করোনা প্রাদুর্ভাবে সুন্দরবনে কমেছে পর্যটক

আজ শুক্রবার (০২ এপ্রিল)আশংকাজনক হারে করোনা প্রাদুর্ভাব বাড়তে শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সুন্দরবনের পর্যটকদের ভ্রমণের উপর নতুন করে কোন ধরণের বিধি নিষেধ আরোপ হয়নি। সুন্দরবনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বনবিভাগের নির্দেশনা মেনেই প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়া করছেন দর্শনার্থীরা। তবে হঠাৎ করে করোনা প্রার্দুভাব বাড়তে থাকায় এর প্রভাব পড়েছে সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পে।গত প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে সুন্দরবনের পর্যটকদের আগমন কমেছে আশংকাজনক হারেই। দেশের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলো ইতিমধ্যে বন্ধের পাশাপাশি করোনা রোধে যে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে তা থেকে বাদ রয়েছে সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ঘিরে নির্দিষ্ট বিধি নিষেধ না থাকলেও দেশব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব অনেকটা পর্যটক শুণ্য করে দিয়েছে বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের পর্যটন স্পটগুলো।

গত ২৬ মার্চ পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটকদের আনাগোনা ছিল বেশ ভালই। তবে এরপর থেকে তা কমেছে অনেক। গত ২৬ মার্চ শুক্রবার মোংলা থেকে সুন্দরবনের সবচেয়ে কাছাকাছি ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র করমজলে পর্যটকের সংখ্যা ছিল এক হাজারের মত। শুক্রবারের আগে বৃহস্পতিবার যা ছিল প্রায় ১’শ আর বুধবারে ছিল মাত্র ৫০/৬০ জনের মত। এরপর গত ২ মে শুক্রবার সেখানে পর্যটক হয়েছে মাত্র দেড়শ জন। তার মানে সপ্তাহের ব্যবধানে এ পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কমেছে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগের মত।

করোনার কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সুন্দরবনে বন্ধ ছিল পর্যটকের ভ্রমণ। এরপর ওই বছরের নভেম্বর পুনরায় সুন্দরবন দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত করা হয় স্বাস্থ্য বিধি মানাসহ নানা শর্তে। সে সকল শর্ত মেনেই যাতায়াত অব্যাহত ছিল পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের। কিন্তু হঠাৎ করে আবারো করোনা প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় এক কথায় আবারো বন্ধ হতে যাচ্ছে সুন্দরবনে পর্যটককের আনোগোনা। যার ফলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতি সম্মুখীন বনবিভাগ। গত ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এ পর্যটকদের দিয়ে বনবিভাগের আয় হয়েছিল প্রায় ১৫ লাখ টাকা। আর ২০২০ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকার পর ওই বছরের নভেম্বর হতে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত বনবিভাগের আয় হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা।

করমজল বন্যপ্রাণী ও পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, গত ২৬ মার্চ শুক্রবারের পর থেকেই পর্যটকদের আনোগোনা কমে গেছে। খুব বেশি পর্যটক আসছেনা সুন্দরবনে। পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমণে এখনও পর্যন্ত নতুন করে কোন ধরণে আদেশ নিষেধ আসেনি তাদের কাছে। পর্যটককের আসতেও কোথাও কোন বাঁধা নেই। মূলত, করোনার প্রকোপ বাড়াতে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা ও আক্রান্ত ঝুঁকির আশংকায় লোকজন আসা কমে গেছে বলে জানান তিনি।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমণের ক্ষেত্রে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও কোন ধরণের নিদের্শনা আসেনি। নিদের্শনা আসা মাত্র তা যে কোনভাবেই কার্যকর করা হবে।