চসিক আইন সংশোধনের তাগিদ পরামর্শক কমিটির

 
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) টাইগারপাসস্থ চসিক ভবনে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরামর্শক কমিটির প্রথম সভায় চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের সভাপতিত্বে সভায় চট্টগ্রামে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল,চট্টগ্রাম বন্দর,চট্টগ্রাম ওয়াসা,কর্ণফুলী গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন,চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অপরাপর সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়হীনতার কারণে নগরের কাঙ্খিত উন্নয়ন হচ্ছে না। নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রয়োজনে আইনি সংশোধনের মাধ্যমে সমন্বয় নিশ্চিতকরণের বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন পরামর্শকগণ।নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি সমন্বয় সভায় সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থা অংশগ্রহণের জন্য নির্দেশনা আছে। কিন্তু অনুপস্থিত থাকলে বা সমন্বয় না করলে সংস্থাগুলোর প্রতি সিটি কর্পোরেশনের করণীয় নির্ধারণে কোন বিধান নেই। অনেক ক্ষেত্রে সমন্বয় সভাগুলোতে সংস্থা প্রধান না এসে একজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়। অথচ সভায় উপস্থিত প্রতিনিধির কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রদানের ক্ষমতা নেই। এতে করে সমন্বয়হীনতা রয়েই যাচ্ছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে ভাববার সময় এসেছে।
পরামর্শক কমিটির প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ও সরকারি সংস্থা পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ, নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জোবায়ের আহমেদ, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান, কেডিএস গ্রæপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, শিক্ষাবিদ হাসিনা জাকারিয়া, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সভাপতি প্রবীর কুমার সেন, বিএসআরএম গ্রæপের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস এবং বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি এম এ সালাম উপস্থিত ছিলেন।
 
(চসিক) পরিচালনায় কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, সরকারি আইন অনুসারে ইপিজেড থেকে আমরা (চসিক) কোনো হোল্ডিং ট্যাক্স পাই না। সরকারের আইনে আছে যে হোল্ডিং টেক্স ওইখানে মওকুফ। কিন্তু ওরা তো আমদের শহরটা ব্যবহার করে। উনাদের গাড়িগুলো তো আমাদের এখান দিয়ে চলাচল করে। আমাদের আলো উনারা ব্যবহার করে। আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা উনাদের সহযোগিতা করে। কাজেই উনারা ট্যাক্স না দিক, কর না দিক। যদি একটা উন্নয়ন সার্ভিস চার্জ না দেয় তাহলে আমরা উনাদের সহযোগিতা করবো কিভাবে? চসিকের আয় বাড়াতে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং চসিক আইন সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছেন চসিকের উন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটি।
 
সভায় এসব তথ্য জানান চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। তিনি বলেন, নগরবাসীদের সেবা দিতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে আয় ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে উঠতে পারছে না চসিক। তার উপরে বেড়েই চলেছে ব্যয়। অন্যদিকে বিভিন্ন সেক্টর থেকে কর আদায়ে আছে নানা জটিলতা। এভাবে আয় বঞ্চিত হয়ে নগরীর ভাঙা সড়ক মেরামত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রায় প্রতিটি খাত হয়ে উঠেছে জরাজীর্ণ। বাড়ছে নাগরিক দুর্ভোগ। তবে এবার সব প্রতিকূলতা মাড়িয়ে একটি উন্নত শহর গড়ে তুলতে বিশিষ্টজনদের নিয়ে খোলা হবে একটি ম্যাসেঞ্জার বা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ। সেখানে আপাতত নিশ্চিতভাবে থাকছেন সাবেক চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ আরও বিশিষ্ট ১৬ জন। পরে যুক্ত হতে পারে আরও দুই/তিন জন। এই গ্রুপের তথ্য আদান প্রদান করে শুরু হবে বিভিন্ন জটিলতা সমাধানের কাজ। পরামর্শক কমিটির সবাই অংশগ্রহণ করলেও প্রথম সভায় উপস্থিত হতে পারেননি বিএসআরএম গ্রুপের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক ডা. ম রমিজ উদ্দিন চৌধুরী ও পুলিশের সাবেক আইজি মো.নুরুল আলম।
 
এ বিষয়ে চসিক প্রশাসক বলেন, উনাদের সাথে আমার কথা হয়েছে মহামারি পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে আজ উপস্থিত হতে পারেননি। কিন্তু সবাই জানিয়েছেন উনারা আমাদের সাথে আছেন।