মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখেন ইকবালের স্বীকারোক্তি

মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখেন ইকবালের স্বীকারোক্তি -নজরদারি জোরদার
কুমিল্লায় পূজামন্ডপের ঘটনায় নিজের দোষ স্বীকার করেছেন কক্সবাজারে আটক যুবক ইকবাল হোসেন। গতকাল শুক্রবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মন্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার পর হনুমানের মূর্তি থেকে গদা সরিয়ে নেওয়ার কথাও পুলিশকে জানিয়েছেন ইকবাল। তবে কার নির্দেশে তিনি এই কাজ করেছেন, তা জানাননি। ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এ দিন তাকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।’ এদিকে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা তাকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করবে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে কক্সবাজার সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কুমিল্লা ঘটনায় ইকবাল সম্পৃক্ত বলে নিশ্চিত করে কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে সেখান থেকে গতকাল দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে আনা হয় ইকবালকে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে ইকবালকে কুমিল্লায় আনা হয়েছে। আপাতত তাকে পুলিশ লাইনে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের ডিআইও মনির আহমেদ জানান, সব তদন্ত সংস্থা ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। শনিবার সকাল পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলবে। পরে সংবাদ সম্মেলনে ইকবালের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘিরপাড়ে পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে। ওই মন্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরো কয়েকটি পূজামন্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায়।

এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাতে এক ব্যক্তি নানুয়ার একটি মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফটি নিয়ে রাত ৩টার মন্ডপে রেখে যান। হনুমানের হাতের গদাটি তার হাতে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও ধরা পড়ে এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসে মন্ডপে কোরআন শরিফ রাখা যুবকের নাম ইকবাল হোসেন। ৩০ বছর বয়সি ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

এ পর্যন্ত ইকবালের সহযোগী সন্দেহে ইকরামসহ অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কুমিল্লা নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদও রয়েছেন। এই মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন শরিফ নিয়ে মন্ডপে রাখেন ইকবাল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইকবাল গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত এবং আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

কুমিল্লা ইস্যুতে সহিংসতায় ১০২ মামলা : এদিকে কুমিল্লায় পূজামন্ডপে কোরআন শরিফ রাখার অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় ১০২টি মামলায় ২০ হাজার ৬১৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার পর এ পর্যন্ত ৫৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ‘সরকারি হিসাব’ উল্লেখ করে বাসস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংসতার পর ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের পুনর্বাসন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের আস্থা বৃদ্ধির জন্য সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার ও দলের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা খাদ্য, কাপড়, অন্যান্য নিত্যপণ্য এবং গৃহনির্মাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। গণভবনে তার সরকারি বাসভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এরই মধ্যে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে।

সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের সহায়তা করছে