করোনার ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা চট্টগ্রামে যত প্রস্তুতি

ভারত সরকারের উপহার হিসেবে বৃহস্পতিবার ২০ লাখ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছেছে। আর ভারতের সেরামের সাথে চুক্তি অনুযায়ী আরো ৫০ লাখ ভ্যাকসিন ২৬ জানুয়ারির মধ্যে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।ভ্যাকসিন প্রদানে ২৬ জানুয়ারি থেকে অনলাইনে নিবন্ধন শুরুর কথাও জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সবমিলিয়ে করোনার ভ্যাকসিন প্রদানে সার্বিক প্রস্তুতি চলছে দেশজুড়ে। জোর প্রস্তুতি চলছে চট্টগ্রামেও। কোথায়-কোথায় এই ভ্যাকসিন দেয়া হবে, সে কেন্দ্রও এক প্রকার চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন কেন্দ্রগুলোতে টিকাদানে টিম প্রস্তুতের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ২০ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডাইরেক্টর (এমএনসিএন্ডএএইচ) ও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. শামসুল হকের স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী ও চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি নির্দেশনা পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরই মধ্যে টিম প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই এসব টিমের প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন দুই কর্মকর্তা।
৬ সদস্যের সমন্বয়ে প্রতিটি টিম গঠনের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে- প্রতিটি টিকাদান টিমের জন্য ২ জন দক্ষ টিকাদান কর্মী এবং ৪ জন স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন করতে হবে। দক্ষ টিকাদান কর্মী হিসেবে নার্স, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মিডওয়াইফ ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার উল্লেখ করা হয়েছে। আর স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, নিরাপত্তাকর্মী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মী ও তদারককারী, পূর্বে টিকাদান ক্যাম্পেইন/রুটিন টিকাদান কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন স্বেচ্ছাসেবী, এনজিওকর্মী, মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার ও সমাজসেবায় আগ্রহী ব্যক্তিগণ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভলান্টিয়ারগণকে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্বেচ্ছাসেবীদের বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের উর্ধ্বে হতে হবে মর্মে উল্লেখ রয়েছে নির্দেশনায়। প্রসঙ্গত, ঢাকার বাইরে ভ্যাকসিন প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিএমএইচ (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল), অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল, বিজিবি হাসপাতাল, জেলা পুলিশ হাসপাতাল, জেলা সদর/জেনারেল হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙকে নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়েও কেন্দ্র করার কথা বলা হয়েছে।
কেন্দ্রভিত্তিক টিম ছাড়াও টিকাদানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য ৩০টি এবং সিভিল সার্জন অফিসে ২টি অতিরিক্ত টিম গঠনের কথা বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এদিকে, টিকাদান কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ২৫ জন অংশগ্রহণকারীর সমন্বয়ে এবং স্বেচ্ছাসেবীদের ওরিয়েন্টেশন প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ জন অংশগ্রহণকারীর সমন্বয়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক ব্যাচ প্রস্তুতের জন্য বলা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায়। এরই মধ্যে মহানগর ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় গিয়ে এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঢাকায় প্রশিক্ষণ নেয়া কর্মকর্তারাই মহানগর ও জেলা-উপজেলার টিমগুলোকে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। কয়েক দিনের মধ্যেই জেলা-উপজেলা পর্যায়ের টিমগুলোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।
এছাড়া টিকাদান কেন্দ্রের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে টিকা গ্রহণ পরবর্তী ৩০ মিনিট অপেক্ষার স্থান বিবেচনায় রাখতে এবং অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখতে বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ভ্যাকসিন গ্রহণে ৭ সদস্যের কমিটি : ঢাকা থেকে ভ্যাকসিন আসলে তা গ্রহণের জন্য ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে চট্টগ্রামে। সিভিল সার্জন এ কমিটির সভাপতি। অন্যান্যের মধ্যে জেলাপ্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, ইপিআই, ওষুধ প্রশাসন, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসারসহ মোট ৬ জনকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এ কমিটি গঠনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভ্যাকসিন পরবর্তী জটিলতা পর্যবেক্ষণে ১৪ সদস্যের বিভাগীয় কমিটি :
ভ্যাকসিন পরবর্তী জটিলতা পর্যবেক্ষণে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে চট্টগ্রামে। বিভাগীয় পর্যায়ে পোস্ট ভ্যাকসিন ইনফেকশন কন্ট্রোল নামে এ কমিটির চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক। কো-চেয়ারম্যান হিসেবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন সিভিল সার্জন। এ সংক্রান্ত কমিটি গঠনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর ও সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। কোভিড ভ্যাকসিন গ্রহণের পর গ্রহণকারীর শরীরে কোনো ধরণের জটিলতা (পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া) দেখা যাচ্ছে কী না, তা পর্যবেক্ষণ করবে এ কমিটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)’র পরামর্শক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামে ভ্যাকসিন কবে : দেশে এরইমধ্যে ২০ লাখ ভ্যাকসিন আসলেও চট্টগ্রামে ঠিক কখন এবং কত সংখ্যক ভ্যাকসিন পাঠানো হবে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই সিটি কর্পোরেশন ও সিভিল সার্জন অফিসে।
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী ও চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।