সিরাজগঞ্জে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাতেই জঙ্গির ঘাঁটি

 
শুক্রবার (২০ নভেম্বর) ভোর রাতে র‌্যাব এ অভিযান শুরু করে।অভিযানে দুটি পিস্তল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও জিহাদি বইসহ প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয় সকাল ১১টায় জঙ্গিরা র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
 
আটককৃত জঙ্গিরা হচ্ছে, পাবনা-সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক আমির কিরণ (২২) ওরফে শামিম ওরফে হামিম। সে জেএমবির রাজশাহী বিভাগীয় কমান্ডার মাহমুদের সেকেন্ড ইন কমান্ড। আটক হামিমের অপর ৩ সহযোগী পাবনার সাঁথিয়ার নাঈমুল ইসলাম (২২), দিনাজপুরের আতিয়ার রহমান ওরফে কলম সৈনিক (৩৩) ও সাতক্ষীরার আমিনুল ইসলাম শান্ত (২২)।
 
অভিযানে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ শেষে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় রাজশাহী শাহ মখদুম থানা এলাকায় জেএমবির রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক সভা চলাকালীন সময়ে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক আমির মাহমুদ ওরফে জুয়েল (২৪) সহ চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্য মতে, শাহজাদপুরের শেরখালী উকিলপাড়া অস্থায়ী আস্তানায় অভিযান চালায় র‌্যাব।’
 
তিনি জানান, ‘শুক্রবার ভোর রাতে জঙ্গিরা র‌্যারের উপস্থিতি টের পেয়ে ৪ থেকে ৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এ সময় কৌশল অবলম্বর করে র‌্যাব তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালে সকাল সাড়ে ১০টায় ৪ জঙ্গি আত্মসমর্পন করে। জঙ্গিদের আত্মসমর্পণকালে ওই আস্তানা থেকে গুলি ভরা দুটি বিদেশি পিস্তল, গুলির খোসা, গান পাউডার, বোমা তৈরির ডেটোনেটর, লোহার স্প্রিন্টার, জিহাদি বই, পতাকা ও জঙ্গি প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।’
র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও জানান, ‘কোনভাবেই দেশে জঙ্গি, সন্ত্রাসীদের ঘাটি গড়তে দেয়া হবে না। উত্তরাঞ্চলের কিছু কিছু স্থানে যখনই জঙ্গিদের অবস্থানের আমরা সন্ধান পাচ্ছি, সেখানেই অভিযান চালাচ্ছি। গত ২৪ দিন ধরে শাহজাদপুরে মূলত জঙ্গিরা তাবলিগ জামাতের অন্তরালে প্রাথমিকভাবে তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছিল। অস্থায়ী এই আস্তানায় জেএমবি সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলে আসছিল।’