নগরীর সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে : সিটি মেয়র রেজাউল করিম

উন্নয়ন কাজে স্থানীয় কাউন্সিলরদের সাথে সমন্বয় করতে ঠিকাদারদের নির্দেশনা দিয়েছেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, কাজের মান ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কাউন্সিলরদের প্রত্যয়নপত্র বিল প্রদানের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বলে গ্রাহ্য হবে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) বর্তমান পর্ষদের দ্বিতীয় সাধারণ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।সোমবার আন্দরকিল্লাস্থ নগর ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করা হবে বলে ইঙ্গিত দেন মেয়র।

তিনি বলেন, নগরের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। খাল, নালা-নর্দমা এবং সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা হবে। নগরীর সৌন্দর্য বন্ধনের চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করা চলবে না এবং সৌন্দর্য বর্ধনের নামে নিন্দিত কিছু সহ্য করা হবে না।
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, নির্বাচিত পরিষদ একটি যৌথ পরিবার। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সমন্বিত অংশগ্রহণের নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই শহরকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দৃশ্যমান সমস্যা ও নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে প্যাচ-ওয়ার্ক প্রোগ্রামে শুরু করেছি। চলমান এ কাজের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। প্রোগ্রামে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, আলোকায়ন ও বেহাল সড়ক মেরামত করায় গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলেও জানান মেয়র। তিনি বলেন, কাজ করতে গিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক সরঞ্জাম, মানসম্মত নির্মাণ সামগ্রী ও মশক নিধন কীটনাশকের অপ্রতুলতা এবং সক্ষমতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে এতে কাজের অগ্রগতিতে ব্যত্যয় ঘটবে না।
তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, প্রয়াত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এই দুটি খাতকে যে মানে পৌঁছে দিয়েছিলেন সেই মানে উন্নীত করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হবে। চসিক পরিচালিত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় কাউন্সিলরদের সংশ্লিষ্টতা থাকবে। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের কাজের জন্য সিডিএ চাক্তাইসহ অন্যান্য খালের যে অংশগুলোতে বাঁধ দিয়েছে সেখানে জমাট হওয়া পানি চলাচলে বিকল্প পথ করে দিতে বলেছি।
তারা জুন মাসের আগেই খালের পানি চলাচলের বিকল্প পথ তৈরি করে দেবে বলে কথা দিয়েছে।
মেয়র করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কাউন্সিলরদের স্ব স্ব ওয়ার্ডে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারের নির্দেশনাগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালনে এলাকাবাসীকে সচেতন করার আহ্বান জানান। আগামী সাধারণ সভার আগে স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলো গঠন করা হবে বলেও জানান মেয়র।
চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলর ও বিভাগীয় কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।