পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিমচাষে বাম্পার ফলন

আজ মঙ্গলবার(৫ জানুয়ারি) দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলা জুড়ে রাস্তঘাট, বাড়ি-ঘরের আঙ্গিনা, জমিতে, পাহাড়ী এলাকায় যেখানে সেখানে দেখা যায় শিমচাষ আর শিমচাষ। চোখ পেরানো যায় না রাস্তার দুই পাশে সবুজের সমারোহ শিমচাষে। দেখতে যেন শীতের উষ্ণতার সৌন্দর্য়ে ছোয়া লাগছে গায়ে। শুধু কৃষকেরা নয় ঘরের গৃহিনীরা শিমচাষ করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলার চেষ্টা করছে। শিম বিক্রির টাকায় এসব কৃষক এখন নিজেদের লাখপতি হিসেবেও পরিচয় দিতে পারছেন।শিমচাষে নিয়োজিত কৃষকদের মুখে এখন খুশির ঝিলিক। এ বছর দামের দিক দিয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরা আরও বেশি জমিতে শিম চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সময়ে বাজারে প্রতি কেজি ৪০/৫০ টাকায় বিক্রি হলেও চলতি বছর প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ টাকায়। পটিয়া, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় ইউনিয়নের শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে।

এতে সরেজমিন ঘুরে দেখা,চট্টগ্রাম,কক্সবাজার আরাকান সড়কের পাশে, পাহাড়ী অঞ্চলে, বাড়ি ঘরের আঙ্গিনায়, উচু ভূমি জমিতে শিমের চাষ করেছে কৃষকরা। এ বছর সার, বীজ, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী সুলভে পাওয়া যাওয়ায় কৃষকরা বেশি জমিতে শিমের চাষ করেছে। শিমের ফলন হয়েছে অন্যান্য বছরের তুলনায় দুই-তিনগুণ বেশি।

প্রথম দু’দফায় শিমের খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় দফায় চাষ করা খেত থেকে দেরিতে বাজারে আসা শিমের দামও বেড়ে যায় কৃষকদের চাহিদার অনেক বেশি। শিমচাষ এলাকা পটিয়া উপজেলার কেলিশহর, হাইদগাঁও, দক্ষিণ ভূষি, কচুয়াই, হাবিলাসদ্বীপ, ধলঘাট, খরনা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, ভাটিখাইন, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে শ্রীমতি খাল এবং কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা, জুলধা, বড়উঠান, চরপাথঘাটা, চরলক্ষ্যা ইউপিসহ এলাকা গুলোর রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য শিমের চাষ হয়েছে।
সাতকানিয়ার পুরানগড়, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, নলুয়া, আমিলাইষ এবং চন্দনাইশের ধোপাছড়ি, দোহাজারী, বৈলতলী, বোয়ালখালীতে করল ডেঙ্গাপাহাড়, জ্যেষ্ট্র্যপাড়া, গোমদন্ডী, বেঙ্গুরাসহ পুরো এলাকার বেশিরভাগ জুড়ে শোভা পাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন শিমের বাগান। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশেও শিমের চাষ করা হয়েছে। কেলিশহর এলাকার শিমচাষী নুর মোহাম্মদ সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক একরের মতো জমিতে শিমের চাষ করেছেন। এক একর থেকে তিনি এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই থেকে তিনলাখ টাকার শিম বিক্রি করেছেন। এক একর জমিতে তার শিমচাষ করতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
শিমচাষীরা জানান, শিমচাষীদের সার, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সুলভে পাওয়ার ব্যবস্থা করা হলে এ অঞ্চলে শুধু শিমচাষ থেকে আয় হবে কয়েক কোটি টাকা। শিমচাষিরা আরও জানান, কাঁচা শিমের বিচি একটি উপাদেয় তরকারি। বাজারে এটি বিক্রি হয় ভিআইপি তরকারি হিসেবে। স্থানীয় বাজারে কাইস্যা হিসেবে পরিচিত শিমের কাঁচা বিচির বাজারও এ বছর চড়া বলে জানালেন কৃষকরা। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা শিমের বিচি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫০/২০০ টাকা।
মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও কাঁচা শিমবিচির দারণ চাহিদা রয়েছে উল্লেখ্য করে কৃষকরা জানান, এ এলাকায় উৎপাদিত কাঁচা শিমবিচি বিদেশে রফতানি করা হলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। একাধিক কৃষকেরা জানান, শুধু শিমচাষ করে তারা কোটি কোটি টাকা আয় করছেন, সেখানে শিমচাষীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে সরকারের কোনো কর্মকর্তা তাদের কাছে কখনও আসেননি।
এখনও কৃষকরা তাদের নিজস্ব পুরনো ধ্যান-ধারণায় শিমের চাষ করে আসছেন। সব ধরনের আধুনিক পদ্ধতির সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এসব কৃষকের আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে শুধুমাত্র শিমচাষ করে এ অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে।
এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি অফিসার তরুণ কুমার চৌধুরী জানান, বর্তমান সময়ে শিমচাষ কৃষকদের ভাগ্য বদলের ফসল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলায় ১৭০ হেক্টর জমিতে শিমচাষ করা হয়েছে। শিমচাষ নিয়োজিত প্রায় ৪ হাজারো অধিক কৃষক।