(চসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ভ‚তুড়ে শ্রমিক সংখ্যা

 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) দুইটি ওয়ার্ডে কর্মরত পরিচ্ছন্ন কর্মীদের অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেন পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্ম্মা। তিনি কর্মস্থলে ২৭ জন শ্রমিককে অনুপস্থিত পান। পরে এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সুপারভাইজারদের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছে চসিক। কেন বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? তা জানতে চেয়ে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে উত্তর দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান।
অন্যদিকে ভ‚তুড়ে শ্রমিক সংখ্যা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল ‘ডোর টু ডোর’ প্রকল্পের নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই নিয়ে করা তদন্ত কমিটি। চসিকের ‘ডোর টু ডোর’ প্রকল্পে কাজ করেন দুই হাজার ৬৫ জন পরিচ্ছন্নকর্মী। অভিযোগ রয়েছে বাস্তবে ততসংখ্যক পরিচ্ছন্নকর্মী কাজ করেন না। বিপরীতে এসব পরিচ্ছন্নকর্মীদের ডিজিটাল কোন হাজিরা নেই। এমনকি তিন দফায় কাজে যোগ দেন এসব পরিচ্ছন্নকর্মী। ফলে একসাথে যাচাইয়ের সুযোগও নেই।
অন্যদিকে শ্রমিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের কোন রেজিস্ট্রার খাতা সিটি কর্পোরেশনের নেই। তবে মাসপ্রতি দুই কোটির বেশি টাকা বেতন হয়েছে শুধুমাত্র সংখ্যা উল্লেখ করেই। তাই মূল সমস্যা কোথায়, তা বের করতে ব্যাংক হিসাব যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চসিক। তাই দ্বিতীয় দফা আরেকটি তদন্ত কমিটি করেছিল সংস্থাটি। যাতে সঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করে তা বের করা যায়। তবে এ কমিটি এখনও প্রতিবেদন জমা দেননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি আরও জানান, প্রতিজন শ্রমিকের বেতনের ব্যাংক হিসাব খোলার সময় দেওয়া কাগজপত্র এবং নিয়োগকৃত ব্যক্তির মধ্যে সামাঞ্জস্য খোঁজা হচ্ছে। তবে তিনিও আশা করছেন এখানে বড় ‘গোজামিল’ করেছে সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তারা।
গত ১২ নভেম্বর সিটি কর্পোরেশনের এক কৈফিয়ত তলবপত্রে বলা হয়, প্রশাসকের নির্দেশে পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্ম্মা পরপর দুইদিন সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নয় জন শ্রমিককে অনুপস্থিত পান। এমন ঘটনা ঘটে চসিকের ৪০ নং ওয়ার্ডে। তাই শ্রমিক পরিচালনায় অদক্ষতা ও অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থীর কারণ দেখিয়ে ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন সুপারভাইজার আবুল কালাম আজাদের কাছে কৈফিয়ত চান প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা। একই রকম ঘটনা ঘটে ৪১ নং ওয়ার্ডেও। যেখানে ১৮ জন শ্রমিককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তাই ওই ওয়ার্ডের সুপারভাইজার খোরশেদ আলমের কাছে পাঁচ দিনের মধ্যে কৈফিয়ত চেয়েছে সিটি কর্পোরেশন।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দুটি শর্তে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে দুই হাজার পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগ দেওয়ার অনুমতি প্রদান করে। শর্ত দুইটি হল নিয়োজিত শ্রমিকদের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কাজ ভিন্ন অন্য কোন কাজে নিয়োজিত করা যাবে না এবং দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরত সকল শ্রমিকের তথ্য ও অনুমোদনকৃত শ্রমিকের তথ্য নিয়োগ প্রদানের এক মাসের নির্দিষ্ট ছকানুসারে জমা দিতে হবে। কিন্তু দুইটি শর্তই মানেনি সিটি কর্পোরেশন।
দুই হাজার শ্রমিকের জায়গায় নিয়োগ দিয়েছে ২ হাজার ৬৫ জন এবং এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ে শ্রমিকদের তথ্য জমা দেয়নি সিটি কর্পোরেশন। এমনকি সংস্থাটির নিজের কাছেও নিয়োগকৃত শ্রমিকদের ছবিসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। তবে প্রতিমাসে দুইকোটি টাকারও বেশি বেতন গোনা হতো শুধুমাত্র শ্রমিকদের সংখ্যা উল্লেখ করেই। তাছাড়া মাসপ্রতি প্রদেয় বেতনের মোট টাকায়ও নেই সামাঞ্জস্য। মাসের পর মাস পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যার বিপরীতে তদন্তদলকে কোন সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি পরিচ্ছন্ন বিভাগ। তবে সাবেক মেয়রের মৌখিক নির্দেশের কথা বলেই নিয়মতান্ত্রিক সব ধরনের অসচ্ছতার দায় সেরেছেন পরিচ্ছন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলরা। এমনটাই জানা গেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে।
সরকারি সংস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্রে যে নিয়ম রয়েছে, তার কোনটাই মানা হয়নি ডোর টু ডোর পরিচ্ছন্নকর্মীদের নিয়োগের সময়। নিয়মরক্ষার একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে দায় সেরেছে সংস্থাটি। এমনকি বিজ্ঞাপনটিতে উল্লেখিত শর্তাবলী কোনটাই মানার প্রমাণ পাননি তদন্ত কর্মকর্তারা।