কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প জমজমাট

কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প জমজমাট
করোনা মহামারি কাটিয়ে ওঠে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে। সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলো উন্মুক্ত করে দেয়ায় দিন দিন পর্যটকের আগমন বেড়েই চলছে। বাড়ছে রাজস্ব আয়।

এরমধ্যেই শুরু হয়েছে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত। থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের নানা উদ্যোগ শুরু হয়েছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশে আরো সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে টুরিস্ট পুলিশ।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও, চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, রামুর বৌদ্ধবিহার, বোটানিক্যাল গার্ডেন, মাথিনের কূপ, হিমছড়ী, আদিনাথ মন্দির, পাটুয়ারটেক, দরিয়ানগর, ইনানী পাথরের সৈকত, জালিয়ার দ্বীপ সহ সবগুলো পর্যটন স্পট এখন পর্যটকে মুখরিত। প্রতিদিন আসছে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। সাড়ে চার শতাধিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউসগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কোন কক্ষ খালি থাকছে না। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে এসব হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজের ৭০ শতাংশ রুম বুকিং তাকে বলে জানিয়েছেন হোটেল-মোটেল মালিকরা।

কিছু কিছু পর্যটন স্পটে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে পর্যটকদের জন্য।

সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে কথা হয় সিলেটের বালাগঞ্জ থেকে আসা পাঁচ বন্ধু, বাবু, আরমান, শাহরিয়ার, জুলহাস ও আনাফের সাথে। তারা বলেন, দুই বছর পর পাঁচ বন্ধু মিলে কক্সবাজার এসেছেন। করণা মহামারীর জন্য এতদিন তারা আসার চেষ্টা থাকলেই ও লকডাউন সহ নানা কারণে আসতে পারেনি। এবার এসে তোরা খুব ভালো সময় পার করছেন বলে জানান।

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে আসা নওশীন বলেন, পরিবার নিয়ে কক্সবাজার এসে খুব ভালো লাগছে। তবে আগের চেয়ে খাবারের দাম বেড়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে তার।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সহসভাপতি কাসেম আলী বলেন, কক্সবাজার শহরে ও আশপাশে তিন শতাধিক ছোট-বড় খাবারের দোকান রয়েছে। করোনার ক্ষতি পুষিয়ে আমাদের রেস্তোরাঁগুলো এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কিছু কিছু হোটেলে খাবারের মূল্য বাড়ানো হয়েছে।পর্যটকদের আসার আগমন অব্যাহত থাকলে করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে জানিয়ে হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি, ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব লায়ন আব্দুল করিম বলেন, করোনা মহামারির সময় সরকার আমাদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার কারণে আমরা কোন প্রণোদনা পাইনি। করোনার কারণে ঠিকমতো ব্যাংকের কিস্তি দিতে পারেনি। এখন কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। করোনার সময়ে অনেক ক্ষতি হয়েছে ব্যবসায়ীদের। পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অসহায় হয়ে পড়েছিল। সরকারি প্রণোদনার কথা থাকলেও নানা কারণে তা পায়নি ব্যবসায়ীরা। এখন পর্যটক আশায় ব্যবসায়ীরা কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছে। তবে পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারে আরো সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে।পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কাজ করছে পুলিশ। জেলার টুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সহ সবগুলো পর্যটন স্পটে পুলিশ পুলিশের সদস্যরা রাতদিন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি নানাভাবে পর্যটকদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বেশকিছু পর্যটন স্পটে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ চলছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে নানা প্রকার সুযোগ-সুবিধা তৈরি হচ্ছে। কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নানাপ্রকার সুযোগ-সুবিধা দিতে আলাদা পর্যটন সেল থেকে সবকিছু মনিটরিং করা হয়ে থাকে।