল, মো: আরিফ ইকবাল রাজশাহী, এবিএম দোহাকে খুলনা, নুরুল আলম মজুমদারকে বরিশাল, মো: আসাদ্দুজ্জামানকে রাজশাহী, মো: আলী আশরাফকে বরিশাল, মো: মাহবুব মোর্শেদকে সিলেট, রফিকুল ইসলাম খানকে বরিশাল, আমিনুল ইসলামকে এসএমপি সিলেট, প্রদীপ কুমার দাশকে এসএমপি সিলেট, আনিসুর রহমানকে বরিশাল, মো: মাসুম খানকে খুলনা, ফজলুল আলমকে বরিশাল, মো: মহিদুল আলমকে বরিশাল, রুপক চন্দ্র দাশকে বরিশাল, বদরুল আলম তালুকদারকে বরিশাল, মো: হাবিবুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে বদলী করা হয়েছে।
 
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মতিক্রমে পুলিশ সদস্যদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে উল্লেখিত স্থানে বদলি করা হয়েছে।
 
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ বি এম মাসুদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন ছয় কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।
 
প্রসঙ্গত:কক্সবাজারে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হলেও এ ঘটনায় ঘুরেফিরে কক্সবাজারের এসপি এ বি এম মাসুদ হোসেনের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ওঠে। সিনহার পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা হত্যা মামলায় এসপির নাম উল্লেখ করার আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দেন।