ধুলায় নাকাল নগরবাসী দূষণ প্রতিকারে নির্বিকার

 
ধুলা দূষণে নাকাল নগরবাসী। ধুলা এখন নগরবাসীর কাছে আরেক বিড়ম্বনার নাম মহানগরীতে ধুলা দূষণের প্রকোপ অত্যন্ত বেড়ে যায়। মহানগরীতে সঠিক পরিকল্পনা ব্যতীত কোন সমন্বয় ছাড়াই গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, শহররক্ষায় ড্রেনেজ এবং ফ্লাইওভার, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ইত্যাদি সেবামূলক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাস্তা-ঘাট খোঁড়া-খুঁড়ির পরিমান বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্ষেত্রে চসিকর করা সদ্য পানিথেকে শহররক্ষায় ড্রেনেজের কাজ করা হয় সে সব ভেঙ্গে আবার সেই কাজ করার অভিযোগ উঠছে কারণ অপ্রয়োজনীয় ড্রেনেজ পূণনির্মানের নাামে অর্থের অপচয় করা হচ্ছে শহররক্ষায় ড্রেনেজ প্রকল্পটি। এমনকি মাটি, বালিসহ এ ধরণের নানা সামগ্রী আচ্ছাদনহীন অবস্থায় রাস্তার পাশে স্তুপ করে রাখা, দোকান পাট ও গৃহস্থালীর আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে রাখা, মেরামতহীন ভাংগাচোরা রাস্তায় যানবাহন চলাচল, পাকা ভবন নির্মাণের সময় নিয়ম না মেনে নির্মাণ সামগ্রী দীর্ঘদিন যত্রতত্র ফেলে রাখা, রাস্তার দু’পাশে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা, ইট-পাথর মেশিনে ভাঙ্গা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ইত্যাদি ধুলা দূষণ সৃষ্টি করে। এরকম অসংখ্য উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ ধূলা বাতাসে মিশে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে আমাদের নিঃশ্বাস। পরিসেবা প্রদানকারী সংস্থাসমূহ কর্তৃক অবকাঠামো তৈরি, সম্প্রসারণ ও মেরামত করার সময় খননকৃত মাটি ও অন্যান্য সামগ্রী রাস্তায় ফেলে না রেখে দ্রুত অপসারণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়ে থাকে। বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ দেখানো হলেও এ অর্থের সঠিক ব্যবহার দৃষ্টিগোচর হয় না। বর্তমানে ধূলা দূষণ প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধূলা দূষণে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ধূলাজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ। ধুলা দূষণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। ধুলা দূষণের ফলে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে ধুলাজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে রোগ জীবাণুমিশ্রিত ধুলা ফুসফুসে প্রবেশ করে সর্দি, কাশি, ফুসফুস ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস, শ্বাসজনিত কষ্ট, হাঁপানী, যক্ষা, এলার্জি, চোখ জ্বালা, মাথা ব্যথা, বমি ভাব, চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী। এরমধ্যে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরাই ধুলা দূষণের ফলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধূলার কারণে দোকানের জিনিসপত্র, কম্পিউটারসহ নানা ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ঘরবাড়ি আসবাবপত্রসহ কাপড় চোপড়ে ধূলা জমে যেভাবে প্রতিদিন নগর জীবনকে নোংরা করছে, তা পরিচ্ছন্ন রাখতেও নগরবাসীকে নষ্ট করতে হচ্ছে হাজার হাজার শ্রমঘণ্টা ও বিপুল পরিমাণ পানি এবং ডিটারজেন্ট। আর এসব পরিষ্কারক দ্রব্যের পরবর্তী গন্তব্য হচ্ছে নদী, লেক, জলাধারসমূহ। যা জলজ প্রাণীসহ সামগ্রিক জীববৈচিত্রের জন্যও ক্ষতিকর। কাপড়-চোপড় ইস্ত্রি করতেও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। অতিরিক্ত পানি, বিদ্যুৎ ও ডিটারজেন্ট ব্যবহারের ফলে পারিবারিকভাবে আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। মহানগরীর প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারকে ধূলা দূষণের কারণে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৪,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। ধুলা দূষণের কারণে বৃক্ষের সালোকসংশ্লেষণে বাধার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও ধুলা দূষণের ফলে মূল্যবান প্রততাত্বিক নিদর্শন, ইমারত, কলকারখানা, যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন স্থাপনায় মরিচা পড়ে সেগুলোর আয়ুষ্কাল কমিয়ে দিচ্ছে। এই সর্বগ্রাসী ধূলা দূষণে নগরবাসী অতিষ্ঠ, জনদূর্ভোগ চরমসীমায়। সুতরাং জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় অবিলম্বে ধুলা দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরী। শহরের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে অচিরেই ধূলা দূষণের উৎসসমূহ বন্ধ করতে হবে। পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের লাইনের খোঁড়াখুড়ির সময় যাতে ধূলা দূষণ না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। ভবন নির্মাণ এবং ভাঙ্গার সময় যথাযথ নিয়ম মেনে তা করতে হবে। ড্রেনের ময়লা এবং রাস্তা ঝাড়– দিয়ে ময়লা আবর্জনা জমিয়ে না রেখে সাথে সাথে অন্যত্র অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। গৃহস্থালী ও বাজারের ময়লা সঠিক নিয়মে দ্রুত সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ময়লা পরিবহণের গাড়িগুলোতে ভালোভাবে আচ্ছাদিত করে ময়লা পরিবহণ করতে হবে। ধূলা দূষণের সাথে জড়িত দায়ী ব্যাক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সর্বোপরি ধূলা দূষণের সকল উৎস বন্ধে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং প্রয়োজনে লোকবল বৃদ্ধি ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং বৃদ্ধি করতে হবে এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে ধূলাদূষণ নির্মূলে এলাকাভিত্তিক করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে ধুলা দূষণের কারণে শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেড়ে যায়। শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে রোগীর প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগে ভর্তি হয়ে থাকে।