ঘুরে আসুন মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি

বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া গ্রামে রয়েছে ভগ্নপ্রায় চৌধুরীবাড়ি যা জমিদারবাড়ি হিসেবে পরিচিত। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মধ্যে একটি গ্রামের নাম হলো উলানিয়া গ্রাম।উলানিয়া জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুবাদার হানিফ, বর্তমান ভোলা জেলার অর্ন্তগত রামদাসপুর গ্রামে অবস্থিত সংগ্রাম কেল্লাটি আঠার শতকের মাঝামাঝি সময়ে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়)

অবস্থান করেণ শায়েস্তা খাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতি শেখ মোহাম্মদ হানিফযা আনুমানিক ১৭০০ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যিনি ভারতীয় মুসলমান ছিলেন না। তাঁর ঊর্ধ্বতন পঞ্চম পুরুষ শেখ মোহাম্মদ আসাদ আলী ভাগ্যান্বেষণে সুদূর পারস্য থেকে ভারতবর্ষে এসেছিলেন। তিনি প্রথমে অযোধ্যায় ও পরে মুর্শিদাবাদে বসতি স্থাপন করেন।

মোহাম্মদ হানিফ সৈনিক বিভাগে চাকরি করতেন। পরে তিনি ওলন্দাজ দস্যু দল, মগ ও ফিরিঙ্গি দলকে বাকেরগঞ্জ জেলার সাগর উপকূল থেকে সমূলে উৎখাত করেন। পিশাচ প্রকৃতির দস্যুদলের পৈশাচিক তাণ্ডবে যে স্থান জনমানব শূন্য জঙ্গলে পরিণত হয়েছিল, তা-ই আবার ধীরে ধীরে মোহাম্মদ হানিফের তত্ত্বাবধানে জনবহুল হয়ে উঠল। সুবাদার হানিফের এই বীরত্বপূর্ণ কাজের ফলস্বরূপ তাঁর পরবর্তী বংশধর এই ভূখণ্ডের জমিদার পদে অধিষ্ঠিত হন।যতদূর জানা যায় উলানিয়া জমিদার বাড়ির তিন কামরা বেষ্টিত মূল ভবনটা শেখ হানিফের সময়েই নির্মিত। সামনে সু-বিশাল দিঘী, বাড়ির পিছনদিকে এবং পাশে বেশ কয়েকটা পুকুর, শানে বাঁধানো ঘাট। মূল বাড়ির পাশে কাচারি বাড়ির সামনে ডাকবাংলা মূল বাড়িতে ঢুকতে দ্বীতল প্রবেশ পথ। সবমিলিয়ে এই বাড়িটা ঘিরে এই অঞ্চলে প্রচলিত আছে নানান রকম কিংবদন্তী লোককথা। স্থাপনাটি বর্তমান সরকার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংরক্ষনের ঘোষনা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবী সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারের এই ঘোষনা বাস্তবায়ন করে প্রাচীন এই ঐতিহ্য সমুন্নত রাখা হোক।