আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা

 

আজ বৃহস্পতিবার( ১ অক্টোবর)শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ।আশ্বিনী পূর্ণিমার অপর নাম প্রবারণা পূর্ণিমা।বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ নির্বাণ লাভের পর আষাঢ়ি পূর্ণিমা প্রবারণা পূর্ণিমা দিবসে ভিক্ষুদের বিনয় কর্মের মাধ্যমে ত্রৈমাসিক বর্ষাবাসের পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রবারণা শব্দের অর্থ হলো আশার তৃপ্তি, অভিলাষ পূরণ। সেই থেকে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা বর্ষাবাস শেষে দিবসটি পালন করে আসছেন।

প্রবারণা হলো আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। অন্য অর্থে অকুশল ও পাপকে বারণ, কুশল ও মঙ্গলকে বরণ এবং বর্ষাবাসের পরিসমাপ্তি বোঝায়।প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে এক মাস দেশের প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে শুরু হবে কঠিন চীবর দান উৎসব। প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

আগামী মাসব্যাপী প্রতিটি বৌদ্ধ গ্রামে পালাক্রমে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় শুরু হবে দানশ্রেষ্ঠ ‘কঠিনচীবর দান’।

আজকের দিনের কার্যসূচি শুরু হবে ভোরে বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ সূত্রপাঠের মধ্য দিয়ে। প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে এ নিয়ম পালিত হবে। সকাল ৭টায় বিহার প্রাঙ্গণে উত্তোলন করা হবে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা। সকাল ৯টা-১০টার মধ্যে শুরু হবে বুদ্ধ পূজা, উপাসক-উপাসিকা, দায়ক-দায়িকারা পঞ্চশীলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে কেউ কেউ অষ্টশীল গ্রহণ করবেন। দিনের প্রথমভাগের কার্যসূচি শেষ হবে বেলা ১২টায়।সন্ধ্যায় আলো-ঝলমলে বাতি দ্বারা বিহারে করা হবে আলোকসজ্জা। প্রদীপ পূজার পাশাপাশি সকালের ন্যায় প্রার্থনা সভাও অনুষ্ঠিত হবে।

প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁরা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই উৎসব পালনের আহ্বান জানান।তবে করোনাভাইরাস মহামারীর জন্য এবারের আয়োজন সম্পন্ন হবে সীমিত পরিসরে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে।