বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উৎসব পৌষ সংক্রান্তি

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উৎসব পৌষ সংক্রান্তি
এস আহমেদ ডেক্স প্রতিবেদনঃ আজ পৌষের শেষ দিন মকর সংক্রান্তি। বাংলা পঞ্জিকার হিসেবে পৌষের শেষ দিন মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তির দিন। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী যদিও আজ শুক্রবাার মাঘের প্রথম দিন। কিন্তু সনাতনী বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ পৌষ সংক্রান্তি। পৌষ সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ উৎসবের দিন। বাংলা পঞ্জিকা বর্ষ অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনে পৌষ সংক্রান্তি পালিত হয়।
আজ সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে পুরাণ ঢাকাবাসিরা মাতবে সাকরাইন উৎসবে। অনেক আগে থেকেই পুরান ঢাকায় সাড়ম্বরে পালিত হয় দিনটি। উৎসবে অংশ নেন সব সবাই। পুরান ঢাকা এলাকার মানুষ এ উৎসবে দিনব্যাপী ঘুড়ি উড়ান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে বাড়বে ঘুড়ির সংখ্যা, বাড়বে উৎসবের রঙ। সব মিলিয়ে রঙিন ঘুড়িতে ছেয়ে যাবে ঢাকার আকাশ।। এই অসাম্প্রদায়িক উৎসবে রং-বেরঙের ঘুড়ি-ফানুস উড়াবার খেলায় নারী-পুরুষ আবালবৃদ্ধ বনিতা সারা দিন মেতে থাকবে। সাকরাইন শব্দ মোগল আমল থেকে সংক্রান্তির ঢাকাইয়া কুট্ট রূপ।আর পৌষ-পার্বণ মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠা উৎসবের ধুম।গ্রাম বাংলায় এই উৎসবে বাড়িতে বাড়িতে পিঠার আয়োজন করা হয় আগে থেকেই। আয়োজন করা হয় ঘুড়ি উৎসবেরও। কোথাও কোথায় এই সংক্রান্তিতে মেলাও হয়। বাংলা বর্ষপঞ্জি না, বরং বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজই বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে পালিত হচ্ছে পৌষ সংক্রান্তি। পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তির দিন দান, স্নান ও সূর্য আরাধনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এদিন সূর্যকে লাল বস্ত্র, গম, গুড়, মুসুর ডাল, তামা, সোনা, সুপুরি, লাল ফুল, নারকেল, দক্ষিণা ইত্যাদি অর্পণ করা উচিত। মকর সংক্রান্তির দিনে পূণ্যকালে দান করলে অক্ষয় ফল ও পূণ্য লাভ হয়। শাস্ত্র মতে, সূর্য যখন দক্ষিণায়নে থাকেন, তখন সেই ৬ মাস দেবতাদের রাত ও উত্তরায়ণের ৬ মাস দেবতাদের দিন হিসেবে বিবেচ্য।দেশ জুড়ে নানাভাবে নানা নামে মকর সংক্রান্তি উৎসব পালিত হয়। আরাধনা করা হয় কোথাও লক্ষ্মীর, কোথাও বা সূর্যের, কোথাও বা পূজিত হন। কিন্তু পূজা বা প্রসাদের উপকরণ মূলত এক নতুন ফসল। আমাদের এই উৎসব পৌষ সংক্রান্তি, পৌষপার্বণ বা নবান্ন। বাঙালির কাছে এই উৎসব মূলত নতুন ফসলের। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে ওঠে নতুন ধান, নতুন অন্ন। তাই এই উৎসব বাঙালির কাছে ‘নবান্ন’। পৌষ সংক্রান্তি শস্যোৎসব। ক্ষেতের পাকা ধান প্রথম ঘরে ওঠা উপলক্ষে পালিত হয় এই উৎসব। পাকা ধানের শিস এনে নির্দিষ্ট কিছু আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। দু-তিনটি খড় এক সঙ্গে লম্বা করে পাকিয়ে তার সঙ্গে ধানের শিস, মুলোর ফুল, সরষে ফুল, আমপাতা ইত্যাদি বেঁধে ‘আউনি বাউনি’ তৈরি করা হয়। এই ‘আউনি বাউনি’ ধানের গোলা, খড়ের চাল, ঢেঁকি, বাক্স-প্যাঁটরায় গুঁজে দেওয়া হয়।বাংলায় পৌষপার্বণের প্রধান অঙ্গ হল পিঠে খাওয়া। এই সময়ে নতুন ধানের পাশাপাশি বাংলার গ্রামে গ্রামে খেজুর গাছে রস আসে, তৈরি হয় নতুন গুড়, খেজুর গুড়।

তাই নতুন চালের গুঁড়ো, নতুন গুড়, নারকেল আর দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় নানা ধরনের পিঠে। তাই পৌষপার্বণের আরেক নাম পিঠেপার্বণ। আমাদের দেশে, বিশেষ করে ঢাকায়, পৌষ সংক্রান্তির দিন পালিত হয় সাকরাইন উৎসব। এ দিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুড়ি ওড়ানো হয়। বহু জায়গাতেই পৌষ সংক্রান্তির দিন ঘুড়ি ওড়ানোর রেওয়াজ আছে। এদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে আয়োজন করা হয় নানা রকম খাবার। সংক্রান্তির দিনে বাংলার প্রতিটি ঘরেই গৃহিণীরা নতুন চালের বিভিন্ন নকশা ও সুস্বাদু পিঠে তৈরি করেন। এদিকে বর্তমানে এ উৎসবে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এদিন সন্ধ্যার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়ে যায় আতশবাজি ও ফানুস উড়ানো। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এসব এলাকায় চলে আতশবাজির খেলা। সংক্রান্তিতে কোথাও কোথাও আবার শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইদের নাটাই, বাহারি ঘুড়ি উপহার দেওয়া এবং পিঠার ডালা পাঠানো একটি রেওয়াজ। শ্বশুরবাড়ি থেকে ডালা হিসেবে আসা ঘুড়ি, পিঠা আর অন্যান্য খাবার বিলি করা হয় আত্মীয়-স্বজন এবং পাড়ার লোকদের মধ্যে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আউয়াল সকলকে মকর সংক্রান্তি ও সাকরাইনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন