ব্রেকিং নিউজ » জোয়ার প্রতিদিনই চাক্তাই খাল আজও দুঃখ

পথে প্রান্তরের সংবাদ »ভিন্ন চোখে-সরেজমিন ঘুরে আজও চট্টগ্রাম নগরীতে বৃষ্টি হলেই এখনো ডুবছে নগরী।চাক্তাই খাল এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিও প্রশ্নবৃদ্ধ।বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে নগরীর খালগুলোর মধ্যে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এখন মূলত ময়লা-​আবর্জনার স্তূপে পরিপূর্ণ খালগুলোতে জন্মেছে আগাছা। আটকে গেছে পানি চলাচলের পথ। ফলে বর্ষার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী।তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দাবি, সিডিএর বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতা হয়েছে।বর্ষা মৌসুমের প্রায় প্রতিটি পূর্ণিমা ও অমাবস্যার জোয়ারে তিন-চার বছর ধরে গোটা এই ব্যবসাপল্লী পানিতে তলিয়ে যায়। টানা তিন/চারদিন পানিতে সয়লাব হয়ে যায় বলে এখানে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য হয় না। ফলে এখানকার ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাদের।
চট্টগ্রাম নগরে ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার সময় প্রতিবছর মানুষের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে যায়। এতে নষ্ট হয় গৃহস্থালির জিনিসপত্র থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক পণ্যসামগ্রী। রাস্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনেকে ইতিমধ্যে তাদের দোকানের ভিটি উঁচু করেও আতঙ্কে রয়েছেন। কারণ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তত্ত্বাবধানে এবং সেনাবাহিনীর অধীনে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচটি খালের মুখে স্লুইস গেট নির্মাণের কাজ। যার কারণে পাঁচটি খালই এখন মূলত ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। বর্ষা মৌসুম দুয়ারে কড়া নাড়তে শুরু করলেও খালের মুখগুলো কখন উন্মুক্ত করা হবে তা নিয়ে নেই প্রকৃত কোনো তথ্য। ফলে এবার ব্যবসায়ী ও এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে বৃষ্টি ও জোয়ার আতঙ্ক আরও বেশি চেপে বসেছে বলে জানান
জলাবদ্ধতায় প্রতিবছর কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়, তার সঠিক পরিসংখ্যান
জানা নেই। তবে নগরের অন্যতম পাইকারি বাজার চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, আছদগঞ্জ ও কোরবানীগঞ্জের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে চট্টগ্রাম গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতায় গত এক দশকে ২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।