সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে গণঅনশন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি

সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে গণঅনশন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি
সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার (২৩ অক্টোবর) ভোর ছয়টা থেকে গণঅনশন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।সংগঠনটির সাথে পূজা উদযাপন পরিষদ, ইসকনসহ শতাধিক ধর্মীয় সংগঠনও অংশ নেয় গণঅনশনে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলে।এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।প্রতিমা ও পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী গণ-অনশন, গণ-অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সমাবেশে ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন তারা। এছাড়া দাবি আদায় না হলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণাও দেন সমাবেশ থেকে।চট্টগ্রাম মহানগর অন্দেরকিল্লা এলাকাথেকে বাংলাদেশ হিন্দু ঐক্য পরিষদের আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ ও শান্তি শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে এতে হাজারো হাজারো শ্রেণী পেশার মানুষ নানা ফেস্টুন ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে ও মানববন্দন যোগ দেন হোক প্রতিবাদ প্রতিরোধ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবেলায়।সারাদেশে দেশের বিভিন্ন জেলায় পূজামণ্ডপসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে অনশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।গণ-অবস্থান থেকে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ঘোষিত আগামী ৪ নভেম্বর শ্যামা পূজায় দীপাবলি উৎসব বর্জন ও সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে মন্দিরে অবস্থান, মন্দির-মণ্ডপ ফটকে কালো কাপড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতাবিরোধী শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার টাঙানোর প্রতিবাদী কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, জাসদ নেতা ইন্দু নন্দন দে, অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্পাদক চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি শ্যামল পালিত সহ বিভিন্ন মঠ, মন্দির পরিচালনা পরিষদের নেতারা।
১) শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
২) সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সব মন্দির, বাড়িঘর পুনঃনির্মাণ, গৃহহীনদের পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান ছাড়াও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা ও নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা প্রদান বিকল্পে প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের একজনকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করত হবে।
৩) নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক হামলাকারী ও তাদের পেছনে থাকা চক্রান্তকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় এনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৪) সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের রোধে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে যারা দায়িত্ব পালনে গাফলতি ও অবহেলা করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৫) সামাজিক মাধ্যম ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছাড়াও সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছে যারা, তাদের চিহ্নিত করে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা ঠেকাতেই মুহিবুল্লাহকে হত্যা
৬) প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় যেসব জনপ্রতিনিধি এগিয়ে আসেননি, তাদেরও চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৭) ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত সংগঠিত সাম্প্রদায়িক ঘটনাবলি তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনায় গঠিত সাহাবুদ্দিন কমিশনের সুপারিশ সম্বলিত রিপোর্ট অনতিবিলম্বে প্রকাশ ও এর সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৮) ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের দ্রুত বাস্তবায়নসহ ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে প্রদত্ত অঙ্গিকার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
কর্মসূচিতে সংহতি জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন
আমরা আছি বন্ধু তোমাদেরই পাশে