‘ধর্ম ব্যবহার করে কাউকে সন্ত্রাসবাদ করতে দেয়া হবে না’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,ধর্মের নামে জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করে ইসলামের বদনাম করছে একটি গোষ্ঠী, যা এ ধর্মের পবিত্রতা নষ্ট করছে। এমনটা জানিয়ে ধর্ম ব্যবহার করে কাউকে সন্ত্রাসবাদ করতে দেয়া হবে না।

দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নির্মাণ কাজ চলছে ৫৬০টি দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের। ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা, যার পুরো খরচই দিবে সরকার।

তিন ক্যাটাগরিতে নির্মিত এ মসজিদগুলোতে থাকছে গবেষণা কেন্দ্র, পাঠাগার, হজযাত্রীদের নিবন্ধন, অটিজম কর্নার ও ই-কর্ণারসহ বিদেশি পর্যটকদের আবাসন এর ব্যবস্থা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে এমন ৫০টি মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্যের শুরুতেই, দেশে ইসলাম প্রসারে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

সরকারপ্রধান বলেন, আজকে আমি সত্যি খুব আনন্দিত। মডেল মসজিদগুলোতে ইসলামের সঠিক জ্ঞানচর্চা হবে। জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় মুসলমানরা আবারো এগিয়ে যাবে। এ মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ইসলামের সঠিক বানী প্রচার করবে। সেই সাথে ভূমিকা রাখবে জঙ্গীবাদ নিরসনে।

কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি ও হজ্জ যাত্রীদের সুবিধাসহ ইসলাম প্রসারে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ধর্মের নামে জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করে ইসলামের বদনাম করছে একটি গোষ্ঠী। ধর্ম ব্যবহার করে কাউকে সন্ত্রাসবাদ করতে দেয়া হবে না।

মাদক, নারী নির্যাতনসহ সব ধরনের ব্যাভিচার থেকে যুব সমাজকে বিরত রাখতে এ মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ভুমিকা রাখবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

একসঙ্গে এতগুলো মসজিদ নির্মাণের ঘটনা বিশ্বে বিরল বলে জানিয়ে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, মুসলিম বিশ্বের এই প্রথম কোনো দেশের সরকার প্রধান একসঙ্গে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করছে। এর আগে কোনো মুসলিম শাসক বা সরকার প্রধান এক সঙ্গে এতগুলো মসজিদ নির্মাণ করেননি। এটি একটি অনন্য এবং যুগান্তকারী ঘটনা আমরা বলবো।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সুবিশাল এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে নারী-পুরুষদের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা, লাইব্রেরি, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, পবিত্র কুরআন হেফজ বিভাগ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, অটিজম কেন্দ্র, গণশিক্ষা কেন্দ্র, ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র থাকবে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা এবং গাড়ি পার্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে। মডেল মসজিদগুলোতে দ্বীনি দাওয়া কার্যক্রম ও ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, যৌতুক, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি রোধে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।