ব্রেকিং নিউজ »চট্টগ্রামে গণপরিবহণে নৈরাজ্য ঠেকানো যাচ্ছে না

চট্টগ্রামে গণপরিবহণে নৈরাজ্য ঠেকানো যাচ্ছে না
বিপ্লব সেন গুপ্ত ডেক্সঃ চট্টগ্রামে গণপরিবহণে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য থামছে না। প্রতিটি রুটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুন বেশি আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত নানা অপ্রীতিকর ঘটনা হাতাহাতি ঘটছে। মর্জিমতো সরকার নির্ধারিত ভাড়ার ৩ থেকে ৪ গুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। সরকারি তালিকা অনুযায়ী, ভাড়া দিতে চাইলে যাত্রীদের অপমান, অপদস্থ করা, জোরজবরদস্তি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে কোনো কোনো বাসে যাত্রীদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। বাসে যাত্রী হয়রানি ও চাকার নিচে ফেলতেও দ্বিধা করছেন না। ভাড়া নিয়ে বিতর্কের জেরে বাস শ্রমিকদের রোষানলে পড়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন অনেকে।ডিজেলে দাম বাড়ার পর গণপরিবহণে বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য যেন থামছে না। যাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া। এ নিয়ে বিভিন্ন রুটে যাত্রী, চালক ও হেলপারের সঙ্গে প্রতিনিয়তই বাকবিতণ্ডার পাশাপাশি ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সড়কে অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, মালিক-শ্রমিক-সরকার মিলেমিশে একচেটিয়াভাবে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে বর্ধিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন ছাড়া বাসে বাসে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতিও। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির নেতারা বলেন, এসব নৈরাজ্য কঠোর হাতে দমন করতে হবে। কোনো অবস্থাতে সরকারের নির্দেশনা যাতে কেউ অমান্য করতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের মনিটরিং করা উচিত। আর যাত্রীদেরও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয় হেলপার। এরপর তার পায়ের ওপর দিয়ে বাস চালিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত ওই শিক্ষক বর্তমানে নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।গণপরিবহণে নৈরাজ্য ঠেকানো যাচ্ছে না। বাড়তি ভাড়া আদায় থেমে নেই। গ্যাসচালিত গণপরিবহণে সবুজ ও ডিজেলচালিত পরিবহণে লাল চিহ্নিত স্টিকার সাঁটিয়ে দেওয়ার নিয়ম করা হলেও চট্টগ্রামে হাতেগোনা কয়েকটি বাসে স্টিকার লাগানো হয়েছে। ফলে গ্যাস ও ডিজেলের গাড়ি আলাদাভাবে চেনার উপায় নেই। মালিক-শ্রমিকরা গ্যাসচালিত গাড়িতে নিচ্ছেন ডিজেলচালিত গাড়ির ভাড়া। সিএমপির পক্ষ থেকে সিএনজি রিফিলিং পাম্পগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেসব গাড়িতে স্টিকার থাকবে না তাদের জ্বালানি না দিতে। কিন্তু এরপরও থামছে না ভাড়া নৈরাজ্য।একশ্রেণির অসাধু চক্র ডিজেলচালিত গাড়ির পাশাপাশি সিএনজিচালিত গাড়িতেও ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে ও যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারিভাবে ডিজেল ও সিএনজিচালিত গাড়ির ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এমনকি গাড়ি চিহ্নিতকরণে লাল সবুজ স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়। তার পরও প্রতিকার মিলছে না। বেশির ভাগ বাসেরই স্টিকার তুলে ফেলা হয়েছে। বহদ্দারহাট থেকে চকবাজারে সিএনজিচালিত বাসের সরকার নির্ধারত ভাড়া ৭ টাকা। কিন্তু আদায় করা হচ্ছে ১০/১৫ টাকা থেকে আরও বেশি। সিএনজিচালিত মিনিবাসে ভাড়া আরও কম ৫ টাকা। কিন্তু আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা। একই ভাড়া সিরাজউদদৌলা রোড ও আন্দরকিল্লায়ও।