প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৯ লাখ পরিবার বাড়ি পাচ্ছে

 

মুজিববর্ষে কোনো মানুষই আর গৃহহীন থাকবে না। বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদেশের প্রায় ৯ লাখ পরিবার বাড়ি পাচ্ছে। এরই মধ্যেই বেশ কিছু স্থানে বাড়ি হস্তান্তরও করা হয়েছে। আগামী ১৬ মার্চের মধ্যেই গৃহহীন পরিবারগুলোকে বাড়ি বুঝিয়ে দেয়া হবে।

দুই শতাংশ খাস জমির উপর দুই কক্ষ বিশিষ্ট আধা-পাকা ঘর, সংযুক্ত টয়লেট ও রান্নাঘর- এরকম বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। ভূমি ও গৃহহীনরাই পাবেন এসব বাড়ি। এরই মধ্যে বাড়ি বুঝিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

ফরিদপুরের। জেলার ৭ উপজেলার ১ হাজার ৪৭০টি গৃহহীন পরিবার জমিসহ ঘর পাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তদারকিতে ঘর তৈরির কাজ শেষদিকে। শুরু হয়েছে বুঝিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া।

আনন্দের ঝিলিক ভূমি ও গৃহহীন পরিবারগুলোর চোখেমুখে। সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

গৃহহীনরা জানান, পাকা ঘর পেয়েছি এ জন্য শেখের বেটিকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের ঘর ছিল, জায়গা ছিল, বাড়ি ছিল থাকতাম পরের জায়গায়।

ফরিপুরের মতো লালমনিরহাটে বাড়ি পাচ্ছে ৯৭৮টি পরিবার। পর্যায়ক্রমে জেলার ৫ হাজার ৮১৩টি পরিবার বাড়ি পাবে।

বাড়ির কাজের অগ্রগতি দেখে খুশির জোয়ারে ভাসছে ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের সদস্যরা।

ভূমিহীন জানান, আনন্দ লাগছে এখন দালান বাড়ি-ঘর পাচ্ছি। বিদ্যুৎ, পাকা রাস্তা সবকিছুই মিলিয়েই আমরা এখন অনেক খুশি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারাদেশের ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি পরিবার বাড়ি পাচ্ছে। প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে খরচ ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। মোট ব্যয় ১৫ হাজার ৮২ কোটি টাকা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে ৭০ হাজার ঘরের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। পর্যায়ক্রমে ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি ঘর তৈরি হবে এবং ভূমিহীনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপরে যদি কেহ গৃহহীন থাকে আবার তালিকা করে তাদেরকে ঘর দেয়া হবে।

গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয় মুজিববর্ষ। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে অহেতুক কর্মসূচি না দিয়ে জনকল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার মতো কর্মসূচি নেয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপরই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতদরিদ্রদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি দেয়ার প্রকল্প প্রস্তাব করে। মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি বিবেচনায় নিয়ে গৃহহীনদের ঘর উপহার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।