থেমে গেছে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ যাত্রা

থেমে গেছে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ যাত্রা
বৃহস্পতিবার রাতে সেমিফাইনালেই থেমে গেছে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ যাত্রা। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫ উইকেটের হারে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নদের।এ ম্যাচেই টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ান বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে অপ্রতিরোধ্য বাবর আজমের দলকে থামিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আরেকটি জয়ের গল্প লিখে ২০০৯ সালের পর ফের ফাইনালে যাওয়া হলো না পাকিস্তানের। শেষটাতে এসে মার্কাস স্টয়নিস আর ম্যাথু ওয়েডের বীরত্বে ফাইনালে অজিরা। সেটাও কি না এক ওভার আগেই পাওয়া জয়ে।২০১০ সালের পর ২০২১ সালের আসরেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে পাকিস্তানকে, পুড়তে হয়েছে হৃদয় ভাঙার বেদনায়।পাকিস্তানের এ দুই সেমিফাইনাল ম্যাচে রয়েছে অবিশ্বাস্য কিছু মিল। ২০১০ সালের আসরে আগে ব্যাট করে ১৯১ রানের পাহাড়ে চড়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু সাঈদ আজমলের করা শেষ ওভারে তিন ছয় ও এক চার হাঁকিয়ে ২২ রান তুলে এক বল আগেই ম্যাচ শেষ করে দেন মাইক হাসি।মনে হচ্ছিল সহজেই জিতবে পাকিস্তান। কিন্তু সমীকরণ মেলাতে পারেনি তারা। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান প্রথমে তুলে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে করে ১৭৬ রান। জবাবে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ ৫ উইকেট হারিয়ে শেষ ওভারের আগেই মেতে উঠে জয়ের আনন্দে!

অথচ অজিদের গোড়ায় গলদ নিয়ে কথা হচ্ছিল! অস্ট্রেলিয়া টস জিতে দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে কি-না অ্যারন ফিঞ্চ প্রথমে ব্যাট করতে পাঠালেন পাকিস্তানকে। তারপরও শুরুতেই জীবন পান মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই দুই ভুলের মাশুল গুণতে হচ্ছিল তাদের। কিন্তু শেষের চমকে স্বস্তি অজিদের। দল ফাইনালে।

অবশ্য কিছুটা দেখে-শুনে খেললে ম্যাচে আরও আগেই জিততে পারত অস্ট্রেলিয়া। দলীয় ১ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ডেভিড ওয়ার্নার-মিশেল মার্শ মিলে লড়েছিলেন। ১০ ওভারে পাকিস্তান ৭১ আর অস্ট্রেলিয়া ছিল ৩ উইকেটে ৮৯। কিন্তু সেই জায়গা থেকে পা পিছলে যায় অজিদের। শাদাব খানের স্পিনেই রাতের আলোয় সর্বনাশ। প্রথমে তিনি ফেরান স্টিভেন স্মিথকে (৫)। এরপর তুলে নেন পাকিস্তানের গলার কাঁটা হয়ে উঠা ডেভিড ওয়ার্নারকে। ঝড় তুলতে থাকা এই ব্যাটসম্যানকে ফেরাতেই ম্যাচটা মুঠোয় চলে যায় পাকিস্তানের। ওয়ার্নার ফেরেন ৩০ বলে ৪৯ রানে।

এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকেও ভয়ঙ্কর হতে দিলেন না। অবশ্য এই অজি ব্যাটসম্যানের সময়টাও ভালো যাচ্ছে না। ৭ রান তুলতেই শাদাবের স্পিনে বোকা বন গেলেন। তারপরের সময়টুকু ছিল শুধু পাকিস্তানি সমর্থকদের জয়ের প্রতীক্ষা! কিন্তু তখনই হিসাবের ছক উল্টে দেন স্টয়নিস ও ওয়েড। অভিজ্ঞতা একেই বলে। দুবাইয়ের উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে খেলেন দারুণ ইনিংস। তাদের জুটিতেই প্রায় হারতে হারতে জিতে গেল অজিরা। দুজন দলকে জিতিয়ে গড়েন ৬.৪ ওভারে ৮১ রানের জুটি। স্টয়নিস ৩১ বলে ৪০ আর ওয়েড ১৭ বলে অপরাজিত ৪১।