নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান:প্রধানমন্ত্রী

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান,কোভিড-১৯ মোকাবেলার পাশাপাশি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদারিপুর, ফরিদপুর এবং মৌলভীবাজার জেলার নব নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে একথা বলেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, করোনাভাইরাসকে যেমন মোকাবেলা করবো অপরদিকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও যাতে হয় সেদিকেও আমাদের বিশেষ ভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’ ‘কারণ, আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন, আদর্শ নিয়েই এ সংগঠন গড়ে উঠেছে।
এতে জনগণের সেবা করাই আমাদের কর্তব্য। সেই সেবার মনোভাব নিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখায় এবং করোনা মোকাবেলায় তাঁর সরকার ঘোষিত ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজের কথাও প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে তুলে ধরেন, বলেন প্রেস সচিব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,করোনাভাইরাস চিকিৎসায় ২ হাজার চিকিৎসক এবং ৬ হাজার নার্স নিয়োগের তথ্যও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।যেকোন অবস্থা মোকাবেলা করে আমাদের চলতে হবে। করোনাভাইরাসের মধ্যে এলো আম্পান ঘূর্ণিঝড়, এরপর এলো বন্যা। একে একে সব মোকাবেলা করেই আমাদের চলতে হচ্ছে।কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই আজকে মানুষজন সেবা পাচ্ছে, আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছি।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা নবনির্বাচিত তাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে আপনারা জানেন আওয়ামী লীগ একটা আদর্শ নিয়ে চলে।’এ দেশের বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই এই সংঠনটা গড়ে উঠেছিল। এটা ক্ষমতায় বসে গড়ে তোলা কোন সংগঠন নয় বরং সাধারণ মানুষ যেখানে শোষিত-বঞ্চিত ছিল, সরকার যাদেরকে অবহেলা করতো সেই সরকারের বিরুদ্ধে গণ মানুষের কথা বলার জন্যই এই সংগঠনটা গড়ে উঠেছে,’ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন প্রেস সচিব।

প্রেস সচিব জানান, আমাদের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬ দফা এবং ’৭০ এর নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধে বিজয়। জাতির পিতা আওয়ামী লীগকে নিয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেই অর্জন করেছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরোও জানান,আপনারা আজ নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। জনগণের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব আছে।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ফরিদপুর জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. শামসুল হক, মাদারিপুরের মুনীর চৌধুরী এবং মৌলভীবাজার জেলার নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিসবাহুর রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। গত ২০ অক্টোবর উপ নির্বাচনে এই তিনটি আসনের প্রার্থীরা জয় লাভ করেন।স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টচার্য সচিবালয় প্রান্তে এবং পিএমও সচিব তোফাজ্জ্বল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণকারীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদেরও দায়িত্ব রয়েছে দেশের মানুষের কথা চিন্তা করার এবং একটা জেলার সার্বিক উন্নয়নের দিকে দৃষ্ঠি দেওয়ার।’

জাতির পিতা ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রেীকরণের জন্য সে সময়কার ১৯টি জেলার যে মহকুমা ছিল সেগুলোকেও জেলায় উন্নীত করে ৬০টি জেলা সৃষ্টি করেন এবং এজন্য একজন করে গভর্নর নিযুক্ত করেন। এভাবেই জনগণের সার্বিক কল্যাণে তিনি কাজ শুরু করলেও তা শেষ করে যেতে পারেননি, বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের কমিউনিটি ক্লিনিক করে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া, ছেলে- মেয়েদের স্কুলে ভর্তিসহ বিনামূল্যে বই, বৃত্তি, উপবৃত্তি এবং মায়ের নামে মোবাইল ফোনে টাকা পাঠানো থেকে শুরু করে তাঁদের জন্য সবরকম সুযোগ করে দেওয়াসহ স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন জাতি গড়তে ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি, প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র এবং প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি, কারণ, শিক্ষাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি, স্বাস্থ্যসেবাসহ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোকে আমরা পূরণ করছি, একই সাথে খাদ্য এবং পুষ্টি নিরাপত্তা বিধানেরও আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, মুজিববর্ষে আমাদের লক্ষ্য রয়েছে এই বাংলাদেশে একটা মানুষও ভূমিহীন বা গৃহহীন থাকবে না। আমরা সেভাবে পদক্ষেপ নিয়ে কোথায় কারা এভাবে আছে তাদেরকে আমরা ঘর-বাড়ি তৈরী করে দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকেও আমরা যেমন দিচ্ছি আমাদের সচিবরাও নিজ নিজ এলাকার গৃহহীনদের ঘর করে দিচ্ছেন এবং যার যেখানে সম্ভব সে সেভাবে সাহায্য করে যাচ্ছে। কাজেই, আমার মনে হয়, আপনারাও এ বিষয়টা অবশ্যই দেখবেন মুজিববর্ষে একটি লোকও যেন গৃহহীন না থাকে। সেইসাথে প্রত্যেক ঘরে আমরা আলো জ্বালবো।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছি, শতকরা ৯৭ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ইনশাল্লাহ ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী যখন আমরা পালন করবো প্রত্যেকের ঘরেই আলো জ্বলবে। সেভাবে পরিকল্পনা নিয়েই বাস্তবায়রে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তাঁর সরকারের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, রাস্তা-ঘাট ও ব্রীজ নির্মাণ থেকে শুরু করে নদীগুলো ড্রেজিং করে এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনছি। রেল পথ এবং আকাশ পথের উন্নয়নে বিমানের উন্নয়ন করেছি-এভাবে সব ক্ষেত্রেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, দুর্যোগ আসবেই এবং সে দুর্যোগ মোকাবেলা করেই আমরা এগিয়ে যাব। কারণ, জাতির পিতা নিজেই ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, ‘‘আমাদের (বাঙ্গালিকে) কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ কেউই দাবিয়ে রাখতে পারবে না। কাজেই, ইনশাল্লাহ আমরা এগিয়ে যাব এবং জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো।’

প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনা নব-নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, ‘আপনারা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, জনগণের সেবাটাই আপনাদের কাজ। সেই দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করবেন।’- বাসস