নগরীর লালদীঘি পার্কে পূর্ণিমার চাঁদের আলোতে জ্যোৎস্নার সৌন্দর্য উপভোগ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আজ ৩০ জানুয়ারি ২০২১ শনিবার, নগরীর লালদীঘি পার্কে ঐতিহাসিক লালদীঘি পার্কের আবহ। লালদীঘিটাও আজ অন্যরকম। হাসছে চাঁদের আলোয় রাত ৮টা থেকে জ্যোৎস্না উৎসব অনুষ্ঠানে পূর্ণিমা চাঁদের আলোতে সকল আলো নিভিয়ে দিয়ে ফানুষ উড়ানোর মধ্যদিয়ে পূর্ণিমার চাঁদের আলোতে জ্যোৎস্নার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি সংগীতানুষ্ঠান হয় ।পার্কের গাছগাছালির ভেতর উৎসবে কেউ মনে মনে, কেউবা নিচু স্বরে গাইছেন, আজ জ্যোৎন্সা রাতে সবাই গেছে বনে…
‘চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙেছে, উছলে পড়ে আলো।/ ও রজনীগন্ধা, তোমার গন্ধসুধা ঢালো।।… এ শহরে চাঁদের হাসির বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস

সংগীতানুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা লোকজ, ভাওইয়া, পল্লীগীতি, দেশাত্ববোধক ও রবীন্দ্র-নজরুলসহ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান পরিবেশন করেন।। জ্যোৎস্না উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালামসহ। নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে’ গানের সাথে মহিলা কলেজ সাংস্কৃতিক দলের সদস্যদের উদ্বোধনী সংগীত দিয়ে সূচনা হয় উৎসবের। এরপর একে একে আজ জ্যোৎন্সা রাতে সবাই গেছে বনে, মাতাল হাওয়াসহ নানা গানে মুগ্ধ করা হয় বিপুল সংখ্যক দর্শক-স্রোতাদের।
অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ছয় বছরে যা হয়নি মাত্র ছয় মাসে তা করে দেখিয়েছেন খোরশেদ আলম সুজন। তিনি আজ জ্যোৎন্সা উৎসবের আয়োজন করে আমাদের চিত্তে দোলা লাগিয়েছেন। তিনি যে সূচনা করলেন নবনির্বাচিত মেয়র তা অনুসরণ করে এই নগরীকে বিত্তের সাথে সাথে চিত্তেও উন্নত করবেন।
খোরশেদ আলম সুজন বলেন, সুপ্রাচীনকাল থেকে চট্টগ্রামকে বিশ্ব চেনে। ইবনে বতুতা থেকে সকলে এদেশে এসেছে এই শহর হয়ে। এ শহরের ঋদ্ধ ঐতিহ্য আছে। চিত্তের নয় বিত্তের শহর হোক এ চট্টগ্রাম। রায় বাহাদুর রাজ কুমার ঘোষ এ জমিটি দিয়েছিলেন পার্ক করার জন্য। মেয়র থাকাকালে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এ পার্ক করেছিলেন। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরী চলে যাবার পর অনাদরে-অবহেলায় এই লালদীঘি মুখ থুবড়ে পড়ে। আমি ছয় মাসের জন্য কেন এসেছিলাম জানি না। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিলেন। লালদীঘিকে পুনরুদ্ধার করে সংস্কার করেছি। পাশে আছে লালদীঘি মাঠ, ছয় দফা উত্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। উপমন্ত্রী নওফেল সেটাকে সুন্দর করে সাজিয়েছেন। শহীদ মিনার, মুসলিম হল, লাইব্রেরি, মাঠ, পার্ক হয়ে লালদীঘি হবে আমাদের সংস্কৃতির কেন্দ্রভূমি।
তিনি বলেন, আমরা জ্যোৎস্না উৎসবের আয়োজন করেছি। লালদীঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে আমরা এ শহরের মানুষেরা দেখব অনিন্দ্য জ্যোৎস্না। আমরা চাই এ জ্যোৎস্না সবার অন্তরে অন্তরে গন্ধসুধা ঢালুক।

অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি মোহিত উল আলম, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আবদুল আলীম ও বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন। সংগীত, নৃত্য এবং আবৃত্তির পাশাপাশি ফানুস ওড়ানোসহ দারুণ সব পরিবেশনায় মুগ্ধ হন কয়েক হাজার দর্শক-স্রোতা।
উপস্থাপিকা কঙ্কন দাশের সঞ্চালনায় কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিক শিল্পী মিলি চৌধুরী ও সাবের শাহ। নৃত্য পরিবেশন করে প্রাপন একাডেমি। অনন্য বড়ুয়ার পরিবেশনায় একে একে বেশ কয়েকটি নৃত্য পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পী ইকবাল হায়দার, শহীদ ফারুক, বৈশাখী নাথ, মনি সেন ও পাভেল সঙ্গীত পরিবেশন করেন। যাদু প্রদর্শন করেন শিল্পী সুগত।

এছাড়া আগামী ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সোমবার একই স্থানে বিকেল ৩ টায় হবে কবিতা পাঠ ও পিঠা উৎসব। কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। এতে প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বক্তব্য রাখেন।

https://fb.watch/3lkQHAH8pr/