সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু না ফেরার দেশে » রাষ্ট্রপতিও প্রধানমন্ত্রীর শোক

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি,আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক আইন মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, কুমিল্লা-৫ আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য ।সিনিয়র এডভোকেট বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আব্দুল মতিন খসরু। আর নেই ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৪:৪৫ মিনিটে, রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান । তিনি রণাঙ্গনের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ৭১ বছর বয়সে জীবন প্রদীপ নিভে গেলো রণাঙ্গণের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বর্তমান সংসদ সদস্যসহ তিনি মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথম সরকারে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি দেশের আইন অঙ্গনে ছিল তার সমান বিচরণ।আবদুল মতিন খসরু ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় জন্মগ্রহন করেন। ব্যক্তি জীবনে তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। কুমিল্লার বুড়িচং থানার মুক্তিযোদ্ধাকালীন কমান্ডার ছিলেন মতিন খসরু। ১৯৭৮ সালে কুমিল্লা জজকোর্টে আইনি পেশার জীবন শুরু করেন এই মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৮২ সাল থেকে হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা শুরু করেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন ছাত্রলীগ দিয়ে। এরপর যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেন কুমিল্লার এই সন্তান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন।

১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারের আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আবদুল মতিন খসরু। আইনমন্ত্রী থাকাকালীন মানবতা বিরোধী কালো আইন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পথ উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।

২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সারা দেশে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীর মামলায় হাইকোর্টে বিনা পারিশ্রমিকে আইন সহায়তা দেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে টানা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মতিন খসরু। ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।। এর আগে, অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচ এর লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

গত ১৬ মার্চ তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ওই দিনই তাকে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। ১ এপ্রিল মতিন খসরুর করোনার নেগেটিভ আসে। পরে তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে নেয়া হয়। পরে আবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

গত ১৩ই মার্চ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি সভাপতি নির্বাচিত হন আবদুল মতিন খসরু।