চট্টগ্রামে প্রথম টিকা নিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ভ্যাকসিন (টিকা) নেওয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রামের করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে তিনি প্রথম টিকা গ্রহণ করেন। নওফেলসহ প্রথম দিনে নগরীতে ৪২৩ জন এবং উপজেলায় ৬৬৭ জন করোনার টিকা নেন। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রথম দিনে টিকা নিয়েছেন এক হাজার ৯০ জন।
প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন এবং ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া টিকা গ্রহণ করেন। এরপর তাদের পর্যবেক্ষণ ইউনিটে রাখা হয়।
টিকা নেওয়ার পরে কোন ধরনের জটিলতা অনুভব করছেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা নেগেটিভ কোনো কিছু অনুভব করছি না। যে কোনো ধরনের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। সুতরাং এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি সবাইকে অনুরোধ করব যে অগ্রাধিকারমূলক তালিকা করা হয়েছে, সে তালিকার ভিত্তিতে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে সবাই ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন।
শিক্ষা উপমন্ত্রী আরও বলেন, একটি অপপ্রচারকারী মহল ভ্যাকসিন নিয়ে গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের বলতে চাই, উন্নয়ন ও প্রগতির রাজনীতিকে তারা বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এটা কোনভাবে আটকাতে পারবে না।
টিকা নেওয়ার পর কেমন অনুভব করছেন জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার শারীরিক কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। এ টিকা বিশ্বের সবাই নিচ্ছে, সবাইকে এটা নেওয়া উচিত। এখনো অনেক দেশেই টিকা পৌঁছেনি অথচ আমাদের দেশে টিকা চলে এসেছে। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, আমরা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে নিয়ম অনুযায়ী ৩০ মিনিট অপেক্ষা করেছি। এর মধ্যে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দূরের কথা কোনো রকম অসুবিধা অনুভব করছি না। সাধারণত যে কোন টিকা নেওয়ার পরে সামান্য জ্বর বা মাথা ব্যাথা হতেই পারে কিন্তু এ টিকা নেওয়ার পরে এ ধরনের কিছুই হচ্ছে না। আমি মনে করি এ টিকা আনেক বেশি নিরাপদ। সুতরাং টিকা নিয়ে যে বিভিন্ন রকমের অপপ্রচার চলছে, এগুলোতে আপনারা কান দেবেন না। সবাই টিকা নেবেন এবং অন্যদের নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করবেন।
ভ্যাকসিন প্রদান ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী টিকা প্রদান কার্যক্রম হাসপাতালের মধ্যেই করতে হবে। টিকা নেওয়ার পরে কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সাথে সাথে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য আমরা সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেই আইসিইউর পাশে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। সরকার সারাদেশে যেভাবে টিকা প্রদান করার নির্দেশনা দিয়েছে আমরাও চমেক হাসপাতালে সে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
চট্টগ্রামে টিকা প্রদান কার্যক্রম সম্পর্কে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, আজ (রোববার) আমাদের ১১টি জেলার সব উপজেলায় একই সাথে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত শুধু চট্টগ্রাম মহানগরে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি রেজিস্ট্রেশন করেছে।
নিবন্ধন জটিলতা সম্পর্কে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রথম দিকে শুধু ৫৫ বছরের উপরে বয়স্ক ব্যক্তিরা নিবন্ধন করতে পারবেন। যাদের কাছে আগে টিকা পৌঁছানো দরকার তারা টিকা পাবে। শুধুমাত্র গর্ভবতী এবং যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে তাদের দেওয়া হবে না। অনলাইন নিবন্ধনের এক সপ্তাহ পর থেকে বয়স কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে।
যেসব কেন্দ্রে টিকা দেয়া হলো
মহানগরীর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, নৌবাহিনী হাসপাতাল, বিমান বাহিনী হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্রথম দিনে টিকা দেয়া হয়। মহানগরীতে টিকা প্রদানের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, প্রথম দিনে আমরা ৪২৩ জনকে টিকা দিয়েছি। তবে বেশি দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ (সোমবার) থেকে আরও চার কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এগুলো হলো- সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতাল, মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন হাসপাতাল, বন্দরটিলা মাতৃসদন হাসপাতাল এবং ছাফা মোতালেব মাতৃসদন হাসপাতাল।’
অপরদিকে চট্টগ্রাম জেলায় টিকার সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে সিভিল সার্জন দপ্তর। মহানগরীতে ৪২৩ জন টিকা নিলেও উপজেলাগুলোতে প্রথম দিনে টিকা নিয়েছেন ৬৬৭ জন। এরমধ্যে লোহাগাড়ায় ২০, রাঙ্গুনিয়ায় ৭০, ফটিকছড়িতে ১৮, বাঁশখালীতে ৪০, আনোয়ারায় ৭০, সীতাকুণ্ডে ৩৯, সাতকানিয়ায় ৪০, রাউজানে ১০, মিরসরাইয়ে ৫০, চন্দনাইশে ২০, বোয়ালখালীতে ৫০, হাটহাজারীতে ১৫০, সন্দ্বীপে ২০ এবং পটিয়ায় ৭০ জন টিকা নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে গত ২৮ জানুয়ারি ৪ লাখ ৫৬ হাজার টিকা আসে। সেই টিকা থেকে প্রথম দফায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলো গতকাল থেকে। প্রথম ডোজ নেয়ার দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।