চট্টগ্রামে নতুন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিলেন রেজাউল করিম চৌধুরী

আজ সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৬ষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী।দুপুর ৩ টার আগে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে মেয়র দায়িত্ব বুঝে নেন এম. রেজাউল করিম চৌধুরী।দায়িত্ব নেওয়ার আগে সকালে এক সুধী সমাবেশে নতুন মেয়র চট্টগ্রামকে আদর্শ নগরের রোল মডেল হিসেবে দেশে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখান।

আজ নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চসিকের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে এম রেজাউল করিম চৌধুরী এ স্বপ্নের কথা বলেন।

তিনি জানান, ‘এ শহর আপনার আমার শহর। এখানে অনেক জ্ঞানী-গুণী সাংবাদিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ লোকের বাস। সবার মেধা ও পরামর্শকে কাজে লাগাতে চাই। সকলের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চাই। পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম আদর্শ শহরের মডেল হিসেবে দাঁড়াবে।’

সিটি মেয়র বলেন, ‘ভোটের জন্য দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছি, পাঁচ বছরও সবার সঙ্গে পরামর্শ করে এগিয়ে যাবো। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সব শ্রেণি পেশার সবার সহযোগিতা চাই। পরিষ্কার কথা হচ্ছে, যে সেবা সংস্থা গাফিলতি করবে তাদের জবাবদিহি করতে হবে।জনগণ জননেত্রীর উন্নয়নের ওপর আস্থা রেখেছেন বলে নৌকাকে জয়ী করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর, কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন হচ্ছে। আমি জননেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’’

কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘প্রথমে মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবো। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলায় আনবো। মানুষ শান্তি চায়। ১০০ দিনে সব রাস্তা হয়ে যাবে তা আবেগের কথা। যান চলাচলের উপযুক্ত করার চেষ্টা করবো। আসুন চট্টগ্রামকে গড়ে তুলি। যে কোনো মূল্যে খাল উদ্ধার করবো। পাঁচ বছরে শহর জলাবদ্ধতামুক্ত হবে।’

চসিকের বিদায়ী প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘আমি হাতে ছয় মাস সময় পেয়েছি। সাধ্যমত চেষ্টা করেছি নগরবাসীর জন্য কিছু করার। তবে আমি বলব, যে সকল প্রতিষ্ঠান লাভবান হচ্ছে তাদের কাছ থেকে সারচার্জ নিতে হবে এবং সে অর্থ নগরের উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে। আমরা সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।’

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন। তবে চট্টগ্রামে সমস্যার শেষ নেই। চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিকভাবে আরও গতিশীল করতে হবে। আমরা জানি রেজাউল করিম একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। তাঁকে বিভিন্ন সেবা সংস্থগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। এ শহর থেকে কিশোর গ্যাং দূর করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন চসিক মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

সুধী সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, নগর মহিলা লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, চুয়েট উপাচার্য ড. রফিকুল আলম, চবির সাবেক উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফ, ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ, নগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, চসিকের সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলরবৃন্দ।