সাউথ আফ্রিকার করোনার নতুন ধরন নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক ফ্লাইট বন্ধ

সাউথ আফ্রিকার করোনার নতুন ধরন নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক ফ্লাইট বন্ধ
করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে আবারও উদ্বেগ আর শঙ্কার মধ্যে পড়েছে পুরো বিশ্ব। সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্তে কড়াকড়ির পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও এশিয়ার দেশগুলো।

এরমধ্যে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে যুক্তরাজ্য। একই সাথে দোকান, শপিং মল, গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে।

করোনার তৃতীয় ও চতুর্থ ঢেউ মোকাবেলায় যখন টালমাটাল পুরো বিশ্ব ঠিক তখনই গত বুধবার সাউথ আফ্রিকায় শনাক্ত হয় করোনার আরও শক্তিশালী ধরন ওমিক্রন। এতে হঠাৎ করেই মহামারি নিয়ে আবার নতুন শঙ্কার মধ্যে পড়েছে বিশ্ব।

নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পর সবচেয়ে ঝুকিতে রয়েছে ইউরোপ। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য, ইটালি, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ওমিক্রন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বরিস। একই সাথে বিস্তার রোধে পদক্ষেপ হিসেবে টিকার বুস্টার ডোজ ক্যাম্পেইনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

করোনার নতুন ধরন নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বিশ্বজুড়ে এমন উদ্বেগের মধ্যে সীমান্তে কড়াকড়ির পদক্ষেপ নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও এশিয়ার দেশগুলো। দর্শণার্থীদের জন্য সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে জাপান ও সিঙ্গাপুর। ভারতে করোনার নুতন ধরন মোকাবেলায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিকে কার্যত পুরোবিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সাউথ আফ্রিকা। একের পর এক দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের বিরোধী বলেছে সাউথ আফ্রিকা।

সংক্রমণ কমাতে মাস্ক ব্যবহার করা, জমায়েত এড়িয়ে চলা এবং সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা বলছে, নতুন ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।

করোনার সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া ধরনটি নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। কেউ বলছেন, এটিই এখন পর্যন্ত করোনার সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরন। এর বিরুদ্ধে টিকা কাজ করবে কিনা, কত দ্রুত এটি ছড়াবে, উপসর্গ কতটা ভয়াবহ হবে সেসব নিয়ে এখন আরও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা