লকডাউনে বৈশাখের প্রথম সকাল দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে

বিপ্লব সেন’ স্বর্ণালী প্রিয়া ডেক্স প্রতিবেদনঃ বাঙালির বৈশাখের প্রথম সকাল মানেই হইহই রইরই কাণ্ড। অন্তত বছর দুয়েক আগেও তেমন চিত্রই দেখা গেছে। তবে গেল দু’বারের বৈশাখের চিত্র ভিন্ন। বৈশাখ মানেই সিরিজতলা বটমূল, চারুকলা আর শিল্পকলা । করোনা সংক্রমণ রোধে বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে এই তিন এলাকা ছিল জনমানবশূন্য। কোথাও কোনও আয়োজন নেই, কোথাও কোনও মানুষ নেই। বাঙালির বৈশাখে আজ কঠিন অর্গল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অদৃশ্য এক শক্র। তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধই এখন লড়াই। উৎসব বাঙালি জীবনে মুকুট মণির মতো। তবে, দ্বিধাহীন মহামিলনের উৎসবে আজ মানুষ নেই।জনশুন্য।

পহেলা বৈশাখের সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চারুকলায় নেই এবার মঙ্গল শোভাযাত্রা। ফাঁকা ফুটপাতে নেই লাল নীল কাঁচের চুড়ি, নেই ফুল আর বাতাসার ভ্যান। চারুকলা ইন্সটিটউটের বাইরের দেয়ালের নতুন পটচিত্র যেন জানান দিচ্ছে আজ বৈশাখ।পার্কগুলোতে প্রতিদিন সকালে যে স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকরা শরীরচর্চা করেন তারাও অনুপস্থিত।চিরায়ত বৈশাখের এই উৎসবে এবারও নেই প্রাণের উন্মাদনা। তবুও এবারের পহেলা বৈশাখও নিয়ে আসুক, কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে চলার সুদিন, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

বাঙালির বৈশাখে আজ কঠিন অর্গল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অদৃশ্য এক শক্র। তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধই এখন লড়াই। উৎসব বাঙালি জীবনে মুকুট মণির মতো। তবে, দ্বিধাহীন মহামিলনের উৎসবে আজ মানুষ নেই। শিল্পকলার পাশ দিয়ে মাস্ক পরে হেঁটে যাচ্ছিলেন বিপ্লব। কেন বেরিয়েছেন জানতে চাইলে বলেন, ঠিক উল্টোদিকেই থাকেন তিনি। বছরের প্রথম সকাল গানের সুরে শুরু হয়। গতবছর থেকে এত নীরবে বৈশাখের দিনটা আসে, ভালো লাগে না। তাই একটু লেকে এসেছেন। এরপরে আর হয়তো বের হবেন না। সিরিজতলা গিয়ে কাউকে দেখতে পাওয়া যায়নি। এসব এলাকা দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে।

তবে মানুষের হৃদয়ে যেন মানুষেরই ছায়া বিরাজমান থাকে, বৈশাখের পহেলা দিন থেকে একটুকু সংগীতের মতো বেজে চলুক প্রতি প্রাণে সরাসরি অনুষ্ঠান লাইভ ছিল কিন্তু জনসমাগমে করা না হলেও এবারও ধারণকৃত পুরনো অনুষ্ঠান ও নতুন কিছু গানের মাধ্যমে ৫০ মিনিটের আয়োজন ছিল চট্রগ্রাম ঢাকাসহ দেশের কিছু জেলয় বছর শুরুর দিন ঘরোয়া আয়োজনে সকাল ৭টা থেকে বোধন, ফুলকি,সৃজামি সাংস্কৃতিক অঙ্গন,প্রমা,বসুন্ধরা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে প্রচার করা হয়। ।১৪-২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলাচলের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা, এই কয়দিন কী করা যাবে, বিশেষ ছাড়ে কী কী করা যাবে—এ বিষয়ে সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রজ্ঞাপনে জারি করা হয়। সেখানে বলা আছে, অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরেবের হওয়া যাবে না।