মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী,কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন

এস,আহমেদ ডেক্স প্রতিবেদনঃ নগরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। দিনে রাতে এলাকায় মশার উপদ্রব বেশি বলে জানিয়েছেন করোনাভাইরাসের ভয়াবহ এমন সময়ে মশার যন্ত্রণায় নগরীর বাসিন্দাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হলেও তা থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে নেওয়া হচ্ছে না কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। মশা নিধনের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন আছে অনেকটা নীরব ভূমিকায়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। অনেকে উপায়হীন হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝাড়ছেন ক্ষোভ। করোনাভাইরাসের আতঙ্কের সঙ্গে নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী এখন মশার কামড়। নগরজুড়ে বেড়েছে মশার উপদ্রব।নগরের, পাথরঘাটা, চকবাজার, বাকলিয়া, বক্সিরহাট, দেওয়ানবাজার, জামালখান, নালাপাড়া, ষোলকবহর, মুরাদপুর, মোহাম্মদপুর, চান্দগাঁও, বায়েজিদ, শেরশাহ, বহদ্দারহাট,কল্পলোক আবাসিক, লালখানবাজার, টাইগারপাস, বাসস্টেশন, এনায়েতবাজার, আসকার দীঘিরপাড়, হালিশহর উত্তর কাট্টলী, ষোলশহর, ২ নম্বর গেট, মোহরা, আলকরণ, মাদারবাড়ীসহ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৪১ ওয়ার্ডের প্রায় সব এলাকার বাসিন্দারা। মশার উপদ্রবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কম আলোয় বিশেষ করে সূর্য ডোবার পর যেকোনো খোলা স্থানে দাঁড়ালেই মাথার ওপর ঝাঁক বেঁধে উড়তে থাকে মশা। সন্ধ্যার পর আরো ভয়ানক রূপ নেয় মশার মিছিল। দিনেও খুব কম থাকে না মশার উৎপাত। ঘরে, বাইরে, কর্মস্থলে সবখানেই মশায় অতিষ্ঠ নগরবাসী। মশা এতটাই বেড়েছে যে, কয়েল, স্প্রে, ইলেকট্রিক ব্যাট কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। মশারি টানানোর পরও কয়েল জ্বালাতে হচ্ছে। আবার কোথাও দিনে-দুপুরেও মশা তাড়াতে কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে
মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য নাগরিকরা তার সুফল বা সেবা পায় না। দিন-রাত বাসায় কয়েল জ্বালিয়ে অথবা মশারি টানিয়ে রাখতে হয়। নিজ অফিসে গিয়েও শান্তি নেই। মশার উপদ্রবে ঠিকমতো কাজকর্মও করা যায় না।
এদিকে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে নাগরিকদের সচেতন করতে সিটি করপোরেশন। এ লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কাজ করেছে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর স্হানীয় কয়েকটি সংস্থা। সরেজমিন ঘুরে কথা বলে জানা যায় এলাকার মশার ওষুধ ছিটাতে দেখেননি। সন্প্রতি শহর রক্ষার নামে বিভিন্ন ড্রেনের ওপর পাকা বড় বড় স্লেব নির্মান এ কারণে সব সময় আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় না।এটি মশার প্রজননস্থল হয়ে পড়েছে।এতে মশার ওষুধ দেওয়া কাজ করে না । বিশেষজ্ঞরা বলেন, বছরের ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত কিউলেক্স মশার প্রজনন মৌসুম। কিউলেক্স মশার প্রজননস্থলগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে উপদ্রব কমিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য ডোবা, নালা বা জলাশয়গুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। সঠিক নিয়মে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।চসিক নির্বাচনে মশক নিধন কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়লেও মশক নিধনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বলেন, মশক নিধনে ‘এডালটিসাইড’ (পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী) ও ‘লার্ভিসাইড’ (ডিম ধ্বংসকারী) নামে দুই ধরনের ওষুধ ছিটানো হয়। তবে আমরা আপাতত মশার ডিম মারার ওষুধ ছিটাচ্ছি। এডালটিসাইড ছিটানো হয় ফগার মেশিন দিয়ে। এতে এক ধরনের ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই ওষুধ ছিটানোর ফলে মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে। তাই এটি ছিটানো হচ্ছে না।তাই মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি এসব কাজে নগরবাসীকে নানাভাবে যুক্ত করা দরকার। সবার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে আশা করা যায় নগরীতে মশার উৎপাত কমবে।