স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে লাখো ঘরমুখো মানুষ, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা

লকডাউন ঘোষণার পর রাজধানী ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছে লাখো মানুষ। মুন্সীগঞ্জ-মাদারীপুর হয়ে ছাড়ছেন ঢাকা। এতে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ঘাটে ঢল নেমেছে। ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে,ফেরিঘাটে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় গাদাগাদি করে নদী পার হওয়ায় সংক্রমণের শঙ্কার পাশাপাশি ঝুঁকি বাড়ছে দুর্ঘটনারও। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বালাই ছিল না। রোববার (২৭ জুন) সকাল থেকে ঢাকার চারপাশের ৭ জেলার জনস্রোত আছড়ে পড়ছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে। কঠোর লকডাউনের খবরে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ।
ঘাটে ফেরি ভিড়লেই উঠার জন্য রীতিমতো শুরু হচ্ছে প্রতিযোগিতা। জরুরি ফেরি সার্ভিস চলে যায় যাত্রীদের দখলে। থাকে না তিল ধারণেরও জায়গা। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই গাদাগাদি করে পারাপার হচ্ছেন নদী।
মুন্সীগঞ্জ-মাদারীপুরসহ সাত জেলায় কঠিন লকডাউনে রাজধানীকে বিচ্ছিন্ন করার কথা। কিন্তু এরপরও মানুষ বাড়ি ফিরছেন কী করে? অস্বাভাবিক ভিড়ের কারণে গত ১২ মে এই রুটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনায় ৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আবারও ঘটতে পারে নতুন দুর্ঘটনা।
আগামী ১ জুলাই থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে লকডাউনের ঘোষণায় অতিরিক্ত ভাড়া ও বিড়ম্বনা নিয়েই বাড়ির পানে ছুটছেন হাজার হাজার মানুষ জানান মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির।রাজধানী থেকে বের হওয়ার পথগুলোতে চেকপোস্ট কঠোর হলে শিমুলিয়া ঘাটে এমন পরিস্থিতি হতো না বলে মনে করছেন ঘাট এলাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন বলেন, লোকজন এত বেশি জড়ো হয়ে যাচ্ছে যে সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
মুন্সীগঞ্জ শিমুলিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার আহাম্মদ আলী বলেন, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটের ১৬টির মধ্যে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার বন্ধ রয়েছে।
করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সারাদেশে আগামী সোমবার (২৮ জুন) থেকে সাত দিনের ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে সারা দেশে শুরু হবে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’। তবে সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে ‘লকডাউন’ শুরু হবে।