চট্টল বীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

চট্টল বীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, তিন বারের মেয়র, বীর মুক্তিযোদ্ধা, চট্টলবীর আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ৪্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ।এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।
আজ বুধবার সকাল ৯.০০ মিনিটে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মরহুমের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, খতমে কোরআন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে স্মরণ সভা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। সভাপতিত্ব করবেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মহিউদ্দিন চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাউজানের গহিরা গ্রামের বঙ আলী চৌধুরী বাড়িতে। বাবা আহমদ চৌধুরী এবং মা বেদুরা বেগম।
ছাত্রাবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৯৬২ সালে এসএসসি, ১৯৬৫ সালে এইচএসসি এবং ১৯৬৭ সালে ডিগ্রি পাস করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং পরে আইন কলেজে ভর্তি হলেও শেষ করেননি। জড়িয়ে পড়েন ছাত্র আন্দোলনে। ১৯৬৮ ও ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মহিউদ্দিন একাত্তরে গঠন করেন ‘জয় বাংলা’ বাহিনী। সম্মুখ সমরের যোদ্ধা মহিউদ্দিন স্বাধীনতার পর শ্রমিক রাজনীতিতে যুক্ত হন। যুবলীগের নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ পান।
পঁচাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে মৌলভী সৈয়দের নেতৃত্বে মহিউদ্দিন গঠন করেন ‘মুজিব বাহিনী’।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মহিউদ্দিন চৌধুরী ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদে ছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বন্দর রক্ষা আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রায় দুই যুগ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার পর ২০০৬ সালের ২৭ জুন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন মহিউদ্দিন তিনি। মৃত্যুর আগ-পর্যন্ত তিনি নগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।তিন তিনবারের মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন দলমত নির্বিশেষে সকলের নির্ভরতার জায়গা। চট্টগ্রামের অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন সর্বদা উচ্চকণ্ঠ। কেন্দ্রীয় বড় পদের সুযোগ থাকলেও তিনি নিজেকে ‘চট্টগ্রামের মহিউদ্দিন’ পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে তিনি নিজ দলীয় সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের প্রথম নির্বাচিত মেয়র। দীর্ঘ সতের বছরের দায়িত্ব পালনকালে চট্টগ্রাম মহানগরীকে তুলে ধরেছিলেন একটি পরিচ্ছন্ন নগর হিসেবে। জীবদ্দশাতেই অভিহিত হয়েছিলেন ‘চট্টলবীর’ হিসেবে। আজ সেই চট্টলবীরের মৃত্যুবার্ষিকী। সাধারণ মানুষ তাকে স্মরণ করবে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে।