ঠাকুরগাঁওয়ে বালুর অভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ

 

আব্দুল কাদের জিলানী ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ আজ শুক্রবার(৯অক্টোবর)ঠাকুরগাঁওয়ে বালু উত্তোলকারীদের বালু তোলা বন্ধ রয়েছে সব ধরনের নির্মাণ কাজ। এসব কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে জেলার ঠিকাদার এবং নির্মাণাধীন বাসা বাড়ির মালিকেরা।বালু নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে চরম নাটকীয়তা। বালু উত্তোলকারীদের অবৈধ আখ্যা দিয়ে করা হচ্ছে জরিমানা। আবার রাতের অন্ধকারে কেউ কেউ বালু উত্তোলন করছে। বালুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় থমকে গেছে নির্মাণ কাজ।বেড়ে গেছে ঘাট জমা ও পথের চাঁদাবাজি।ঠিকাদাররা নদী থেকে বা নদীর কিনারা থেকে বালু উত্তোলন করতে চাইলে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম জেলায় বালু মহাল নেই ঘোষণা দিয়ে জেলার বিভিন্ন নদী বা কিনার থেকে বালু উত্তোলন অবৈধ ঘোষণা করেন।

এর আগে টাঙ্গণ নদীর দুটি বালু উত্তোলনের ঘাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দিনের বেলায় নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে দেখলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হচ্ছে। এতে করে রাতারাতি বালুর দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে ঠিকাদার এবং নির্মাণাধীন বাসা বাড়ির মালিকেরা পড়েছেন বিপাকে।কিছুদিন আগেও এক ট্রলি (১০০ সিএফটি) বালু বিক্রি হয়েছে ৯০০ টাকা থেকে এক হাজার ১০০ টাকার মধ্যে। সেই বালু এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা দরে। কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি দরে।বালুর দাম বাড়লো জানতে চাইলে লিমন নামে একজন ট্রলি ড্রাইভার জানান, এখন লুকিয়ে বালু আনতে হয়। ঘাট জমা ৫০০ টাকা, রাস্তায় চাঁদা দিতে হয় ৩০০ টাকা, সবমিলিয়ে খরচই হয় হাজার টাকার ওপরে। আগে এ খরচ ছিল মাত্র ২০০/৩০০ টাকা।
জেলার বিশিষ্ট ঠিকাদার ও তিন বারের জেলার শ্রেষ্ঠ করদাতা শওকত আলী সোহেল বলেন, ‘যেখানে বালুর অভাবে শুধু ঠাকুরগাঁও পৌরসভারই প্রায় ১৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে আছে। সেখানে বুঝতে হবে সব ধরনের উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে একমাত্র বালুর অভাবে।

তিনি জনান,ঠাকুরগাঁওউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। রাতের বেলা আমরা দুয়েকটি ঘাটে অভিযান পরিচালনাও করেছি। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে রাতের বেলা সবসময় সেটা সম্ভব হয়ে ওঠেনা।ইতোমধ্যে আমি একটি প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসকের কাছে পেশ করেছি। পীরগঞ্জ থেকে করা হয়েছে তিনটি বালু মহালের প্রস্তাবনা। এগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই ও ছাড়পত্র প্রাপ্তির পরই বালু মহাল ঘোষণা হতে পারে। আমি আরও দুটি বালু মহালের প্রস্তাবনাও পেশ করব বলে চেষ্টা করছি।’’

তিনি আরোও বলেন,বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এই মুহূর্তে বালু মহাল নেই, সেজন্য পাশের জেলা দিনাজপুর অথবা প গড় থেকে বালু এনে কাজ করা যেতে পারে।এদিকে, দিনাজপুর বা প গড় জেলা থেকে বালু আনার কথা শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলার কয়েকজন ঠিকাদার।

পাশের জেলা থেকে বালু আনতে গেলে এক ট্রলি বালুর দাম পড়বে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা, যা দিয়ে কোন ঠিকাদারের পক্ষেই কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবেনা। তাছাড়া বালু মহাল ঘোষণা দেয়ার আগে জেলা প্রশাসন, পিডাব্লিউডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, রোডস এন্ড হাইওয়েজ, ফায়ার সার্ভিসসহ ৬-৭টি বিভাগের কাছ থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হয়। যা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈলে নদী বা অন্য জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার দায়ে অনেককে জরিমানা করা হয়েছে। কারাগারেও পাঠানো হয়েছে।

জেলার সচেতন মহল, শ্রমিক, ঠিকাদার সবার দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করে ও ছাড়পত্র নিয়ে বালু মহাল ঘোষণা করে উপযুক্ত মূল্যে ইজারা দেয়া হোক।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও জেলায় কোন বালু মহাল নেই। আগে দুটি বালু মহাল ছিল সেটা বাতিল হয়েছে। এখন কোন কোন জায়গা বালু মহাল ঘোষণা করা যায় তা জরিপ করার জন্য আমি নির্দেশনা দিয়েছি। কিছুটা সময় লাগলেও কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পারি আমরা বালু মহাল ঘোষণা এবং ইজারা দেয়ার ব্যবস্থা করব। এ বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথেও কথা বলছি।’