মুক্তিযুদ্ধা আলী যাকেরকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

বরেণ্য অভিনেতা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকেরের মরদেহ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আলী যাকেরকে শ্রদ্ধা জানাতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন।

শুক্রবার বাদ আসর বনানী কবরস্থানের মসজিদে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।

এর আগে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং জাদুঘরটির অন্যতম ট্রাস্টি।   সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী যাকেরকে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। দেশের শিল্প-সাংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনের বিশিষ্টজনরা আলী যাকেরকে শেষ শ্রদ্ধা  তাকে

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জাানান দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে।একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য এ অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে দেশের শিল্প-সাংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত হন। যেখানে ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, মফিদুল হক প্রমুখ।আলী যাকেরের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহের পাশে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী নাট্যজন সারা যাকের, ছেলে ইরেশ যাকের ও মেয়ে শ্রিয়া সর্বজয়া।

দীর্ঘ চার বছর ক্যানসারে আক্রান্ত আলী যাকের রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে আজ শুক্রবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ৭৬ বছর বয়সী বরেণ্য অভিনেতা আলী যাকেরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের রতনপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন আলী যাকের। গত ৬ নভেম্বর নিজ বাসায় ঘরোয়া আয়োজনে ৭৬তম জন্মদিন পালন করেন এই অভিনেতা।

১৯৬০ সালে সেন্ট গ্রেগরি থেকে ম্যাট্রিক পাস করে নটরডেমে ভর্তি হন আলী যাকের। সেখান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন তিনি। এরপর সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক করেন। অনার্স পড়াকালেই ছাত্ররাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন।

আলী যাকের তাঁর অভিনয়জীবন শুরু করেন ১৯৭২ সালে। আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে মামুনুর রশীদের নির্দেশনায় মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকটিতে প্রথম অভিনয় করেন, যার প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে। এরপর জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বহুব্রীহি’ ও ‘আজ রবিবার’-এ অভিনয় করে আলোচনায় আসেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক পেয়েছেন এই গুণীজন। বর্তমানে আলী যাকের বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির কর্ণধার। আলী যাকের ১৯৭৫ সালে অভিনেত্রী সারা যাকেরকে বিয়ে করেন।