ঘরে বসে ‌‌কেক বানানোর কৌশল- » রোকসানা বন্যা

  এখন আর নিমণ্ত্রণ করা হয় না ঘরে। বিয়েবার্ষিকী, জন্মদিন, এমন কি কারণে অকারণে আমাদের বন্ধু আড্ডাও বন্ধ এখন। রান্না করতে ভালোবাসি, পছন্দ করি খাওয়াতে। এখন নিজে বানাই , আর নিজে খাই ।   কেক আমার খুবই পছন্দের একটি খাবার। আমার মতো আপনার মনও হয়তো কেকের নাম শুনলে আঁকুপাঁকু করে। সম্প্রতি জনৈক কেক তৈরির কারিগরের নিকট থেকে জানতে পারলাম যে, বাজারে যেসব কেক তৈরি করা হয় তাতে সাল্টু নামের একটি উপাদান ব্যবহার করা হয়। যা কেক বা রুটিকে দীর্ঘ সময় নরম রাখে কিন্ত মানবদেহের জন্য খুবই বিপজ্জনক। তাই ঘরেই কেক বানানোর অভিযান শুরু করি  ।ঘরে বসে ‌‌কেক বানানোর সহজ উপায়’ শিরোনামে একটি রেসিপি। তারপর অভিযান শুরু। অনেক বেশিকিছু না লাগলেও একটি সুস্বাদু কেক বানাতে মোটামুটি কিছু জিনিস অবশ্যই লাগে। যাহোক, ১দিন কেক খুব ভালো বানাতে না পারলেও পরে অবশ্য ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন ছবি দেখে বুঝছেন।
কেক বানাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী »»
খাবার শুধু স্বাদ হলেই চলবেনা দেখতেও আকর্ষণীয় হওয়া চাই। কেকের ক্ষেত্রেও তাই। কেকের আকৃতি, নকশা, স্বাদ, রঙ ইত্যাদিতে বৈচিত্র আনতে কিছু জিনিসপত্র অবশ্যই লাগবে। তবে চলুন জেনে নেই কিছু সামগ্রী বিষয়ে যেগুলো অবশ্যই লাগবে।
কেক বানানোতে ইলেক্ট্রিক ওভেন সবচেয়ে ভালো। কারণ, বেকিংয়ের কাজে মাইক্রোওয়েভ ওভেন খুব ভালো পারফরমেন্স দেয় না। তাই যারা প্রথম ওভেন কিনবেন তারা কম্বাইন্ড ওভেন কিনতে পারেন। এতে টাকা বাঁচবে, যায়গা বাঁচবে এবং কাজও হবে দারুন।কেককে পছন্দ অনুসারে আকৃতি দেয়ার জন্য ডাইস বা মোল্ড ব্যবহৃত হয়ে থাকে, যেমন- লাভ শেপ, কার্টুন শেপ, স্মাইলি শেপ, টেডি বেয়ার শেপ, ফ্লাওয়ার শেপ, মাফিন শেপ। এক্ষেত্রে ননস্টিক ডাইস সবচেয়ে ভালো।ডিমের সাদা অংশ ফোম করার কাজে এগবিটার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কেক বানানোর বিভিন্ন উপাদানও এটি দিয়ে বিট করা যায়। নোভা, নোকা, মিয়াকোসহ বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এগবিটার Jadroo Online শপে পাওয়া যায়।»
ফ্লেভার»
পছন্দ মতো ফ্লেভার ব্যবহার করুন, যেমন- ভ্যানিলা, লেমন, স্ট্রবেরি, চকোলেট, লেমন, ফ্রুটস ফ্লেভার এবং এসেঞ্জ।
নজল কেকের ওপর আমরা যেসব নকশা দেখি তা নজল দিয়েই বানানো হয়। বিভিন্ন সাইজ এবং ডিজাইনের নজল বাজারে পাওয়া যায়। ডেকোরেটিং পেন দিয়েও এ কাজ সম্পন্ন করা যায়।
প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো এক জায়গায় নিয়ে নিন।
 
উপকরণসমূহ»
ময়দা ১ থেকে ১/২ কাপ
ডিম ৪টি
তেল ১/২ কাপ
চিনি ১ কাপ
লবণ পরিমাণ মতো
বেকিং পাউডার ১ থেকে ১/২ চা
তরল দুধ ১/৩ কাপ
ভ্যানিলা ফ্লেভার বা এসেঞ্জ ২ চা চামচ
চারটি ডিম ভেঙ্গে এগ সেপারেটর দিয়ে কুসুম আলাদা করে নিন। সাদা অংশটুকু এগ বিটার দিয়ে ভালো মতো বিট করে নিন ক্রিমি না হওয়া পর্যন্ত। এরপর এক কাপ চিনি এবং আধা কাপ বা একটু কম তরল দুধ মিশিয়ে আবারও ভালোভাবে বিট করে নিবেন। আপনার যদি ডায়াবেটিস জনিত কোন সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে সুগার বিট ব্যবহার করুন অথবা চিনি কম খাওয়ার প্রবণতা থাকে তবে চিনি কম দিতে পারেন। কেক বানাতে আইসিং সুগার ব্যবহার করুন অথবা শিল পাটায় বেটে মিহি গুড়া করে নিতে পারেন। কারণ, গুড়া চিনি হলে কেক ভালো হয়। এবার তেল এবং ভ্যানিলা মিশিয়ে বিট করুন।
 
আপনি যদি গান ভালোবাসেন তবে মিউজিক প্লেয়ারে গান প্লে করতে পারেন। আমি কাজ করতে করতে গান শুনতে ভালোবাসি। গান শুনতে শুনতে বাকি কাজটুকু সেরে নিন।
 
এরপর ময়দা, বেকিং পাউডার এবং ডিমের কুসুম স্পেচুলা দিয়ে মিশিয়ে নিন। প্রয়োজনে হাত দিয়ে মেশান। যাতে করে দলা দলা না থাকে।
 
এবার প্যানে অয়েল ব্রাশ দিয়ে তেল লাগিয়ে নিন। তার ওপর বেকিং পেপার বিছিয়ে কেকের মিশ্রণ ঢেলে দিন।
 
এবার ইলেক্ট্রিক ওভেনে ১৭০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ৪০ মিনিট বেক করুন। কেক টেস্টার দিয়ে অথবা টুথপিক দিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন হয়েছে কি না। হয়ে গেলে ওভেন থেকে বের করে ঠাণ্ডা হলে স্লাইসার দিয়ে কেটে পরিবেশন করুন মজাদার ভ্যানিলা কেক। আর কোন অনুষ্ঠান থাকলে কেক ডেকোরেশন স্ট্যান্ডে ডিসপ্লে করুন। তারপর পিস পিস করে কেটে পরিবেশন করুন।
 
আজকে এখানেই ক্ষ্যান্ত দিব। অন্য কোন দিন কথা বলবো চুলা এবং রাইস কুকারে কেক বানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে