নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্পের কাজ চলছে তবু স্বস্তি নেই

????????????????????????????????????

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রকল্পের কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে বলছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। প্রকল্পে এ পর্যন্ত টাকা খরচ হয়েছে এক হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এক শতাংশও স্বস্তি মিলল না নগরবাসীর। রোববার নগরীর অধিকাংশ এলাকা ডুবল খুব বাজেভাবে। মানুষের ভোগান্তিও হয়েছে মাত্রাতিরিক্ত। প্রশ্ন উঠেছে কি কারণে তাহলে ডুবল নগরী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ করতে খালের মুখে বাঁধ দেয়া, সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে থাকা নালা-নর্দমাগুলো পরিষ্কার না করা এবং খালের উপর জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা না তোলার কারণে মূলত এবারের জলকান্ডটা হয়েছে। যাতে নাকাল হয়েছে নগরবাসী।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস জানান, প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর সময় বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। এ বছরও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ শেষ হবে না। শেষ হতে আরও দুই বছর লাগবে। এখনো প্রকল্পের অধীন কিছু ভূমি অধিগ্রহণের কাজ বাকি। তাই কাজ শেষ করতে সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, মেগা প্রকল্পের অধীন স্লুইস গেট বা টাইডাল রেগুলেটর নির্মাণ চলছে। এগুলোর জন্য কিছু যন্ত্রপাতি দেশের বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এগুলো আনতে সময় লাগছে। তাই নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারিনি। এ কারণে এবারের বর্ষায় চট্টগ্রাম নগরে জোয়ারের পানি প্রবেশ করবে।
এবারের জলাবদ্ধতার তিন কারণ সর্ম্পকে বলতে গিয়ে প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান জানান, সিটি করপোরেশনের ছোট ছোট নালাগুলো যথাসময়ে পরিষ্কার করলে অনেক উপকার পাওয়া যেত। বাঁধ ও খালের ময়লার কারণে জলাবদ্ধতা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু দুই সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যাতে সামনের দিনে এ ধরনের জলমগ্নতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।ডিসি রোডস্থ খালপাড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ হামিদ জানান, খালের উপর ময়লা-আর্বজনা জমতে জমতে শক্ত আস্তরণ জমে গেছে। খালে পানি চলাচলের পথ একেবারেই নেই। এখন যেভাবে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে, তাতে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় কোমরসমান পানি জমে যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে কি হবে আল্লাহই জানেন।
প্রসঙ্গত : ২০১৭ সালের আগস্টে সিডিএ’র তত্ত্বাবধানে গৃহীত ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। এটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল খালের আবর্জনা অপসারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ প্রকল্পের কাজ। ইতোমধ্যে নগরের ৩৫টি খাল থেকে তিন হাজার ১৮৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ৫৪টি ব্রিজ-কালভার্টের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে পাঁচটি খালের মুখে ¯øুইস গেট নির্মাণ এখনও শেষ হয়নি। খালগুলোর পাশে ১৭৬ কিলোমিটার প্রতিরোধ দেয়ালের মধ্যে ৫৮ কিলোমিটারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ঢলে পাহাড়ি বালু আটকানোর জন্য ৪২টি সিলট্র্যাপের মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে মাত্র ১৫টির। খালের দু’পাড়ে ৮৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও কাজ শেষ হয়েছে মাত্র দেড় কিলোমিটার। বাস্তবায়নকারী সংস্থার মতে, প্রকল্পের কাজ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এতে ব্যয় হয়ে গেছে এক হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়। ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে খালের আবর্জনা অপসারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রকল্পের কার্যক্রম।