» ব্রেকিং নিউজ » একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মনসুর উল করিম না ফেরার দেশে

 
এস,আহমেদ ডেক্স প্রতিবেদন » চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম আজ সোমবার ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টায় ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকলকে রেখে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।
দীর্ঘদিন তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। কদিন পূর্বে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের সাথে আলোচনা করে সময় নির্ধারণ করে রাজবাড়ীর জেলা সদরের বুনন আর্ট প্রাঙ্গনের তার দাফন অনুষ্ঠিত হবে।
মনসুর উল করিম। পেশায় শিক্ষক (অধ্যাপক, চারুকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) নেশায় চিত্রশিল্পী।খ্যাতিমান এশিল্পী রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার কালিকাপুর গ্রামে ১ মার্চ ১৯৫০ জন্মগ্রহন করেন। বাবা আবদুল জলিল ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। মা ফাতেমা খাতুন। দুইজনই প্রয়াত। তার ডাকনাম ঠান্ডু।ছবি আঁকার প্রতি শৈশব থেকে আকর্ষণ ছিল প্রচণ্ড। শ্রেণীকক্ষেএক শিক্ষক কবিতা পড়ার সময় তিনি তন্ময় হয়ে শুনতেন আর সেই কবিতা অবলম্বনে ছবি আঁকতেন। তবে নিয়মিত আঁকা শুরু করেন ১৯৬৭ সালে ঢাকা চারু ও কারুকলা কলেজে পড়ার সময় থেকে। প্রথম একক প্রদর্শনী হয়েছে ১৯৭২ সালে সিলেটে, সিলেট অফিসার্স ক্লাবের আমন্ত্রণে। আমার প্রকাশনা বলতে তাত্পর্যপূর্ণ প্রদর্শনীর কথা বলা যায়। দেশে-বিদেশে একক প্রদর্শনী করেছেন ১৭টি। দলীয় প্রদর্শনী ৬০টিরও বেশি। উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে ২০০৮ সালে ঢাকার বেঙ্গল ফাইন আর্টস গ্যালারিতে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত বাংলাদেশ চিত্র প্রদর্শনী, শিল্পকলা একাডেমীতে বাংলাদেশ এশিয়ান আর্ট বেইনাল, জাতীয় চিত্র প্রদর্শনী, জাপানের ইয়োগো আন্তর্জাতিক (পেইন্টিং) চিত্র প্রতিযোগিতা, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের এশিয়ান আর্ট ওয়ার্কশপ, শিশু একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমী, চিটাগং ক্লাব এবং টিআইসিতে আয়োজিত প্রদর্শনী। জাপান, কুয়েত, ব্রিটেন, দিল্লিসহ আন্তর্জাতিক অনেক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। তার চিত্রপটের প্রধান বিষয় মানুষ। চিত্রে মাটি ও মানুষের জীবনগাথা তুলে ধরতে বেশ পছন্দ করতেন।এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক প্রদর্শনীতে পুরস্কৃত হয়েছেন অনেকবার। শিল্পকলা একাডেমী অ্যাওয়ার্ড, এশিয়ান বিয়েনালে গ্রান্ড পুরস্কার, ত্রিবার্ষিক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে গ্রান্ড পুরস্কারের কথা উল্লেখ করা যায়। দেশেও সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছিলেন একাধিক। সরকারিভাবে একুশে পদক পেয়েছি ২০০৯ সালে।
শিক্ষকতার প্রতি তার প্রবল আকর্ষণ ছিল। ১৯৭৫ সালে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। বিভিন্ন সময় পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে একই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তিনি এক সাক্ষাতে বলেন আমার প্রেরণা আমার বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া অনুপ্রেরণা পেয়েছি আমার স্কুলের বাংলার শিক্ষক গফুর স্যারের (আবদুল গফুর)। তিনি শ্রেণীতে কবিতা পড়াতেন আর আমাকে দিয়ে সেই কবিতা অবলম্বনে ছবি আঁকাতেন কালোবোর্ডে।
আমার জন্ম একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে। এ রকম পরিবারের সদস্য হয়ে ছবি আঁকার মতো ব্যয়বহুল বিষয়ে অধ্যয়ন করা ছিল আমার স্বপ্নের বাইরে। তারপরও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও তাঁদের অনুপ্রেরণাকে সম্বল করে ছবি আঁকার চেষ্টা করেছি। চট্টগ্রামে এসে অনুপ্রেরণা পেয়েছি আমার সহধর্মিণীর কাছ থেকে। যে আমার ছবি আঁকার পথকে আলোকিত করেছে। আমার শিল্পী সত্তার অনুপ্রেরণার আরেকজন শিল্পসাধকের কথা না বললেই নয়। তিনি আমার শিক্ষাগুরু ও পথপ্রদর্শক চট্টগ্রাম বিশ্বদ্যািলয়ের চারুকলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত শিল্পী রশিদ চৌধুরী।