সর্বত্র শর্ত ভেঙে চলছে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রতিযোগিতা » সরেজমিন ঘুরে এ নগরে

সর্বত্র শর্ত ভেঙে চলছে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রতিযোগিতা » সরেজমিন ঘুরে এ নগরে
Alorkantho24 LIVE
সরকারও সব কিছু স্বাভাবিক করার সুযোগ দিয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ মানছে না অপরিহার্য স্বাস্থ্যবিধি।কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ মানছে না অপরিহার্য স্বাস্থ্যবিধি। ঘুরে এমন চিত্র তুলে এনেছেন
পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে চালকের হেলপার বা সহকারী হিসেবে কাজ করেন রুটে দৈনিক দুই থেকে তিনবার আসা-যাওয়া করতে হয় । প্রতিদিন বাসা থেকে মাস্ক নিয়ে বের হন ঠিকই, তবে প্রথম ট্রিপের পরে মাস্কের আর হদিস থাকে না তাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার ২৫ ডিসেম্বর বেলা ৯টার দিকে মাস্ক ছাড়াই চালাচল করছেন পরিবহনের যাত্রীবাহী চালকেরা। মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘যানবাহনে যতক্ষণ থাকি, ততক্ষণই যাত্রী ডাকতে হয়। মাস্ক পইরা ডাকলে যাত্রীরা শুনে না, আবার মাস্ক পইরা ডাকলে মুখের থুতু মাস্কে লাইগে থাকে। তাই সব সময় মাস্ক মুখে পরে রাখতে পারি না। কারো মুখেই ছিল না মাস্ক। অথচ বিশেষজ্ঞরা বারবার বলে আসছেন, নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রধান হাতিয়ার মাস্ক। টিকা না আসা পর্যন্ত মাস্কই ভরসা। অথচ নগরীর চকবাাজার আগ্রাবাদ আন্দরকি্লার সামনে ভিড়ে সেই মাস্ক দেখা যায় কারো হাতে, কারো থুতনিতে। কেউ আবার রেখে দেন পকেটে স্বাস্থ্যবিধি না মানার দলে যাত্রীরা ও উদাসীন । নানা বিষয়ে আলাপ করতে করতে ধূমপানও করছিলেন অনকে। স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণ জানতে চাইলে একজন বলেন, ‘কীসের করোনা? দেখেন তো কেউ মানছে কি না? সকলেই গা ঘেঁষে হাঁটাচলা করছে। এই নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নাই, যা হবার হবে। দেশের কোথাও কেউ মানে না, আমরা মেনে আর কী হবে?’
মাস্কের সঠিক ব্যবহার না করলে জরিমানা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়টি জানেন কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘এখনো আমার চোখে পড়েনি। আপনারা কোথায় দেখেন অভিযান? অভিযান সঠিকভাবে চললে জরিমানার ভয়ে মাস্ক ছাড়া কেউ বাসা থেকে বের হতো না।’
কোতোায়ালির আশপাশের এলাকায় রিকশা চালাচ্ছিলেন । তাদের মুখে মাস্ক ছিল না। কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘গরিব লোকের রোগ-শোক হয় না। দেহেন এ রোগে ধনী কতজন মারা গেছে আর গরিব কয়জনরে করোনা ধরছে। গরিব মানুষের এসব রোগ হয় না। এত দিন যাবৎ মাস্ক পরি নাই, কই আমাগো তো কিছু হয় নাই।’ মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পেটের টানে বাইর হইতে হয়, কত জায়গায় যাই। কত মানুষকে নিয়া যাই। কার গায়ে করোনা আছে, কেমনে কমু? মাস্ক পইরা থাকলেও তো করোনারে ঠেকান যাইব না।’
শীতে কোভিড সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে প্রচারসহ নানা তৎপরতা চালাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান। মাস্ক না পরলে জরিমানাও করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এত কিছু সত্ত্বেও মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখা যায় বেশির ভাগ এলাকায়।