মিয়ানমার সীমান্তে ফের ভারী অস্ত্র সেনা সমাবেশে উত্তেজনা বাড়ছে

 
সীমান্তে ভারী অস্ত্র, গোলাবারুদ নিয়ে সেনা সমাবেশ করেছে মিয়ানমার। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তে শক্ত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি সমাগত যুদ্ধের মতো রূপ নিচ্ছে বলে উল্লেখ করছেন পর্যবেক্ষকরা। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সীমান্তের ১৫ কিলোমিটার দূরে বুচিডংয়ে মূল ভূখণ্ড থেকে ৩৪টি অত্যাধুনিক ট্যাংক নিয়ে এসেছে। ২০১৬ সালে চীন এসব ট্যাংক আধুনিক করে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তের ১০০ মিটারের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মাইন পুঁতে রাখা শুরু হয়েছে। পুঁতে রাখা এসব মাইনের কিছু কিছু উদ্ধার করে নিষ্ক্রীয় করা হয়েছে।
জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় এখন বিভিন্ন ধরনের মাইন পুঁতে রাখছে মিয়ানমার সেনারা। এর মধ্যে একধরনের মাইন রয়েছে যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘আনারস মাইন’ হিসেবে পরিচিত। এসব মাইনের দুই পাশে তার লাগানো থাকে। এই তারে স্পর্শ বা চাপ পড়লে তাতে বিস্ফোরণ ঘটে। এই এন্টি পারসনাল মাইনে ৪০০ থেকে ১২০ গ্রাম পর্যন্ত সি-৪ বা প্লাস্টিক এক্সফ্লোসিভ থাকে। পুঁতে রাখা কিছু মাইন পাওয়া গেছে যেগুলো মেকানাইজড করা। এর ডেটোনেটিং সিস্টেমের সুইসে টান দিলে এর বিস্ফোরণ ঘটে।
জানা গেছে, সীমান্তে পেতে রাখা সবচেয়ে মারাত্মক মাইন হলো ‘ইলেকট্রনিক্স মাইন’। রুশ প্রযুক্তির এই মাইনে সেন্সর ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। উখিয়া, ট্যাঙ্কখালি, গর্জনিয়ে থেকে ওপরের দিকে সীমান্ত এলাকায় এসব মাইন বসানো হচ্ছে।বাংলাদেশ-মিয়ানমারের স্থল সীমান্তে কোনো বেড়া নেই। পিলার দিয়ে সীমান্ত চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড অথবা মিয়ানমার বর্ডার গার্ডের নিয়মিত প্রহরা থাকে না। মিয়ানমার সাইডে সীমান্তের কাছাকাছি বিজিবি ক্যাম্প ছাড়াও সেনা ক্যাম্প রয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, সু-৩০ ও মিগ২৯ জঙ্গিবিমান, সাবমেরিনের পাশাপাশি আধুনিক ট্যাংকের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনাশক্তি কেন রাখাইনে বাড়ানো হচ্ছে- এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশের। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা জানাতেও বলা হয়েছে।