দু’দিনের সফর শেষে ঢাকা ছাড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্ত্রী ও মুজিবশতবর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে শুক্রবার সকালে ঢাকা আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এসময় বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরাসরি চলে যান জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।বিকেলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তব্যে দেন।এর পর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উভয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল জাদুঘরের উদ্বোধন করেন।রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার সকালে হেলিকপ্টারে যশোরেশ্বরী মন্দিরে যান। এ সময় উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে বরণ করে নেন স্থানীয় নারী পূজারীরা।

রীতি অনুযায়ী কৃষ্ণবর্ণ কষ্ঠিপাথরে নির্মিত দেবীকে মুকুট পরিয়ে দেন মোদি। এরপর দেবীর বস্ত্রদান সম্পন্ন করেন। দেবীকে মাল্যদানের পর যোগাসনে বসে পাঠ করেন পূজার মন্ত্র। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর দেবীকে প্রদক্ষিণ করেন। পূজা শেষে পুরোহিত তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।এর পর নরেন্দ্র মোদি টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা।বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন মোদি। এরপর বঙ্গবন্ধু ভবনের পাশে একটি বকুল গাছের চারা রোপণ করেন ও দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এরপর কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ীতে গিয়ে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা অর্চনা করেন এবং মতুয়া নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।টুঙ্গিপাড়া থেকে ফিরে বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন উভয় প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে দুর্যোগ দমনে সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বিকাশে অশুল্ক বাধা দূরের পদক্ষেপ, দুই দেশের জাতীয় ক্যাডেট কোরের মধ্যে সহযোগিতা এবং তথ্য যোগাযোগ ও রাজশাহীতে খেলার মাঠ বিষয়ে দুই প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা সই করেন বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্টরা।