ব্রেকিং নিউজ » নগরজুরে বিদ্যুতের মহাভেলকি বাজি

আজ সোমবার(১৬নভেম্বর) সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের আসাযাওয়ায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। এ  বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ নগরবাসী।এতে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে কম্পিউটারসহ বিদ্যু সামগ্রী।ঘনঘন দীর্ঘ ক্ষণ বিদ্যু আসাযাওয়ায় বহুতলাভবনসহ বাসাবাড়িতে পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। রির্পোট লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যায় ভূতুরের নগরী পরিণত হয়েছে  এ শহর।
বয়স্ক ও শিশুদের সীমাহিন দূর্ভোগে পড়তে হয়েছে । এতে বেশি সময় ধরে অসহনীয় মাত্রায় লোডশেডিংয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস আদালতে কাজকর্মের গতি মন্থর হয়ে পড়ে। বিদ্যুতের এমন দুরবস্থা কবে নাগাদ কাটিয়ে উঠবে এর কোন জবাব নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে। এ অবস্থায় উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।দিনরাত মিলিয়ে আট থেকে দশবার বিদ্যুতের যাওয়া আসা করছে। এ কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালতে নেমে এসেছে স্থবিরতা।ঘনঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জনজীবন। বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরাও। অধিক সময় ধরে বিদ্যুতের এই ভেলকি বাজিতে অতিষ্ঠ পড়ে চট্রগ্রামবাসীরা।বিদ্যুতের  এই মহা ভেলকি বাজিতে নাজেহাল হয়ে পড়েছে পুরো ব্যবস্থা ।
স্থানীয়  ভুক্তভোগীরা জানান,ছেলেমেয়েরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ঠিক মত পড়া-লেখা করতে পারছে না তার উপর  মশার উপদ্রব। এছাড়া অফিস আদালতে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে জানান ।ব্যবসায়ীদের লোডশেডিংয়ে অধিকাংশ কল-কারখানায় পণ্য উৎপাদন কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’লোডশেডিংয়ের কারনে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে চট্টগ্রামে বেড়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ।সঙ্গে  বাড়ছে  বিদ্যুতের বিড়ম্বনা।জনগনের অভিযোগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দুর্বল সরবরাহ ব্যবস্থার কারণেই দিনে দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ থাকছে না।  বিদ্যুৎ  কতৃপক্ষের  মতে লোডশেডিংও নেই। তবে মাঝেমধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে কিছু এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে চট্টগ্রামে দৈনিক ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। সেখানে ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। তারপরও লোডশেডিং হচ্ছে মূলত সরবরাহ কর্র্তৃপক্ষের উদাসীনতায়। চট্টগ্রাম নগরের কোরবাণীগঞ্জ,মাষ্টারপুল,টেরিবাজার,বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় চলতি সপ্তাহে ব্যাপক লোডশেডিং হয়েছে প্রতিনিয়ত।দিনের বেলায় দুই-তিনবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরবন্দি দিন কাটছে সবার। কেউই আমরা প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছি না। এর মধ্যে দিনে ৪-৫ বার বিদ্যুৎ গেলে ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়ছে। কিন্তু অতিরিক্ত লোশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদার অনুপাতে সরবরাহের কোনো কমতি না থাকলেও চরম আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। এছাড়া ,নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থা।চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের কমতি নাই তবে সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে।তাই অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শপিংমল চলাকালীন বিদ্যু বিভ্রাটে সমস্যাটা আরো বেশি প্রকট হয়ে ওঠে।বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুত সরবরাহ ঠিক আছে। কিন্তু অতিরিক্ত লোডের কারণে বিদ্যুৎ সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। এতে করে নগরীতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের সঙ্গে পানি সংকটে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে মানুষের মাঝে। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ এবং রোগীদের নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন।